হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকনকচাঁপা কচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

এর পরপরই বুলবুল ভাই আবার ডাকলেন। প্রযোজক নজরুল ইসলাম সাহেবের ছবিতে আমি পয়লা গেয়েছিলাম। উনি বুলবুল ভাইয়ের কাছে খবর পেয়ে আমাকে আবার ডাকলেন। সিংহপুরুষ ছবিতে কয়েকটি গান গাইলাম। এই গানগুলোও উনারা পছন্দ করে ফেললেন। বুলবুল ভাই যা বলার আমার সাহেব কে বলেন।উনি বললেন মইনুল, ( উনারা দুইতিন বছরের ছোট বড়) গান কিন্তু নিয়মিত হবে এখন থেকে। অতএব ভাবীর কোনো ঠান্ডা লাগানো যাবেনা, ডাকলে বলা যাবেনা অন্য কাজ আছে আর তোমাদের তো ফোন নেই, কিছু একটা ব্যবস্থা করো।’ এ এক নতুন অবস্থা! নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে তার সঙ্গে নতুন কিছু মুশকিল ও চলে এলো। মধুর সঙ্গে বিষ আরকি।

 জীবন আবারও পালটে গেলো। তিন চারদিন পর পরই বুলবুল ভাই ডাকা শুরু করলেন।নতুন নতুন ডিরেক্টর নতুন নতুন ছবি, নতুন নতুন গান, আহা! জীবন আমার আসলেই বদলে যাচ্ছে।আমার বাসা মাদারটেক, মায়ের বাড়ির কাছাকাছি সস্তা বাসা, এর চেয়ে ভালো এলাকা আর হয়না।সেই মাদারটেক এর রাস্তা কাটা, সে তো সারাজীবনই কাটা থাকে, কিন্তু এমন ভয়াবহ কাটা যে ভদ্রস্ত ভাবে সেখান থেকে রেকর্ডিং স্টুডিও তে সময়মতো পৌঁছানো কঠিন ব্যাপার। এতোদিন শশুর শাশুড়ির সঙ্গে একটা বাসায় ভাগাভাগি করে থাকতাম। দেবর মামুন হাসান খান রাশিয়া থেকে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে এসে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার আবদার করলো। আর ভয়ানক কাটা ভাঙ্গাচুড়া রাস্তার কষ্ট সে সহ্য করবেই কেন! সে আমার শশুর শাশুড়ি কে নিয়ে অন্যত্র বাসা নিলো।আমিও বাসা পালটে বাসাবো এলাম।একটু শহরের দিকে। কিন্তু কাটা এবং ভাঙ্গাচুড়া রাস্তা আমার পিছু ছাড়লোনা।ছবির গানের ডাক সময়মত পাওয়ার জন্য আমার সাহেব ‘পেজার’ কিনলো। পেজার একটা যন্ত্র। ফোন আসে কিন্তু করা যায়না। চার ডিজিটের নম্বর। ফোন আসলে ওই নম্বরে দোকানে গিয়ে কলব্যাক করতে হয়।তখনকার দিনেও চারহাজার টাকা দাম।হোক, তবু কাজ তো হয়।দেখতে স্মার্ট, কোমরের সঙ্গে ক্লীপ করে আটকে রাখতে হয়।পেজারটা পয়মন্ত হয়ে উঠলো। বুলবুল ভাইয়ের গান গাইতেই লাগলাম। কিন্তু জামাকাপড় এর অবস্থা তথৈবচ। কয়েকদিন শাড়ি পরে গেলাম। দেখি অনেক ঝামেলা। শাড়ি আছে তো ব্লাউজ নাই।স্টুডিও তে রেকর্ড করার সময় বুথে এসি বন্ধ থাকে। গরমে ঘেমে নেয়ে উঠলাম। তাই দোকানে গিয়ে কিছু জামাকাপড় কিনলাম। কিছু শাড়ি কেটে জামা বানালাম। বুলবুল ভাইয়ের স্ত্রী সুবর্না ভাবী খুব অভিজাত লেডি। একজামা দ্বিতীয় বার পরেন না।এতো যে জামা বানালাম ওগুলো পরেও উনার সামনে বিভাজন তৈরি হয়ে যায়।স্পষ্টতঃ দুইরকম বিত্ত ফুটে ওঠে।আমি গানে মনোযোগ দিলাম। স্টুডিওর গন্ধ, লিরিক স্ট্যান্ড,মাইক্রোফোন, কাগজ-কলম, ব্যাগ এবং গান, এই নতুন জীবন আমাকে নেশা ধরিয়ে দিচ্ছিলো। একদিন মাইক্রোফোনের সামনে না দাঁড়ালে যেন দম আটকে যাচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো এই গান এই নেশা এই নিজেই নিজেকে পরীক্ষা দেয়া এই মাপমতো গান গেয়ে পুরো টিমকে সন্তুষ্ট করা! এতোদিন কোথায় ছিলো! কোথায় ছিলাম আমি, কোথায় ছিলো আমার এই গায়কসত্বা!

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]