হেভেন অন আর্থ…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শাহিদা আরবী ছুটি

(সিডনি থেকে): মনটা খুব খারাপ। আজকে যার কথা লিখবো তার নাম বেহেশত। বেহেশত সিডনি থেকে ৪৫ মিনিটের ড্রাইভ দূরে ওলংগং নামক একটি সুন্দর,পরিচ্ছন্ন, গোছানো শহরে থাকে। বেহেশত নামটি কমন না হলেও আমার কাছে খুব চেনা। চাকরির শুরু থেকেই এই মেয়েকে চিনি। আমার সমবয়সী, কিন্তু আমার থেকে তিনগুন বেশি উচ্ছল। সে কোর্টে নানান স্বেচ্ছাসেবী মূলক কর্মকান্ড করে বেড়ায়। যেমন ক্যান্সার কাউন্সিল, ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা, মেন্টাল হেলথ রিহাব ইত্যাদি তহবিলের জন্য সে টাকা পয়সা উঠায়। তার মূল কাজ ‘কোর্টের শুনানি’ তৎক্ষণাৎ কম্পিউটারে টাইপ করার হলেও, এই কাজের বাইরে সে পুরো সময় নানান চ্যারিটির সঙ্গে জড়িত থাকে।

দুইদিন পরপর সে সবাইকে জিজ্ঞেস করে, কেউ রেডক্রসে রক্ত দিবে কিনা? সবাই রক্ত দেয়না, দান করেনা। তখন তারা এইসব স্বেচ্ছাসেবীর কাজগুলোতে খুব বিরক্ত হয়।

মানবসেবা/চ্যারিটি এগুলো এমন বিষয়, যেখানে ‘না ‘ বললে, নিজের কাছেই নিজের ছোট হয়ে যেতে হয়। মানুষ নিজের কাছে ছোট হতে পছন্দ করেনা। যেমন রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময় কেউ যদি থামিয়ে কোনো চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের সাহায্যের জন্য টাকা চায়, আমরা তাদেরকে ‘না’ বলে খুব দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে যাই। সেই ‘না’ শব্দটি আমরা কখনো তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে বলিনা, পাছে আমাদের ভেতরের এই নিচু হয়ে যাওয়াটা যদি তারা দেখে ফেলে।

মানবজাতি নিজেকে মনে মনে সবচেয়ে উচু স্থানে রাখে, কিন্তু এইসব চ্যারিটি ফ্যারিটি বিষয়গুলো যখন চলে আসে, তখন তাদেরকে নিজের কাছেই একটু ছোট হয়ে ‘না’ বলতে হয়। সেইটা তাদের ভালো লাগেনা।

বেহেশত সেসব ভালো না লাগা উপেক্ষা করে, সারাক্ষন এর তার কাছে ইমেইল দেয়। নানা ইভেন্ট এর কথা জানায়। বেহেশতের ম্যানেজার নিজেকে উচু স্থানে ভাবার লোক। তাকেই খুব সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ‘না’ বলতে হয়। একবার সে এইচ আরে কমপ্লেইন নিয়ে আসলো। দুর্বল কমপ্লেইন। আমি তাকে তখন কঠিন ধমক দিয়েছি। কেউ চ্যারিটি করছে তার মানে এই না সে কাজে অমনোযোগী। তার কাজের কোনো ঝামেলা থাকলে সেইটা বলো প্রপার প্রসেসে যাবো আর নইলে এইসব বিষয়ে বিরক্ত করবে না।

এরপর কে যেনো বেহেশতকে বলেছিলো, এইচ আরে শাহিদা যতদিন আছে, ততদিন সে এসব চ্যারিটি করতে পারবে। নো প্রব্লেম। বিষয় তা না, আমার আলতু ফালতু কমপ্লেইন শুনতে ভালো লাগেনা। সারাক্ষন ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে ঘ্যান ঘ্যান করা মানুষদেরকে আমার বিরক্ত লাগে।

এই ঘটনার পর বেহেশত একবার রানিং ইভেন্ট করলো। সবাইকে একশো কিলোমিটার দৌড়ানোর টার্গেট দিলো। সেই একশো কিলোমিটার এক মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। প্রতিদিন সাড়ে তিন কিলোমিটার দৌড়ালেই টার্গেট পূরণ হয়ে যায়। প্রায় বিশজন কোর্টের নারী এমপ্লয়ী সেই টার্গেট পূরণ করে ফেললো। বেহেশত তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করলো এবং সেই পুরস্কার দেবার জন্য আমাকে মনোনীত করলো।

আমি বেহেশতর কোনো ইভেন্টেই কোনোদিন অংশগ্রহণ করিনি, তারপরও আমাকে কেনো মনোনীত করলো সেইটা আজও রহস্য। যাহোক সেই পুরস্কার বিতরন করতে আমি যাইনি। নিজেই দিনে দুই মাইল দৌড়াইনা, সেখানে এই দৌড়ানো বিষয়ক পুরস্কার আমি কেন দিবো?

গতবছর কোভিডের আক্রমণ হলো আমাদের সবার উপর। আমরা সবাই রিমোট হয়ে কাজ করতে লাগলাম। বেহেশতর নতুন কোনো আপডেট জানিনা। এই বছর জানুয়ারী মাসের শুরুর দিকে জানতে পারলাম, বেহেশত খুব অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কি বিষয় কেউ বলতে পারছেনা। আমি নিজেও সারার জন্মদিন, আমার হলিডে প্ল্যান, বই ইত্যাদি নিয়ে মহা বিজি ছিলাম। তাই এদিকে খেয়াল দেইনি। বেহেশতর কথা ভুলে গেলাম।

গত সপ্তাহে বেহেশতর ম্যানেজার বললো শাহিদা বেহেশত অফিসে আসেনা, কারো সঙ্গেই যোগাযোগ করেনা। সে চাকরি করবে কিনা সেটাও কেউ জানিনা। এই মুহূর্তে আর কি করা যায়। বেহেশতর ম্যানেজার এর গলায় আমি একধরণের সুক্ষ আনন্দ টের পেলাম। কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের ভালো কাজকে ভালো চোখে দেখেনা, কেনো দেখেনা তারা সেটা জানেনা। নিজের সময় নষ্ট করে অন্যের উপকার করাকে তাদের কাছে বলদামি মনে হয়।অথচ তারা জানেনা পৃথিবী টিকেই আছে এই মানসিকতার জন্য।

আমাদের এইচ আর এ প্রটোকল হলো আমরা যোগাযোগের তিনটা অ্যাটেম্প নিবো (চিঠি পাঠানো), প্রতি অ্যাটেম্প এর মধ্যে গ্যাপ থাকবে ৫ দিন। তিন অ্যাটেম্পটের পর এমনিই আরো দশদিন অপেক্ষা করবো। দশদিন পর তাকে ফাইনাল চিঠি এবং আরো ১৫ দিন সময় দিবো। সেই চিঠিতে লেখা থাকবে, সে যদি যোগাযোগ নাকরে তবে তাকে টার্মিনেট করা হবে। বেহেশতর বাসায় অলরেডি তিনটা চিঠি চলে গেছে। এখন দশদিন অপেক্ষার পর্ব চলছে।

এইসব মিসিং ইন অ্যাকশন আমার মনে প্রচন্ড ভয় দেয়। শেষ বার এমন মিসিং ইন অ্যাকশন করতে যেয়ে, এক এমপ্লয়ীকে তার বাসায় মৃত উদ্ধার করা হয়েছিলো। ১৫ দিন আগে সে মরে প্রায় পচে গিয়েছিলো। সেই লোকের লক্ষ ডলারের সম্পত্তি এস্টেট/ট্রাস্ট বোর্ড নিয়ে নিয়েছিলো কারণ ৬৫ বছরের জীবনে তার অর্জন কোনো সম্পর্ক, কোনো মানুষ ছিলোনা। তাকে একা একা মরে যেতে হয়েছিলো। নয় বছর আগের এই ঘটনার ভয়াবহতার রেশ আমার মধ্যে রয়ে গেছে।

কেউ খুব সহজেই হারিয়ে যেতে পারেনা। হারিয়ে যাওয়া খুব কঠিন। অতএব আবার অনেকদিন পর এই প্রসেসে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। বেহেশতর বয়স এমন কিছুনা, যে সারাক্ষন স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করে তার অনেক পরিচিত লোকজন বন্ধুবান্ধব থাকার কথা। ওলংগং এ আমার পরিচিত এক কলিগ আছে, সে সেখানকার কোর্টে কাজ করে। তাকে বললাম বেহেশতর বাসায় একটা ঢু দিতে। যাকে বললাম তার নাম ম্যাট। ম্যাট বললো বাসায় যাওয়ার তো নিয়ম নেই। আমি বললাম তবুও যাও, হাসপাতালে ছিলো মেয়েটা, তারপর কি হলো না হলো জানিনা, তুমি ফুল নিয়ে তাকে দেখতে যাও। কেউ অসুস্থ্য হলে তাকে দেখতে যাওয়া দোষের কিছুনা।

ম্যাট ফুল নিয়ে গত শুক্রবার বেহেশতর বাসায় যেয়ে দেখে, এই মেয়ে তখন তার বাসার সামনের ফুলবাগানে পানি দিচ্ছে। খুব ভালো কথা। এরপর ম্যাট ফুল দিয়ে, হালকা গল্প গুজব করে, এবং এককাপ রং চা খেয়ে বেহেশতর বাসা থেকে বিদায় নিয়েছে।

বেহেশত আমাকে এই সপ্তাহে ফোন দিয়েছে। আমি বিরক্ত। তাকে বললাম এইসব আচরণের কোনো অর্থ নেই, তোমাকে প্রফেশনাল কড অব কন্ডাক্ট ভাঙার জন্য ইনভেস্টিগেশন প্রসেসে আনা হবে। আমার কিছু করার নেই। তুমি যা করেছো সেটা দায়িত্বহীনতা। তার জবাবদিহিতা তোমাকে করতে হবে।

বেহেশত জবাদিহিতা বিষয়ক কোনো আগ্রহ দেখালো না। সে বললো আমার বাই পোলার আছে জানো? বাইপোলার ক্যাটাগরি নাম্বার টু। আমার মায়েরও ছিলো। আমার বয়স যখন দশ বছর, একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার মা আমাকে জড়িয়ে ধরে মরে গেছে। সে তার কব্জির রগ কেটে ফেলছিলো আর তার শরীরের সব রক্তে আমি মাখামাখি হয়ে গিয়েছিলাম। আমার অনেকদিন ধারণা ছিলো, আমি আমার মাকে হত্যা করেছি। কারণ তার মৃত্যুর সময়ের ভয়াবহ রক্তক্ষরনে আমাকে গোসল করতে হয়েছিলো।

বাইপোলার ডিসঅর্ডার আর সিজোফ্রেনিয়া, এই দুই মানসিক অসুখে কাউন্সেলিং ফাউনসেলিং একা কাজ করেনা। ঔষুধ মাস্ট। মাস্ট মানে মাস্ট। বাইপোলার মূলত চার রকমের। এর মধ্যে বাইপোলার নাম্বার টু ভয়াবহ। এই দুই নাম্বারে, ঔষুধ না খেলে হাইপোম্যানিক এপিসোড হয়। হাইপো এবং ম্যানিক এই দুইশব্দকে এক করে এই এপিসোড।

হাইপোম্যানিক এপিসোড খুব বাজে ধরণের এপিসোড। কেমন বাজে সেটা বলি। ধরুন আপনার ক্যাটাগরি টু বাইপোলার আছে। আপনি রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। হঠাৎ করে আপনার মনে হলো রাস্তায় যদি কোনো গাড়ি না থাকতো, কোনো মানুষ না থাকতো, তাহলে কত ভালো হতো। শূন্য রাস্তায় আমি নাচতাম। হেটে যেতাম একা একা। হয়না এমন, কখনো কখনো খালি রাস্তা দেখলেই আমাদের সেই রাস্তায় বসে পরতে ইচ্ছা করে? আমাদের ইচ্ছা করবে কিন্তু রাস্তা শূন্য না হলেতো আমরা বসবোনা। কিন্তু বাইপোলাররা এইটা ভাবার কিছুক্ষন পরেই দেখবে, রাস্তায় আসলেই কোনো গাড়ি নেই, মানুষ নেই, কি অদ্ভুত। যেই ভাবা সেই কাজ? কি মজা !!

তারপর সে রাস্তার মাঝখানে যেয়ে হাটতে শুরু করবে, নাচতে শুরু করবে, কেউ যেহেতু দেখছেনা তাহলে সমস্যা কি? কিন্তু অন্যদিকে, আসলে সেই রাস্তায় তখন জ্যাম লেগে গেছে, কারণ রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে এক পাগল কোনো কারণ ছাড়াই নাচানাচি করছে। সবাই হর্ন দিচ্ছে, চিৎকার করছে। অথচ সেই মানুষটা তার শূন্য রাস্তায় নাচানাচি করার সুযোগ হারাতে চাচ্ছেনা। এই হলো বাইপোলার হাইপোম্যানিক এপিসোড। তারা বাস্তব দেখতে পায়না, হুট্ করে তাদের চারপাশের জগৎ উধাও হয়ে যায়।

আপনারা যদি এমন কোনো মানসিক রোগী দেখে থাকেন, যারা শরীরে কাপড় রাখেনা, তাদের খুব সম্ভবত বাইপোলার টু আছে এবং তারা ঔষুধ খায়না বলে হাইপোম্যানিক এপিসোড হয়। আপনি তাকে যতই বলেন তার শরীর দেখা যাচ্ছে, সে ততই দেখতে পায় তার চারপাশে কেউ নেই। কেউ না থাকলে জামাকাপড় তো খুলে ফেলাই যায় আর হাইপো মানেই ব্লাড প্রেসার উপরে উঠা, অত্যধিক গরম লাগা।

বাইপোলারের পেছনের কারণ স্পষ্ট না। তবে বাবা মায়ের থাকলে, সন্তানের থাকার সম্ভাবনা প্রবল, তবুও একদম নিশ্চিন্ত না। বাইপোলার তিন নাম্বার ক্যাটাগরির রোগী এক্সট্রিম সুইসাইডাল হয়।

বেহেশতর মধ্যে সুইসাইডাল প্রবণতা নেই, খুব সম্ভবত তার মায়ের মৃত্যু তাকে এই প্রসেসে একপ্রকার ভয় ধরিয়ে দিয়েছে, তবে বেহেশতর জামাকাপড় খুলে ফেলার প্রবণতা আছে। সে বেশিরভাগ সময় নগ্ন থাকে। বেহেশতর স্বামী তাকে একদম ঘর থেকে বের হতে দেয়না শুধু বিকেলে বাগানে পানি দেয়া ছাড়া। ওর স্বামী বাইপোলার সেভাবে বুঝতে পারছেনা, তাই তার স্ত্রীর নগ্ন হয়ে যাবার রোগ হয়েছে এটাও সে কাউকে বলতে পারেনি, কোর্ট থেকে পাঠানো সকল চিঠি সে উপেক্ষা করেছে।

এই সপ্তাহ আমি বেহেশতকে নিয়েই ছিলাম, মানে ফোনের উপর ফোন, ইমেইল ইত্যাদি। বেহেশতর স্বামীর নাম নূর। তার সঙ্গে আমার অল্প কথা হয়েছে, ভদ্রলোক ফলের ব্যবসা করেন। তাকে আজ বলেছি বেহেশতের চার মাসের মেডিকেল ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। ভদ্রলোক অবাক, সে বললো, ‘সিস্টার বেহেশত যদি আর কখনো ভালো না হয়?’ আমি তাকে বলেছি বেহেশত ভালো হয়ে যাবে, এই প্রবণতা কমে যাবে, সমস্যা নেই। বেহেশতর ঔষুধ খাওয়া শুরু করেছে। ঔষুধ খুব শীঘ্রই কিক করবে। ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে ব্রেইনের কেমিকাল ডিসফানক্শন ঠিক হয়ে যেতে শুরু করবে। সেই পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো বেহেশতর ফিরে আসার।

সেই ভদ্রলোক ইমোশনাল হয়ে গেলেন, সে তার কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললেন। ‘সিস্টার আমি পড়াশুনা করিনি, কিন্তু আমার স্ত্রী করেছে। এই দুনিয়ায় বেহেশত আমার একমাত্র গর্বের জায়গা। আমি চাই বেহেশতর আবার কাজ করুক। ‘

আমি তাকে আশ্বস্ত করে ফোন রেখে দিলাম। আরবদের মধ্যে এই প্রবণতা আমি একদম দেখিনি। নিজ স্ত্রীকে নিয়ে এতো গর্ববোধ এই জাতির মধ্যে বিরল। তারা স্ত্রী জাতিকে সন্তান উৎপাদনের মেশিন এবং ঘরসংসার করার বদলে ভালোবাসেন। কিন্তু এই ভদ্রলোক আসলেই চান তার স্ত্রী আবার কাজ করুক, কোনোএকদিন সে হয়তো তার বন্ধুদের সঙ্গে হুক্কা টানতে টানতে বলবে, আমার স্ত্রী ফেডারেল কোর্টের বিরাট অফিসার। সে শুনানি লেখে, তার দায়িত্ব গুরুতর। সে আমার মতন আপেল কমলা বেচেনা।

আপেল কমলা বিক্রি করেও যদি বেহেশতর নূর হয়ে যাওয়া যায়, তাহলে এই জিনিস বিক্রি করা খুব একটা খারাপ কিছুনা মনে হয়। অন্যদিকে আজ বিকেলের দিকে বেহেশতর ম্যানেজার হৈ হৈ রৈ রৈ করে আমাকে ফোন, ইমেইল ইত্যাদি দিয়ে অস্থির করে ফেলেছে। ঘটনা কি?? কিছু না বলেই হঠাৎ উধাও হয়ে যায়, এমন বেয়াদপ মেয়ের ছুটি কেন মঞ্জুর হলো? কত বড় ফাজিল মেয়ে এখন সে আবার নেংটা হবার ভং ধরেছে…

এদেশের কর্মক্ষেত্রে যদি যা ইচ্ছা তা বলার অনুমতি থাকতো, তাহলে আজকে তাকে আমি বলতাম, সে যেনো তার নাম অফিসিয়ালি পাল্টে দোজখ রাখে, হাবিয়া দোজখ। দোজখ জাতীয় মানুষ কোনোদিন বেহেশতর সৌন্দর্য দেখতে পায়না। বেহেশত বোঝার ইচ্ছা তাদের কোনোদিন হয়না। তারা নিজেরা সারাজীবন দোজখে থাকে, এবং সুযোগ পেলেই অন্যের জীবন দোজখ বানাতে চায়।

আমি জানি, মনের ভেতর আজীবন ভয়ংকর ঝড় নিয়ে বসবাস করা বেহেশত খুব দ্রুতই সুস্থ্য হয়ে যাবে। সে কাজে ফিরে, আবার প্রবল উৎসাহে ব্রেন টিউমার সংক্রান্ত বা অন্যকোনো চ্যারিটি ইভেন্টের টাকা চেয়ে সবাইকে মনে করিয়ে দেবে,

‘হে মানবজাতি দান করে, অপরকে সাহায্য করে, এই পৃথিবীর কেউ কোনোদিন দরিদ্র হয়নি। স্রেফ নিজের জন্যতো পোকা মাকড়েরা বেঁচে থাকে, মানুষ না।’

ছবি: গুগল

 


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box