হেমন্তে হ্যামলেট…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হেমন্তে বিষাদ আছে।একটু একটু করে ছোট হয়ে আসতে থাকে দিনের আয়ু। মাঠের এক কিনারায় একলা দাঁড়িয়ে থাকা গাছটাতেও পাখিরা ফিরে আসে তাড়াতাড়ি। কেমন একটা না-থাকার ঘ্রাণ ভাসতে থাকে বাতাসে। মাঝে মাঝে ভাবি, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার কি এরকম কোনো হেমন্তকালে বসে  তাঁর পৃথিবী বিখ্যাত নাটক হ্যামলেট লিখেছিলেন? মনজগতের এমন বিষাদ আর সত্যের উন্মোচন তা-না-হলে এই নাটকের ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে থাকবে কেনো? শেক্সপিয়ার ১৬০১ সালে হ্যামলেট নাটক লেখা শেষ করেন।তখন ইংল্যান্ডে অটাম বা হেমন্ত ঋতু ছিলো কি না সাহিত্য গবেষকরা উল্লেখ করেননি।আর পাশ্চাত্যের হেমন্ত ঋতু কী আমাদের এই বাংলাদেশের হেমন্তের মতো উদাসী আর মৃত আলোয় বিচ্ছেদের গল্প, বিষাদের গল্প রচনা করে কি না জানা নেই।কিন্তু জীবনের গভীর উপলব্ধি আর বেদনার ভার এই হ্যামলেট নাটক বয়ে নিয়ে চলেছে চার’শ বছরেরও বেশি সময় ধরে।

উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ১১ বছরের পুত্র বিয়োগ ঘটেছিলো ১৫৯৬ সালে।এক অজ্ঞাত রোগে সন্তানের মৃত্যু বিশ্বখ্যাত নাট্যকারের জীবনকে তছনছ করেছিলো তখন। সাহিত্যের গবেষকরা বলেন সেই সময়ের পরে শেক্সপিয়ারের লেখা নাটক ওথেলো, কিং লীয়র ও ম্যাকবেথে পিতার হৃদয়ের বোবা বেদনা ছায়া ফেলেছে।নাটকের গল্পে ষড়যন্ত্র, খুন আর বিশ্বাসঘাতকতা ভয়ংকর সব চরিত্র হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই নাটকের নামটিও এসেছে মৃত পুত্রের নামের সূত্র ধরে। শেক্সপিয়ার ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘হেমেট’। পরে সেই নাম ধরেই নাটকের হ্যামলেট নামকরণ।

ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথের মৃত্যু হয় ১৬০৩ সালে। তখন ক্ষমতায় আসেন রাজা প্রথম জেমস। শেক্সপিয়ার ও তাঁর নাটক দুটোই ছিলো রাজার প্রিয়। ১৬০৮ সালে রাজসভায় শেক্সপিয়ারকে তখন নাটকের দল নিয়ে ১১ বার নাটক মঞ্চস্থ করতে হয়েছিলো।

রাণী এলিজাবেথ স্বয়ং হ্যামলেট নাটকের মঞ্চায়ন দেখেছিলেন। তার মৃত্যুর পর শেক্সপিয়ারের নাটক সমান ভাবে রাজ সভায় আবেদন তৈরি করে রাখে। শেক্সপিয়ারের নাটক আষ্টম হেনরি‘র মঞ্চায়নের সময়েই তখনকার গ্লোব থিয়েটার আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। রাজা প্রথম জেমন মঞ্চে আসার পর মঞ্চ থেকে আতশ বাজি পোড়ানো হয়। বাজির আগুন থেকেই থিয়েটার হলের ছাদে আগুন ধরে যায় এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যে মঞ্চটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ কোরা ডাইজেস্ট

ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box