হেমন্ত…

অদিতি বসুরায় (কবি, সাংবাদিক)

(কলকাতা থেকে): হেমন্ত বড় প্রিয়। উৎসবের শেষে এবার ইস্কুল খুলে যাবে। সব আবার আগের মতো – এই ‘সব আবার আগের মতো’ ব্যাপারটা বড় ভালবাসি আমরা, এটা জেনেই যে কিছুই আর আগের মতো হয় না ! যা যায়, তা যায়।
হেমন্ত ফিরিয়ে আনে জীবনানন্দ পড়ার দিন – অবিকল তাঁর লেখার পাতা থেকে উঠে আসা রোদ। ট্রামের টুংটাং।
হেমন্ত শুনতেও বড় মধুর। মায়াময় সেই গলা – ‘দিনের শেষে ঘুমের দেশে’ শুনতে শুনতে কতবার ঘোমটা পড়েছে আমার খেলাধুলোর বিকেল।
হেমন্ত কত দেয় – সে আমাকে প্রিয় মানুষ উপহার দিয়েছে এককালে অনেকবার। সে সব ফেলে আসা পোস্টকার্ড নিয়ে বসে, মনে পড়ে সামনে শীত। সামনে খাতা খুলতে আসছে নতুন বছর। 
হেমন্ত মানে, আলমারি থেকে পশম নামানোর কাল। সেতারের স্বরের মতো চাঁদ ওঠে এ সময়। প্রেম হয় খুব। সারাদিন চকিত চুমু-সারাদিন আসন্ন হিমের গন্ধ! যারা সারা বছর ক্যারাম খেলে, তারা এসব খুব বিশদে জানে। এবছর সে কড়া নাড়িয়ে দিয়েছে যখন, তখন আমি সারাদিন ওসুধ খাই। জ্বর জ্বর পায়- ঘুম ঘুম পায়। এসবে আবার ভাববেন না, ডিপ্রেসনে আছি।
বরং ভাবা যাক, সব ঝুট হ্যায়।
রোজ রোজ আগুনে পুড়ে যায় অসংখ্য মেয়ে – সব ঝুট হ্যায়।
জঙ্গলে ঢুকে বাঘ খুন করে লোকেরা – সব ঝুট হ্যায়।
কন্যাশিশুর গলায় পা- কন্যাশিশুর কান্না আস্তাকুঁড়ে – কেউ শোনে নি। কারা সব #metoo লিখে ফেলেছে দেওয়ালে দেওয়ালে- মিথ্যে কথা সব।
বোমা বানাতে গিয়ে নাকি মরেছে চার-পাঁচ জন- বাজে কথা। ঘরে ছিলো মা- ছেলে ভাগলবা – এসব ঠিক কথা নয়।
গ্লিসারিন সাবান ও ক্রিম কথা বলি বরং। কথা হোক, ধনতেরাসের গয়না নিয়ে।
আর একটা হেমন্ত এসে গেল। সময় এসে গেল, ‘শীতকাল ও সুপর্ণার’ স্টেট্যাস দেওয়ার। যাই হোক, এর মধ্যেই
হেমন্ত লক্ষ্মীর শান্ত পায়ের ছাপ দেখে, বোল্পুর যাওয়ার কথা ভেবে ফেললাম আমরা!

ছবি: গুগল