হোঁচট খেলো ব্রাজিলও

শামসুল আলম মঞ্জু
আমেরিকা প্রবাসী

একদা বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালী সময়ের খ্যাতিমান ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু। বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখে প্রাণের বাংলার পাঠকদের জন্য প্রবাসী এই কৃতী ফুটবলার মন্তব্য প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন সুদূর আমেরিকা থেকে।

হোঁচট খেলো ব্রাজিলও। ১৯৭৮ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ব্রাজিল দল কোনো বিশ্বকাপে তাদের উদ্বোধনী খেলায় পয়েন্ট খোয়ায়নি।আর্জেন্টিনা আর মেসি ভক্তরা যখন নেইমার ভক্ত শিবিরের চাপে প্রায় ছত্রভঙ্গ ঠিক তখনই ব্রাজিলকে আটকে দিয়ে আরেক অঘটনের জন্ম দিলো সুইজারল্যান্ড দল।

সুইজারল্যান্ড-ব্রাজিল ম্যাচে ব্রাজিলের শক্তিপরীক্ষা বলা যায় ব্যর্থই হয়েছে। ব্রাজিলকে কে নিয়ে তাদের নিজেদের দেশ এবং গোটা বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের প্রত্যাশার মাত্রাটা ছিলো তুঙ্গে। তারা বোধ হয় কেউ ভাবতেই পারেনি এভাবে মুখ থুবড়ে পড়বেন নেইমার।

খেলার শুরুটা ব্রাজিল করেছিলো প্রত্যাশা অনুযায়ী-ই। মধ্য মাঠ থেকে বল দেয়া-নেয়া করে আক্রমণ তৈরী করছিলেন মধ্য মাঠে গ্যাব্রিয়েল জেসুস। সদ্য সুস্থ হয়ে ওঠা নেইমারের যাতে আবার  চোট না লাগে, তার জন্য সতর্ক ছিলেন তার সতীর্থরা। তা ছাড়া তিতে জানতেন, সুইজারল্যান্ডের প্রধান লক্ষ্যই থাকবে নেইমারকে খেলতে না দেওয়া। এই কারণে উইলিয়ান ও কুটিনহোকে বাড়তি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো সম্ভবত।  প্রথম গোলের নেপথ্যে ব্রাজিল ত্রয়ী। বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ে অসাধারণ বাঁক খাওয়ানো শটে গোল করলেন কুটিনহো।

প্রথম গোলের পর মনে হচ্ছিলো ব্রাজিল আজ বড় ব্যবধানে জিতবে। কারণ, বলের দখল বেশি ছিল নেমারদেরই। তা সত্ত্বেও ম্যাচটা হাতছাড়া হলো ব্রাজিলের। ৫০ মিনিটে রক্ষণের সামান্য ভুলে সুইজারল্যান্ডের মিডফিল্ডার স্টিভন জুবের বক্সের মধ্যে থেকে কার্যত বিনা বাধায় হেড করে গোল শোধ করেন। যদিও গোলের পরে মিরান্দা রেফারির কাছে অভিযোগ করছিলেন, জুবের হেড করার আগে তাকে ধাক্কা মেরেছিলেন।

প্রশ্ন উঠতে পারে ২০ মিনিটের মধ্যে এগিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কেন জিততে পারল না ব্রাজিল? আমার মতে, দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের ছকে খেলেই  বাজিমাত করেছে সুইজারল্যান্ড। তিতে ভাবতেও পারেননি, তাঁর দেখানো পথে হেঁটেই ব্রাজিলের জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেবেন জারদান শাকিরিরা। সুইজারল্যান্ডের দুটোই লক্ষ্য ছিল। এক, চোট সারিয়ে ওঠা তারকা নেইমারকে যেভাবেই হোক ফের চোটের কবলে ফেলা। তার জন্য সবরকম চেষ্টা চালিয়ে গেল সুইসরা মাঝমাঠে। কারণ বিপক্ষ জানে, ব্রাজিল দলের অক্সিজেন এই স্ট্রাইকারই। আর দুই, কীভাবে গোল শোধের পর সময় নষ্ট করা যায়। তবে স্ট্র্যাটেজি যাই থাকুক, সুইস গোলকিপারের দুর্দান্ত হাতের জাদু যে দলকে রক্ষা করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 

এবার বিশ্বকাপে অনেক দলের মধ্যে রক্ষণাত্নক ফুটবল খেলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডিফেন্সিভ খেলা ভুল কিছু নয়। কিন্তু তাতে করে খেলার সৌন্দর্য বেশ অনেকটাই ক্ষুন্ন হয়। কাল সুইজারল্যান্ড গোল শোধ করেই সেই ফর্মূলায় পথ হেঁটেছে। আর তাতে ফলও পেয়েছে তারা। প্রথম খেলাতেই হোঁচট খেয়েছে ব্রাজিল। নেইমারের খেলা নিয়েই সমালোচনা চলছে। কাল মেসির মতোই নিষ্প্রভ ছিলেন নেইমার। অবশ্য কিছুদিন আগে আঘাত সারিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। আশা করা যায় সামনের ম্যাচে নেইমারকে ছন্দে দেখা যাবে।

ছবিঃ ফক্স নিউজ