হ্যালো…শুনতে পাচ্ছো…

মার্গারেট হ্যালো ও গ্রাহাম বেল

ফোন আবিষ্কারের পর প্রথম কলটা গিয়েছিলো তার কাছে। তিনি বিখ্যাত বিজ্ঞানীর গার্লফ্রেন্ড মার্গারেট হ্যালো। সেদিন ছিলো ক্যালেন্ডারের পাতায় মার্চ মাসের দশ তারিখ। টেলিফোন আবিষ্কারের পর রিসিভার তুলে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ডায়াল ঘুরিয়ে প্রথম যে নাম উচ্চারণ করেছিলেন তা ছিলো ‘হ্যালো’। বিজ্ঞানীর সেই ভালোবাসার ডাকটাই এখন পৃথিবীজুড়ে ফোন তুলে ‘হ্যালো’ কথাটা বলার সূচনা।

গায়ক অঞ্জন দত্ত তার সেই বিখ্যাত ‘বেলা বোস’ গানে হ্যালো হ্যালো বলে একটা প্রায় বিকল টেলিফোনে ভালোবাসার মানুষকে ডেকেছিলেন, বলেছিলেন, ‘হ্যালো তুমি  শুনতে পাচ্ছো কি?’ টেলিফোন আবিষ্কার আর হ্যালো বলার প্রচলন না-হলে হয়তো এই গানটাই লেখা হতো না।

ফোনের আবিষ্কারকর্তা কিন্তু অদ্ভুত মানুষ ছিলেন। ফোন আবিষ্কার করেও নিজের অফিসে ফোন রাখতে দেননি কোনোদিন। কিন্তু প্রায় দেড়শ বছর আগে ফোন তুলে বান্ধবীকে হ্যালো সম্বোধন করে একটা রীতির প্রচলন করে দিয়েছিলেন স্যার আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল।

নিজের অফিসে ফোন রাখতেন না কেনো তিনি? কেনই বা তিনি থাকতে চাইতেন ‘আউট অফ কমিউনিকেশন’? তাঁর মনে হয়েছিলো এমন একটি যন্ত্র হাতের কাছে পেলে বহু মানুষ তাকে ফোন করে বিরক্ত করবে। তাতে ব্যাঘাত ঘটবে নিজের গবেষণার কাজে। তাই অফিস থেকে বিদায় করেছিলেন টেলিফোন। কেউ কেউ বলেন, ফোন আবিষ্কার করে এই যন্ত্রের সুফল এবং কুফল দুটোই আঁচ করতে পেরেছিলেন এই স্কটিশ বিজ্ঞানী। আর তাই নিজের আবিষ্কারের কবলে পড়তে চাননি হয়তো।

১৮৭৬ সালের পর থেকেই পৃথিবীতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব নিয়ে আসে এই টেলিফোন। মানুষের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব কমে আসতে থাকে। নিমেষেই বহু কথা, বহু তথ্য বিনিময় শুরু হয়। ১৮৮৫ সালে গ্রাহাম বেল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আমেরিকান টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাফ কোম্পানি, যা ‘টিঅ্যান্ডটি’ নামে পরিচিত। আমরা আজো ল্যান্ড লাইনের ফোনকে টিঅ্যান্ডটি নামেই ডাকি।

সময়ের পরিক্রমায় এই ফোনের আকার বদলে গেলো। বিজ্ঞান হাতের মুঠোর মধ্যে নিয়ে এলো এই ফোন। নাম হলো মুঠোফোন বা সেলফোন। এক জায়গায় তারের বাঁধনে আটকে না-থেকে এই যন্ত্র সঙ্গী হয়ে গেলো মানুষের। প্যান্টের পকেট, ভ্যানিটি ব্যাগ কোথায় নেই সেলফোন।

এখন বহু মানুষের ভার্চুয়ালবিশ্বে বাস করার প্রধান মাধ্যম গ্রাহাম বেলের দেড়শো বছর আগের সেই আবিষ্কার। অনেকেরই একাকিত্বের সঙ্গী এবং একাকিত্ব নামক সমস্যা তৈরির অন্যতম কারিগর এই টেলিফোন। তবু মানুষ ‘হ্যালো’ বলতে ভালোবাসে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

ছবিঃ গুগল