১১১তম জন্মদিনে স্মরন মানিক বন্দোপাধ্যায়কে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লুৎফুল কবির রনি

চার ভাইবোনের পর জন্ম হল ঘুটঘুটে এক কালো ছেলের। অমন গায়ের রং দেখে আঁতুড় ঘরেই নাম দেওয়া হলো কালোমানিক।

বামুনের ছেলে। রীতমতো গণক ডেকে জন্মঠিকুজি তৈরি করা হলো। ঠিকুজিতে নাম রাখা হল অধরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নামে কেউ কোনও দিনও ডাকলো না।

এমনকী বাবা হরিহর সাধ করে ছেলের নাম রাখলেন প্রবোধকুমার। সেই নামও আড়ালেই থেকে গেলো। ভালবেসে কালোমানিক বলেই ডাকতো সকলে।

তারপর যা হয়, বয়স বাড়তে কালোমানিক থেকে কালো গেল খসে। পড়ে রইল শুধু মানিক। ওই নামেই জীবনের প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ ছাপা হয়েছিলো।

বিহারের দুমকা নামের একটি শহরে ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ মে জন্মগ্রহণ করেন মানিক বন্দোপাধ্যায়। বাবা হরিহর বন্দোপাধ্যায় এবং মা নীরদাসুন্দরী দেবী। চৌদ্দ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অষ্টম।

তখন গণিতে অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। একদিন কলেজ ক্যান্টিনে বন্ধুদের সঙ্গে তুমুল তর্ক। এক বন্ধুর লেখা গল্প কোনও একটি নাম করা পত্রিকা থেকে অমমোনীত হয়ে ফেরত এসেছে। সেই বন্ধু মহা খাপ্পা হয়ে বললো, বড় পত্রিকাগুলি নামী লেখকদের লেখা ছাড়া ছাপায় না।

সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে উঠলেন মানিক।— ‘এটা হতেই পারে না। তুমি ভুল বলছ। তোমার গল্প ভাল হয়নি বলেই তারা ছাপেনি। পছন্দ হলে নিশ্চয়ই ছাপত।’

বন্ধুও পাল্টা নিলেন, ‘প্রমাণ করে দেখাতে পারবে?’

‘বেশ, আমি আগামী তিন মাসের মধ্যে একটা গল্প লিখে কোনও নামী পত্রিকায় ছাপিয়ে দেখাব।’

তিন মাস নয়, তিনদিনের মধ্যে একটা গল্প লিখে ফেললেন। গল্পকারের নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় লিখতে গিয়েও থমকালেন।

জীবনের প্রথম গল্প। সম্পাদকের পছন্দ হবেই সে বিষয়ে নিশ্চিত। কিন্তু বারো তেরো বছর বয়সের মধ্যেই বাংলার সেরা সাহিত্যগুলো যার পড়া হয়ে গেছে সেই মানিক কিন্তু বুঝেছিলেন ‘অতসী মামী’ আসলে ‘অবাস্তব রোম্যান্টিকতায় ভরা’।

সেই সংকোচেই প্রবোধকুমারের বদলে লিখলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর সেই গল্প নিয়ে নিজেই সটান হাজির ‘বিচিত্রা’ পত্রিকার দফতরে।

সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ সেই সময় দফতরে ছিলেন না। তার জায়গায় বসেছিলেন আরেক দিকপাল সাহিত্যিক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত। স্মৃতিকথায় অচিন্ত্যকুমার লিখছেন, ‘একদিন বিচিত্রার দফতরে কালোপানা একটি লম্বা ছেলে এল। বলল গল্প এনেছি। বললাম, দিয়ে যান। সেই ছেলে লম্বা হাত বাড়িয়ে গল্পের পাণ্ডুলিপি দিয়ে বলল, এই যে রাখুন। এমন ভাব যেন এখুনি ছাপতে দিয়ে দিলে ভাল হয়। চোখে মুখে আত্মবিশ্বাস চুঁইয়ে পড়ছে। গল্প জমা দিয়ে সে চলে গেল। আমি তারপর এমনিই গল্পে একবার চোখ বোলাতে গিয়ে চমকে উঠলাম। এ যে রীতিমতো দুর্দান্ত গল্প!’

সেই গল্প প্রকাশ তো পেলই, বাংলার পাঠকমহলেও হইহই পড়ে গেলো। বিচিত্রার সম্পাদক খোঁজখবর নিয়ে ছুটে এলেন মানিকের সঙ্গে দেখা করতে। লেখার সাম্মানিক কুড়িটা টাকা হাতে দিয়ে অনুরোধ করলেন, ‘আপনি আবার গল্প দিন আমাদের।’

ইচ্ছে ছিলো ত্রিশ বছরের আগে কোনও দিন গল্প লিখবেন না, কিন্তু কুড়ি বছর বয়েসেই বাজি রেখে গল্প লিখে এমনই বিখ্যাত হয়ে গেলেন যে সেদিন আবার গল্প লিখতে রাজি হতে হলো, আর সেদিনই ঠিক হয়ে গিয়েছিলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়তি।

মনে পাপ থাকার এই একটা লক্ষণ। মনে হয়, সকলেই বুঝি সব জানে।

-মানিক বন্দোপাধ্যায়

‘লেখক হচ্ছে কলম-পেষা মজুর’, মনে করতেন মানিক। জীবনানন্দ দাশের মতো তিনিও মনে করতেন, ‘পৃথিবীতে নেই কোনো বিশুদ্ধ চাকরি।’ ওসব চাকরিবাকরি বা ব্যবসাবাণিজ্য কোনোদিনও মানিকের গা সওয়া হয়ে ওঠেনি।

‘ফুলগুলো সরিয়ে নাও,
আমার লাগছে।
মালা
জমে জমে পাহাড় হয়
ফুল জমতে জমতে পাথর।

পাথরটা সরিয়ে নাও,
আমার লাগছে।’ (পাথরের ফুল/ সুভাষ মুখোপাধ্যায়)

-এই কবিতা পড়তে পড়তে বড় হয়েছি আমরা। জেনেছি এই কবিতা এমন এক রুদ্ধ বাস্তবের আঁচে পুড়তে পুড়তে লেখা যা স্মৃতি প্রতারিত বাঙালির চিকন নিদ্রাঘরে কড়াঘাত করে যাবে, যতদিন বাংলাভাষা থাকবে। সাঁত্রে বলেছিলেন, মৃত্যুকে আমি ঘৃণা করি, কারণ মৃত্যুর পর আমার আর নিজের পরিচয় গঠনের অধিকার থাকে না। দেহ পড়ে থাকে। আর আমি কেমন ছিলাম তা নিয়ে অনেক কথা হয়। যারা ‘অপর’ তারা আমার পরিচয় নির্ধারণ করতে থাকবেন। ‘অন্যেরা কথা কবে, তুমি রবে নিরুত্তর’ আর কী। সে তো যে কোনও মৃত্যুর পরই একই সমাপতন ঘটে। কিন্তু ‘পাথরের ফুল’ তখনই লেখা হয়, যখন গাইতে হয় ‘সব মরণ নয় সমান’। কেননা এই মৃত্যু দৃশ্য মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর তাঁর মৃত শরীরে রাখা পুষ্পস্তবকের পাহাড় কেন পাথর তা বুঝতে গেলে মানিকবাবুর রচনা সম্পর্কে অবজ্ঞাত হওয়া যেমন জরুরী।

দারিদ্র্যের প্রতিটি রেখাকে যেন কলমের ডগায় তিনি সুস্পষ্ট করে তুলতে পারতেন। পদ্মানদীর মাঝি’র কুবের-গণেশ-মালা কিংবা প্রাগৈতিহাসিকের ভিখু-পাঁচী, দারিদ্র্যের সে ভয়াল রূপ পাঠকদেরকে এতটুকু স্বস্তিতে থাকতে দেয় না। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের লেখনী, জীবনকে সুন্দর মোড়কে মুড়িয়ে নিয়ে উপস্থাপন করে না, বরং সত্যিটাকে তার আসল চেহারায় দেখাতে চায় সবার চোখে আঙুল দিয়ে। হয়তো সে কারণেই তার কলমে উঠে এসেছিল, ‘ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্রপল্লীতে, এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।’

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ক্লান্ত-শ্রান্ত এই সাহিত্যযোদ্ধা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ‘দেখো, দুটি ডাল-ভাতের সংস্থান না রেখে বাংলাদেশে কেউ যেন সাহিত্য করতে না যায়।’ ঠিকই তো! শুধু কি সাহিত্যে পেট ভরে? এ সমাজে সৃজনশিল্পীদের নেই কোনো জীবনের নিশ্চয়তা, আর ওদিকে শিল্পপতির ঘরে অর্থের গলিত-পঁচিত ভাণ্ডার। এই সত্যটিকে মানিক তার সমগ্র জীবন দিয়ে বুঝেছিলেন। মারা যাবার পর রাশি রাশি ফুলের ভারে ন্যুব্জ হয় মৃতের দেহখানা, কিন্তু বেঁচে থাকতে দিনের পর দিন ক্ষুধার তাড়না তাড়া করে ফেরে তাকে।

সে দারিদ্র যে কী ভয়ংকর তা জানা যায় মানিকের ডায়েরির একটি পৃষ্ঠা পড়লে। স্ত্রী ডলি অর্থাৎ কমলা এক মৃত সন্তানপ্রসব করেছেন, আর মানিক ডায়েরিতে লিখছেন, ‘বাচ্চা মরে যাওয়ায় ডলি অখুশি নয়। অনেক হাঙ্গামা থেকে বেঁচেছে। বলল, বাঁচা গেছে বাবা, আমি হিসেব করেছি বাড়ি ফিরে মাসখানেক বিশ্রাম করে রাঁধুনি বিদায় দেব। অনেক খরচ বাঁচবে।’

মধ্যবিত্ত কপট জীবন ও আচরণ, ভোগবাদকে আঁকড়ে ধরার মোহময় প্রবণতা, শ্রমিক শ্রেণির শ্রান্ত দেহের পুষ্টিহীনতা- এসবকেই আশ্রয় করে তখন মানিকের কলম চলতে থাকে। তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মতাদর্শ শক্তিশালী শব্দমালার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে। বাস্তবতার বাস্তব চেহারা নিয়ে সমূলে আঘাত করতে থাকে পাঠকের বিবেকে। ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সাহিত্যেও এর প্রভাব লক্ষ্যণীয়।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলতেন, অন্ধকারে যে বাস করে মৃদু আলোতে তাহার চোখ ঝলসাইয়া যায়। আমাদের কালে আমরা যখন আধুনিকতার নামে সংস্কৃতিহীন , মূল্যবোধহীন হয়ে বিভ্রান্তি নিয়ে কেবল অন্ধকারই হাতড়ে বেড়াচ্ছি তখন এক অনিন্দ্য জীবনবোধে উদ্দীপ্ত হতে মানিক বন্দোপাধ্যায় রচিত পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মা নদীর মাঝি ইত্যাদি উপন্যাস বা অতসীমামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোটবকুলপুরের যাত্রী প্রভৃতি গল্পসম্ভারে আমরা কি একবার চোখ বুলিয়ে আসতে পারি? তবেই মানুষ হয়ে উঠবার মূল মন্ত্রণাটা হয়তো পেতে পারি।

পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসটি লিখতে প্রায় ৪/৫ বছর সময় নিয়েছিলেন। এটি তার অন্যতম এক মাস্টারপিস। পুতুলনাচের ইতিকথা ও পদ্মানদীর মাঝি অনেকগুলো ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তার মৃত্যুর পরে প্রকাশ পায় মাঝির ছেলে (একমাত্র কিশোর উপন্যাস), শান্তিলতা (উপন্যাস), মানিক বন্দোপাধ্যায়ের কবিতা (একমাত্র কবিতা সংকলন), লেখকের কথা (প্রবন্ধ সংকলন), অপ্রকাশিত মানিক বন্দোপাধ্যায় (ডায়েরি ও চিঠিপত্রের সংকলন)।

বাঁশি বাজাতে খুব ভালোবাসতেন। যখন তখন বাঁশি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। কোনো খবরই পাওয়া যেতো না, থাকতো না তার ঘরে ফেরার কোনো তাড়া। তার এই বাঁশিপ্রীতির দেখা মেলে প্রথম গল্প ‘অতসী মামি’তেই। নদীও খুব ভালোবাসতেন। নদীর সঙ্গে, তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা জনবসতির সঙ্গে মানিক অনুভব করতেন এক আত্মিক বন্ধন। মাঝি-জেলেদের সঙ্গে গল্পে মজে থাকতেন, খাওয়া-দাওয়াও করতেন তাদের সঙ্গে। সেই আত্মীয়তা থেকেই সৃষ্টি করেছিলেন তার সবচাইতে জনপ্রিয় রচনা ‘পদ্মা নদীর মাঝি’।

একসময়ের কুস্তি লড়া এবং পাড়ার মাস্তানকে কাবু করা ডাকাবুকো শরীরটা ক্ষয়ে যেতে লাগলো যেন। একদিকে দারিদ্র্য, আরেকদিকে রাজনীতি ও সাহিত্যের প্রতি তুমুল সাধনা- একসাথে সবকিছু যেন সইতে পারেনি তার শরীর। মৃগীরোগ দেখা দিল। প্রায়ই ভুগতেন। ১৯৩৮ সালে তার বিয়ে হয়েছিল কমলা দেবীর সঙ্গে, স্ত্রীকে ডাকতেন ‘ডলি’ বলে। স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীও যে একটি প্রবল সংগ্রাম লড়ে গেছেন, তা স্বীকার না করে উপায় নেই। মানিকের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার সহযোদ্ধা হয়ে পাশে ছিলেন তিনি। মৃত্যুশয্যায় শুয়ে আছেন, সেসময়টায় বাড়িওয়ালা ভাড়া না দেবার অপরাধে মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন। সবটুকুই সইতে হয়েছে বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত শক্তিমান এই লেখককে, কারণ সাহিত্যে পেট ভরে না!

১৯৫৪-র শেষ দিক থেকেই শরীর ক্রমশ ভাঙছিল মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মেজাজও ঠিক থাকছিলো না। কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়কে বলেন, পুতুলনাচের ইতিকথা একটা ‘ন্যাতপেতে সেন্টিমেন্টাল’ লেখা। এ ভাবেই জীবনের প্রথম পর্বের অসামান্য সব রচনাকে বাতিল করে দিচ্ছিলেন তিনি। আদ্যন্ত কমিউনিস্ট মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়রিতে লিখছেন তাঁর আধ্যাত্মিক সমর্পণের কথা। কোথাও লিখে টাকা পেলে ডায়রিতে লিখছেন, ‘মায়ের দয়া ও ক্ষমা’। বহু চেষ্টা করেও ছাড়তে পারছেন না মদ্যপান ও সিগারেট। অথচ কাহিল করে দিচ্ছে গ্যাসট্রাইটিস ও মৃগী।

সাহিত্যে পেট ভরে না বলেই তাকে চাকরির জন্য হন্যে হতে হয়েছে। কিছুদিন নবারুণ পত্রিকায় চাকরি করেন সহ-সম্পাদক হিসেবে। এরপর বঙ্গশ্রী পত্রিকায়ও একই পদে কাজ করেন। নিজের একটি প্রেস চালু করেছিলেন। কিন্তু অর্থাভাবে তা-ও বন্ধ হয়ে যায় কয়েকটা দিন যেতে না যেতেই।

দীর্ঘদিন রোগে ভুগেছেন। শেষমেশ ১৯৫৬ সালের ৩রা ডিসেম্বর মৃত্যুর আগমনের মাধ্যমে সকল ভোগান্তির অবসান ঘটে। শেষ ক’দিন তার সঙ্গে ছিলেন আরেক সাহিত্যিক দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তার সেদিনের স্মৃতিচারণে মানিকের জীবন-মৃত্যুর এক সত্য ও নির্মম ছবি তুলে ধরেছেন-

‘পালঙ্ক শুদ্ধু ধরাধরি করে যখন ট্রাকে তোলা হয় তখন একটা চোখ খোলা, একটা বন্ধ। শরীরের ওপর রক্তপতাকা বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ওপরে ফুল। মুখটুকু বাদে সমস্ত শরীরটা ফুলে আর ফুলে ছেয়ে গেছে। উপচে পড়ছে দু’পাশে…। মাথা এবং পায়ের কাছে দেশনেতা এবং সাহিত্যিক! সামনে পেছনে, দুইপাশে বহু মানুষ। সর্বস্তরের মানুষ। মোড়ে মোড়ে ভিড়। সিটি কলেজের সামনে মাথার অরণ্য। কিন্তু কাল কেউ ছিল না, কিছু ছিল না… জীবনে এত ফুলও তিনি পাননি।’

মাত্র ৪৮ বছর বয়েসে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম এই কথাসাহিত্যিকের জীবনাবসান হয়। নাতিদীর্ঘ জীবনে যে উচ্চমানের সাহিত্য তিনি সৃষ্টি করে গেছেন বাংলা সাহিত্যের পাঠকের কাছে তা চিরআদরণীয়।জীবনযুদ্ধে পর্যদুস্ত, বিপন্ন, নিরাশ্রিত মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনকাল ছিল মাত্র আটচল্লিশ বছরের। ব্যতিক্রমী এই কলম পেষা মজুর ও ব্রাত্য জীবনের অমর কথাকার।

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই কথাসাহিত্যিকের আজ ১১১তম জন্ম দিবস। গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]