১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অতিক্রমের ঝুঁকি নিয়ে বিশেষ আলোচনা

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা ধরনের গবেষনা, আলোচনা এবং পর্যালোচনা। সম্প্রতি আইপিসিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয় যে শুধুমাত্র বৃহৎ পরিসরে, ব্যয়সাপেক্ষ পরিবর্তনের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানো সম্ভব। গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে পৃথিবীবাসী যদি জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারে, তাহলে বিশ্বের আবহাওয়া ধ্বংসাত্মক রূপ নিতে পারে। তখন একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, সাগরের পানির তাপমাত্রা ও অম্লতা বৃদ্ধির মত বিপর্যয়ের মুখে পরবে পৃথিবী। এমনকি চাল, গম, ভুট্টার মত প্রয়োজনীয় ফসল উৎপাদনও ব্যাহত হবে ব্যাপকভাবে।

জলবায়ুর এই আঘাত ক্রমশই ক্ষতিগ্রস্থ করছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মত বিশ্বের অন্য অঞ্চলকেও। ইতিমধ্যেই জানা গেছে, ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা সম্প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সমুদ্রে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট এবং বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ ঝড়, বন্যা এবং খরা দেখা দিতে পারে৷ এ অবস্থা চলতে থাকলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে৷

বর্তমানে যে হারে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যাবে৷ এমনটাই জানিয়েছে, ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ বা আইপিসিসি৷

এই ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির ভয়াবহতা এবং তার বিপরীতে করণীয় বিষয় নিয়ে অ্যাক্ট এলিয়েন্সের সদস্যবৃন্দ একত্রিত হয়ে ২৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ এই  “অ্যাক্ট অ্যালায়েন্স” -এর অন্যতম নেটওয়ার্ক সদস্য। “গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রমের ঝুঁকি ও জাতীয় পর্যায়ে করণীয়” শীর্ষক এই রিপোর্টটিতে নানা রকমের জলবায়ুবান্ধব সুপারিশ যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের বিষয়গুলোর মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে মানবিক নিরাপত্তা, দারিদ্র্য নিরসন এবং টেকসই উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষার উপর ১.৫ ডিগ্রী বা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের সম্ভাব্য প্রভাবগুলির উপর আলোকপাত করা। এই রিপোর্টে বাংলাদেশের উপর একটি একটি বিশেষ অধ্যায়ও সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার ২৭ অক্টোবর ডেইলি স্টার ভবনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে উপস্থিত অতিথিদের সামনে বিষয়টি মেলে ধরেন ফয়েজুল্লাহ তালুকদার, জলবায়ু পরিবর্তন প্রোগ্রাম প্রধান, সিসিডিবি; থমাস হিরশ (রিপোর্টের মূল লেখক), চীফ এক্সিকিউভ, ক্লাইমেট এন্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইস, জার্মানি; মোঃ শামসুদ্দোহা (বাংলাদেশ অধ্যায়ের লেখক), চীফ এক্সিকিউভ, সেন্টার ফর প্যারাসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি); জিয়াউল হক, পরিচালক (এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট), পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই), মির্জা মির্জা শওকত আলী, পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তঃআঞ্চলীয় কনভেনশন), পরিবেশ অধিদপ্তর (ডও); ফজলে রাব্বী সাদেক আহমেদ, পিএইচডি, পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ ইউনিট), পিKSএসএফ; কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ, মাননীয় চেয়ারম্যান, পিকেএসএফ; সলিমুল হক, পরিচালক, আইসিসিএইচডি; ড। এম আসাদুজ্জামান, ডিসুঞ্জুয়েড ফলো, বিআইডিএস এবং ড। নুরুল কাদির (টিবিসি), অতিরিক্ত সচিব, এমওইএফ ও সিসি।উল্লেখ্য, ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ ১৯৭৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে মানুষ ও মানবিকতা নিযে কাজ করে আসছে। ২০১২ সাল থেকে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলাদা টিম গঠন করে নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের অন্যান্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বিশ্ব জলবায়ু ফোরামে সিসিডিবির গ্রহণযোগ্যতা এবং গবেষণার তথ্য