ফেইসবুক থেকে

   ফেইসবুক এর গরম  আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতীকক্রিয়া।    

                                                            জুয়েল আইচ এর সঙ্গে একটি সন্ধ্যা

11220792_994073703985946_6524415175324227909_n

জুয়েল আইচ: চমকের পর বাড়তি চমক ছাড়া জীবন ভারি শাদামাটা হয়ে পড়ে। জীবনে যত বেশী বেশী চমক সঞ্চয় এবং অকাতরে বিতরন করা যায়, জীবন ততই উপভোগ্য।

সপ্তগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি শেষ করে চলে এলাম পিরোজপুরে। এখানে আমার এক দুর্দান্ত কৈশোর এবং তরুণকাল কেটেছে।
অসংখ্য বন্ধু এবং ভক্তর দল ছেকে ধরল,– এ

বার স্বাধীনতা দিবসে তোমাকে পেয়েছি। অসাধারণ কিছু করতেই হবে।

শিল্পকলা একাডেমী বলল, আপনি যা কিছু করতে বলবেন, আলাউদ্দিনের দৈত্যর মত হাজির করে ফেলবো।
শুরু হয়ে গেল, ‘ জুয়েল আইচ এর সঙ্গে একটি সন্ধ্যা”র বিপুল আয়োজন। সাড়া পড়ে গেল পিরোজপুর শহরময়।

সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীর বিশাল অডিটোরিয়ামে লোক আর ধরেনা।

ফুলের তোড়া দিয়ে আমায় বরণ করে নেওয়ার পরে শুরু হল ডকু-ফিল্ম,FB_IMG_1459168089176
” মাটির কাছে হৃদয় নাচে
জুয়েল আইচের কিছু শৈশব”

দেড় ঘন্টাব্যাপী দর্শক ছবিটি উপভোগ করলেন। আমাকে মঞ্চে আহবান জানানো হল। স্মৃতি তর্পন, বাঁশি বাদন এবং জাদু প্রদর্শনী।
ব্যাস, অনুষ্ঠান শেষ।

দর্শনাকাঙিক্ষ, যাঁরা হলের ভেতরে স্থান পাননি বলে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, এবারের চমক প্রথম দেখলেন তাঁরা।

শোঁ শোঁ, শাই শাই, দুম দুম।
শুরু হয়ে গেল বিস্ময়কর আতসবাজির চমক। অডিটরিয়ামের দর্শকরাও দ্রুত বেরিয়ে এসে আরো জোরে চিৎকার আর হাত তালি শুরু করলেন।

আমার সহকারী রবিন গোপনে ছাদে অপেক্ষা করছিল শেষ চমকটি নিয়ে। বিস্মিত পিরোজপুরবাসী বলতে লাগলেন,
— এরচেয়ে ভালো স্বাধীনতা দিবস উজ্জাপন আর কি হতে পারে!

                                                         তনুর মৃত্যু : নারী কি তবে সত্যিই বিধাতার শক্তির অপব্যয়

ronjonaশাহানা হুদা (ঢাকা):  তিন চারমাস আগে আমি ধানমন্ডি লেকের পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম । হঠাৎ ওখানে বেঞ্চে বসে ছিলেন একজন বয়স্ক নারী । ওনার পরণে হিজাব ছিল । হঠাৎ উনি কোন কারণ ছাড়াই আমাকে বলে উঠলেন, ‘ এইযে আপনি মাথায় কাপড়টা দ্যান । এইভাবে পর্দা ছাড়া চলাফিরা করেন বইলাইতো আপনাদের এত বিপদ হয় ।’ আমি এত অবাক হয়ে গেলাম যে প্রথমে কোন উত্তর খুঁজে পেলামনা । পরে ওনাকে বললাম, ‘ আপনি মাথায় কাপড় দিয়েছেন, সেটা দিন । আমিতো আপনাকে কোন কারণ দেখিয়ে সেটা নামাতে বলছিনা । আপনি কেন আমাকে মাথায় কাপড় দিতে বলবেন ? এটা আমার ইচ্ছা । আর আমার হেফাজতের দায়িত্বও আপনাকে আমি দেইনি । কাজেই নিজেরটা নিয়েই খাকুন ।’

তনুর হত্যাকান্ডের ঘটনার পর কথাটা হঠাৎ মনে হল বিশেষ করে ‘ এইভাবে পর্দা ছাড়া চলাফেরা করেন বইলাইতো আপনাদের এত বিপদ হয় ’ – এই অংশটুকু । তাহলে তনুকে কেন ধর্ষিত ও নিহত হতে হল ? ঐ ছোট্ট মেয়েটিতো পর্দার মধ্যেই ছিল। যা কাজকর্ম করার তাতো সে এভাবেই করছিল । পর্দা প্রথা মেনেও কতগুলো নরপিশাচের লোভের বলি হতে হল তনুকে । কারণ তনু একজন নারী — তাকে খুব সহজেই হয়রানি করা যায়, যায় তাকে ঘরে বন্দী করা, মারধোর, বকাঝকা, অশ্লীলতা, ধর্ষণ সব, সবকিছু করা যায় । এমনকী হত্যা করাও খুব কঠিন কিছু নয় ।

ঘটনা প্রসঙ্গে যে কথাটি আবার মনেপড়ল, প্রায় বছরখানেক আগে একটি বিয়ের আসরে গিয়ে আমারতো নিজেকে ভিনগ্রহের একজন মানুষ বলে মনেহচ্ছিল । ঐ অনুষ্ঠানে হাতেগোনা কিছু নারী বাদ দিয়ে প্রায় সবাই বোরখা বা হিজাব পরা ছিল । এমনকী ৩/৪ বছরের শিশু পর্যন্ত । সম্ভবত ঐ প্রথম আমি শিশুদেরকে হিজাব পরা দেখেছিলাম কিন্তু এখন অনেককেই দেখছি । তবে উল্লেখ যে আসরে সাজগোজেরও কোন কমতি ছিলনা ।

এ্ইসব দেখে থাকতে না পেরে আমি পরিচিত একজনকে অনেকটা গায়েপড়ে জিজ্ঞাসাও করে বসলাম, ‘ কীরে তোর এই ছোট্ট মেয়েটাকে কেন হিজাব পরালি ? তুইতো হিজাব ধরলি সেদিন । কেয়াতো এখন মাত্র ক্লাস থ্রিতে পড়ে।’ উত্তরে ও বলল, ‘ কেয়াতো হিজাব পরতেই চায়না । কিন্তু আমি জোর করে পরাচ্ছি । আমার ছোট মেয়েটাকেও পড়াচ্ছি । ওর বয়স ৬ ।’ আমি জানতে চাইলাম ‘ কিন্তু কেন এত ছোট্ট দুটি মেয়েকে তুই পর্দা করাচ্ছিস ? পর্দা করার বয়সতো পড়েই আছে ।’  ও বলল, ‘ নারে দিনকাল ভালনা মেয়েরা যদি খোলামেলা হয়ে বেড়ায়, তাহলেতো ওদেরই বিপদ তাই আমি আর ওর বাবা এখন থেকেই পর্দা করানো শুরু করেছি ।’ বুঝলাম নারীকে ‘ সংরক্ষণ ‘ করার সেই একই ধারণা, সেই একই পদ্ধতি । সময়, যুগ পাল্টেছে কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টায়নি, বরং আরো সনাতন হয়েছে ।pranerbangla

যাক প্রসঙ্গে ফিরে আসি, তনু কারো উপর নির্ভর না করে নিজের পড়ার খরচ নিজেই যোগাড় করার চেষ্টা করেছে, মেয়েটি বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে আর সবার মতই অংশ নিয়েছে, স্বপ্ন দেখেছে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াবে কিন্তু এই সমাজ তাকে পারলোনা নিরাপত্তা দিতে, পারলোনা বাঁচতে দিতে । হয়তোবা তার ধর্ষণকারী ও হত্যাকারীদেরও কোন শাস্তি দিতে পারবেনা ।

যখনি কোন নারীকে লাঞ্চিত হতে হয়, তখনই বলা হয় মেয়েটি বেশরম, বেপরোয়া, বা তার চলাফেরা ভালনা, অসময়ে ঘরের বাইরে যায়, সাজগোজ করে, পুরুষের সামনে বের হয় ইত্যাদি ইত্যাদি ধরণের নানা অপ্রাসঙ্গিক কারণ বা অছিলা । তাহলে তনুর ক্ষেত্রে এই অভিযোগ কাজ করলোনা কেন ? নারী অপমানিত, নির্যাতিত, হয়রানি, সহিংসতার শিকার যাই হোক না কেন, সমাজ সারাটা সময় নারীকেই দায়ী করে যায় । অথচ একবারও এই সমাজ পুরুষকে দায়ী করেনা বা তাকে তার চোখের ও পুরুসাঙ্গের পর্দা মেনে চলতে বা নারীকে সম্মাান করতে শেখায়না ।

কোন মেয়ে সুন্দরী না অসুন্দরী, ধনী না দরিদ্র, পর্দা মানে কী মানেনা, বাইরে কাজ করে কি করেনা , ভাল না মন্দ এটা কোন বিচার্য বিষয় নয় । শুধু সে একজন মেয়ে, তার শারীরিক শক্তি কম, তাকে দেখা হয় অধিনস্ত হিসাবে এবং সর্বাপরি তাকে দিয়ে যৌন বাসনা মেটানো যায় – এটাই বড় কথা । তাই বোধহয় এদেশের শতকরা ৮০ ভাগ মেয়েকে তার পরিবারেই সহিংসতার শিকার হতে হয় । যেদেশে পরিবারই একজন নারী কাছে নিরাপদ নয়, সেদেশে আর কোথায় একটি মেয়ে বেঁচে থাকার আশ্বাস পাবে ?

আমি জানিনা, সত্যিই জানিনা মেয়েরা কবে এই সহিংসতার হাত থেখে মুক্তি পাবে, কীভাবে পাবে, কবে তারা যথাযথ সম্মাান পাবে, কবে একজন নারীকে অসম্মানিত হতে দেখলে সমাজ তাকে দায়ী না করে বরং প্রতিবাদ করবে এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা কবে অপরাধীকে তার বা তাদের কৃতকর্মের জন্য কোনছাড় না দিয়ে সরবো্চ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে ?

                                                                           আমি সুস্থ থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি

তামান্না সেতু (ঢাকা):প্রতিটি প্রফাইলtammana পিকচার আপলোড দেয়ার সময় ভাবি, ‘আর ঠিক কয়দিন পর এই ছবি থেকে ছবি নিয়ে আমার মৃত্যুর অথবা ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ হবে!!
সাধারণত সুন্দর হাসি মুখের ছবি আপলোড দেয়ার চেষ্টা করি। চেষ্টা করি সেই ছবিতে যেন আমার কপালে বড় একটা লাল টিপ থাকে ঠিক পতাকার মাঝখানের লাল বৃত্তের মত। চেষ্টা করি যেন আমার মুখে বাংলাদেশ দেখা যায়। যে সুন্দর অসাম্প্রদায়িক, লিঙ্গ-শ্রেনি বৈষম্যহীন দেশের স্বপ্ন আমি দেখি তা যেন আমার চোখের তারায় চিকচিক করে সে ছবিতে। চেষ্টা করি যেন আমার মৃত্যুর পর আমার মুখে মানুষ বাংলাদেশকে দেখে।স্বাভাবিক মৃত্যুও আমার হতে পারে। কিন্তু সে সম্ভাবনা কেন যেন দিন দিন কমে আসছে। তাই ভাবনা ওদিকে যায় না।তনু মেয়েটা মরে গেল। রোজ ভোরে যে সূর্যটা ওঠে এই মেয়ে আর কোনদিন তা দেখতে পাবে না। সামনের বছর শীতের সকালে গায়ে পাতলা চাদর দিয়ে সে তার পরিবারের সাথে খেজুরের রস খাবে না। বুকভরা ভালবাসা নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাইবে না। নাট্য মঞ্চে দাড়িয়ে চিৎকার করে ডায়লগ দেবে না।আমার অক্ষত যোনি তনুর সামনে আমাকে লজ্জা দিচ্ছে আজ।গত চার দিনে তনু ছাড়াও এ দেশে আরও কিছু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আমি রাত  ভর আকাশের দিকে তাকিয়ে তাদের চিৎকার শুনেছি। পাগলের মত নিজের দুই ছেলেকে বুখে টেনে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছি -‘সত্যি করে বল বাবারা, তোদের দিয়েও কি এমন কিছু হতে পারে?”
আমার সন্তান দুই হাতে আমার মাথা তার বুকে চেপে বলেছে ‘তাই কি হয় মা? তুমি না বলেছ সকল মেয়েই মা। মাকে কষ্ট দেয়া যায়?”

আমি সুস্থ থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। পারছি না।
রোজ সকালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভেতর জগিং করি। সার বেধে সেনারা হেঁটে যায়। কোনদিন তারা আমার দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকায়নি। আজ সকালে সেই সেনাদের দিকে আমি অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবছিলাম ‘এদের মতই কি কেউ?” !!
ছি ছি ছি!!
কোন একজনের অপরাধে আমার সকল ভাই, সকল সন্তান, সকল সেনা লজ্জিত হচ্ছে।
সেই একজনকে কি তারা খুঁজে বের করবে না? সেই একজনকে তারা শাস্তি দিয়ে আমাদের সামনে এসে দাড়িয়ে বলবে না ‘তোমাদের ভয় নেই মা, আমরা প্রতিবাদ করতে জানি। আমরা শাস্তি দিতে জানি’।

সারা শহরে মানববন্ধন হচ্ছে, মিছিল হচ্ছে, প্রতিবাদ হচ্ছে। আমি যাচ্ছি যেখানে যেখানে পারছি।
সবকিছু ছাপিয়ে আমার একবার প্রধানমন্ত্রীর সামনে যেয়ে দাঁড়াতে ইচ্ছে করছে।

ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী, আপনি কি আমার সাথে একটু প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে যাবেন?
তাকে একটু বলবেন, ‘আমিই কি শেষ মানুষ হতে পারতাম না? আমার সকল কন্যাকে রক্ষার জন্য আমি সহ তিন লক্ষ মা মেয়ে কি যথেষ্ট ছিল না? আরও কেন? আরও কেন?

আমার পল্লীবালা আসতে চায় এ পৃথিবীতে। আমি একজন তামান্না সেতু রেখে যেতে চাই এ পৃথিবীতে। আমাকে সেই সুযোগ দিন। আমার/ আমাদের মেয়েটাকে নির্ভয়ে আসতে দিন ।এ পৃথিবীতে শকুনের মুখের তাকিয়ে আমি আর কোন ভাই বন্ধুর মুখ দেখতে চাই না।