ফ্যাশন ডিজাইনিং এ রঙিন ক্যারিয়ার

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা সবাই ফ্যাশন প্রিয় হয়ে উঠেছি। নিজেকে একটু ফ্যাশনেবল করে গড়ে তোলার ইচ্ছে আমাদের সবারই আছে। ফ্যাশন বলতে আমরা অনেক কিছু বুঝে থাকি কিন্তু ফ্যাশনের মূল উপকরণ হচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। তাই পোশাক শিল্পে ফ্যাশন ডিজাইনার হয়ে নিজেকে মেলে ধরার সময় এখনি। আপনার মধ্যে যদি সৃজনশীলতা, শৈলী এবং মৌলিকত্ব থাকে তবে ফ্যাশন ডিজাইনিং কে আজকের বিশ্বের প্রতিযোগিতা মূলক পেশার একটি বিকল্প হিসাবে নিতে পারেন।  বিশ্বে যখন ফ্যাশান নিয়ে তোলপাড় তখন পিছিয়ে নাই আমরাও। পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের সাফল্য আর নিত্য নতুন দেশিও ফ্যাশান হাউজ এর কারনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই পেশা। তরুণদের মধ্যে ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়া এখন শুধু আর শখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাই যদি ডিজাইনারই হতে চান শুরু করুণ এখনই।
1966x594_FashionArts
ফ্যাশন ডিজাইন এর উপর কোর্স করে আপনি ও অধিক পরিমানে অর্থ উর্পাজন করতে পারেন। বাংলাদেশে বর্তমানে এ পেশার অনেক  চাহিদা আছে । আর এ লক্ষ্যে দেশে বিদেশে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদী শর্ট  কোর্স  পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমা।  ফ্যাশন ডিজাইনে রয়েছে ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স; অন্য দিকে উচ্চ ডিগ্রির ক্ষেত্রে রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি; অ্যাপারেল ম্যানুফেকচার অ্যান্ড টেকনোলজি; নিটওয়্যার ম্যানুফেকচার অ্যান্ড টেকনোলজির ওপর অনার্স কোর্স এবং এমবিএ ইন অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং প্রভৃতি । এস  এস  সি,, এইচ এস সি পরীক্ষায় পাসের পর যেকোনো বয়সের শিক্ষার্থীরা এসব কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন।
dina

কোথায় পড়বেন : বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ফ্যাশান বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউট আছে। তার মধ্যে –
•    Bangladesh University of Textiles
•    BGMEA University Of Fashion and Technology. (BUFT)
•    Shanto-mariam University of Creative Technology. (SMUCT)
•    Raffles Design Institute, Dhaka
•    National Institute of Fashion Technology (NIFT)

ফ্যাশন ডিজাইনিং এ পড়া অবস্থায় যোগ্যতা ভেদে পেতে পারেন বিভিন্ন মানের বৃত্তি। প্রায় সবগুলু প্রতিষ্ঠানের সাথেই আছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের  চুক্তি। যদি আপনার প্রতিভা থাকে তাহলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া খুব একটা কঠিন না। বাংলাদেশের অনেক ডিজাইনারই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছে। গতানুগতিক বিষয়ে পড়ালেখা করে চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নষ্ট হয়। সেদিক দিয়ে শিক্ষার্থীরা সাধারণ ডিগ্রির চেয়ে কম সময়ে সেশনজট ছাড়া ফ্যাশন ও গার্মেন্টস টেকনোলজিতে বিএসসি অনার্স, এমবিএ ডিগ্রিতে ভর্তি হতে পারেন। এসব ডিগ্রি অর্জনকারীরা শিক্ষারত অবস্থায় চাকরি করে আয় করতে পারেন। কাজেই নিজের আয় থেকেই শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ব্যয় চালাতে পারেন।

কেন পড়বেন এসব বিষয়ে : অন্যান্য বিষয়ে ডিগ্রি নেয়ার পর গতানুগতিক চাকরির পেছনে ছুটতে হয় শিক্ষার্থীদের। চাহিদার তুলনায় টেক্সটাইল/গার্মেন্টস শিল্পে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা বাংলাদেশে অনেক কম। তাই ক্রমবর্ধমান টেক্সটাইল মিল, বায়িং হাউজ, বুটিক হাউজ, ফ্যাশন হাউজ ও গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানে ফ্যাশন ডিজাইন ও অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিংয়ে ডিগ্রি নেওয়া প্রার্থীদের চাহিদা এতটাই বেশি যে পাস করে বের হবার সঙ্গে সঙ্গেই চাকরি পাওয়া যায়। অন্যদিকে আধুনিক স্থাপনার অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যবর্ধনে প্রধান ভূমিকা রাখছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা। অফিস কিংবা বাসার অন্দরসজ্জার ব্যাপারে সবারই আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের কর্মক্ষেত্রের সুযোগ এখন আগের তুলনায় সারা বিশ্বেই অনেক অনেকগুণ বেশি। এ ছাড়া সৃষ্টিশীল বিষয় নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে গ্রাফিক্স ডিজাইনে কোর্স সম্পন্ন করা প্রার্থীদের চাকরির সুযোগ।

কাজের সুযোগ নিম্নলিখিত খাতে বিদ্যমানঃ
»  গার্মেন্টস / টেক্সটাইল / তাঁত রপ্তানি সঙ্গে জরিত অরগানাইজেশনে
» পুরুষ / মহিলা / শিশুদের পোশাক এবং খেলাধূলার ও নৈমিত্তিক পরিধানের পোশাকের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়
» ফ্যাশন হাউসে নেতৃস্থানীয় দ্বারা নকশা এবং উচ্চ মানের ফ্যাশনেবল কাপড় তৈরি
» সরকার / আধা সরকারি তাঁত / টেক্সটাইল নির্মাতা
» ফ্যাশন শো আয়োজক / ফ্যাশন প্রকাশক
» টিভি / চলচ্চিত্র ফ্যাশন প্রোগ্রাম প্রযোজক / শিল্পী-পরিচালক / পোষাক ডিজাইনার ইত্যাদি
» চলচ্চিত্র প্রকাশনা ইউনিট
» ডিজাইনের শিক্ষক