বিভিন্ন বয়সের শিশুরা কি খাবে…

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল

জন্মের পর থেকে পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের দুধই যথেষ্ট। এ সময়ে শিশুকে অন্য কোনো খাবারে দেয়া উচিত নয়। পাঁচ মাসের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে বাড়তি খাবার দিতে হবে। যদিও পাঁচ মাসের পর মায়ের বুকে দুধের পরিমাণ কমে যায় না, কিন্তু এ সময়ে শিশুর বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন হয়। তাই শিশুকে অন্যান্য খাবার দিতে হয়। শিশু অন্যান্য খাবারের সাথে দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ খেতে পারে।
জন্ম থেকে পাঁচ মাস
 জন্মের পরপরই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের দুধ দিতে হবে।
 শিশু যতবার কাঁদবে ততবার তাকে মায়ের দুধ খেতে দিতে হবে।
 দুধ দেয়ার আগে ভালো করে স্তনের বোঁটা পরিষ্কার করে শিশুর মুখে দিতে হবে।
 বুকে পর্যাপ্ত দুধ না এলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ‘মেটোক্লোপ্রামাইড’ সেবন করলে বুকে দুধ বাড়বে। তাতেও কাজ না হলে কিংবা কোনো কারণে শিশুকে বুকের দুধ দেয়া সম্ভব না হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ব্যবস্থা নিতে হবে।
 চার মাস বয়সের পর থেকে শিশু কিছুটা শক্ত খাবার হজম ক্ষমতা অর্জন করে। তখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো ব্যবস্থা নেবেন।
৫ মাস থেকে ৬ মাস
 মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে আধা শক্ত খাবার যেমনÑ চালের গুঁড়া, সুজি বা ময়দা খাওয়াবেন। এসব খাবার দুধের সাথে মিশিয়ে ঘন করে খাওয়াবেন।
 শিশুকে সবজির সুপ দেবেন। সুপের সাথে ডিম মেশাতে পারেন।
 শিশুকে সারাদিন ৫-৬ বার খাওয়াবেন।
 শিশু প্রতিবারে ৩-৬ আউন্স খাবে।
৬ মাস থেকে ২ বছর
 শিশুকে দিনে ৪-৫ বার খাওয়াবেন। সাধারণত সকাল ৬টায়, সকাল ১০টায়, বেলা ২টায়, সন্ধ্যা ৬টায় ও রাত ৯টা বা ১০টায় খাওয়াবেন। প্রতিবারে শিশু ৫ থেকে ৮ আউন্স খাবে।
 সকাল ৬টায় দুধ। সুজি বা চালের গুঁড়ার সাথে মিশিয়ে ঘন করে রান্না করা দুধ।
 সকাল ১০টায়, ডিম, হালুয়া, খিচুড়ি, পায়েস, ফলের রস ইত্যাদি।
 বেলা ২টায় ভাত, মাছ, গোশত, শাকসবজি, ফলমূল। শিশু খাবার শেষে দুধ খেতে চাইলে দুধ।
 সন্ধ্যা ৬টা সকাল ১০টার মতো।
 রাত ৯-১০টা সকাল ৬টার মতো।
 শাসসবজির মধ্যে শিশু যেসব শাকসবজি খাবে তা হলোÑ গাজর, আলু, টমেটো, শিম, বরবটি, লাউ, বেগুন, কাঁকরল, ঝিঙ্গা, পটল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, লেটুস, লালশাক, কুমড়ো শাক, লাউশাক ইত্যাদি।
 শিশুকে যেসব ফলমূল খাওয়াবেন তা হলো- কলা, কমলা, পেঁপে, পেয়ারা, আপেল, আঙ্গুর ইত্যাদি।
২ বছর থেকে ৫ বছর
 ২-৫ বছরের শিশুরা বড়দের সব খাবার খেতে পারবে। তাকে দিনে ৪-৫ বার খাওয়াতে হবে। এ সময় খাদ্যে ক্যালরির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ২ বছরের শিশুর খাদ্যে ১৩০০ কি. ক্যা. ৩ বছরের শিশুর খাদ্যে ১৫০০ কি. ক্যা. ৪ বছরের শিশুর খাদ্যে ১৬০০ কি. ক্যা. এবং ৫ বছরের শিশুর খাদ্যে ১৭০০ কি. ক্যা. থাকা জরুরি।
 সকাল ৭টা- ডিম, রুটি, ভাজি, হালুয়া, খিচুড়ি বা ডাল-রুটি। শেষে দুধ ও ফলমূল।
দুপুর ১২টা-ভাত, মাছ, গোশত, ডাল, শাকসবজি। শেষে খেতে চাইলে দুধ।
 বিকেল ৫টা- সকাল ৭টার মতো।
 রাত ৯-১০টা- দুপুর ১২টার মতো।
 দিনে ৫ বার খাওয়াতে চাইলে সকাল ৭টায় নাশতা দেয়ার পর সকাল ১০টায় আবার নাশতা দেবেন। তারপর দুপুরের খাবার দেবেন ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে।

ছবি: অনিরুদ্ধ দাস