একটা স্মরণসভা এবং একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার গল্প

সুলতানা শিরীন সাজি

(শ্রদ্ধা জানাই আফম মাহবুবুল হক)

আফম মাহবুবুল হক এর পরিবার

(অটোয়া,কানাডা থেকে): ক্রান্তি আর কায়েস এর কাছে যখন মাহবুব ভাই এর স্মৃতিচারণের স্মরণসভায় যাবার জন্য ফোনকল পাই।সঙ্গে সঙ্গে বলি যাবো। অনেকদিন আগে থাকে একটা দাওয়াত এর প্রতিশ্রুতি দেয়া থাকলেও এই সভায়  আমার যেতে হবে বলেই গেলাম। ডিসেম্বরের দুই তারিখ, খুব সুন্দর হালকা শীতের একটা দিন। যদিও মাহবুব ভাই যেদিন চলে গেছিলেন, ৯ নভেম্বরে ,এর আগে এবং পরে বেশ শীত পড়েছিল। বরফ ও পড়েছিল। হাইওয়ে ধরে কোথাও একা যেতে ভালো লাগেনা আমার । কিন্তু সেদিন যেতে যেতে ভাবনাগুলোর মধ্যে তলিয়ে যাচ্ছিলাম। বেবী আপাকে আর মাহবুব ভাইকে প্রথম দেখি আমার মামাতো বোন মিথুনের বাসায়। আর উনাদের মেয়ে ক্রান্তিকে চিনি আরো আগে থেকে । সেন্ট লরেন্ট শপিং সেন্টার এ একটা দোকানে দেখা হয়েছিল। টুকটাক গল্প। আমি তখনো জানিনি এই মাহবুব ভাই বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আহবায়ক “আফম মাহবুবুল হক”, যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও ছিলেন।

বেবী আপারা আমাদের ডোনাল্ড স্ট্রীট আমাদের পাশের বিল্ডিং এ থাকতেন। উনারা যে সময় মাহবুব ভাই এর অসুস্থ্যতা নিয়ে ব্যস্ত, আমি তখন আমার দুই ছোট ছেলে আর ওদের বাবার অসুস্থ্যতা নিয়ে জীবন যুদ্ধে ব্যস্ত।এর কারনে চেনা গণ্ডি ছাড়া তেমন কোথাও যাতায়ত হয়ে ওঠেনি।তবে কায়েস (ক্রান্তির বর) এর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা হবার সুবাদে যোগাযোগটা বেড়ে যায়। ওরা সবাই যখন শেষবার দেশে গেলো, একজনের জন্য একটা বই পাঠাবো বলতেই ওরা নিতে রাজি হলো। দিতে যাবার পর বেবী আপার সঙ্গে কথা হলো। এই প্রথম,একা বসে অনেক গল্প। অনেকটুকুই জানা। আমরা কথা বলছিলাম আর মাহবুব ভাই এসে রান্নাঘর এ কিছু নেবেন বলে ঘুরঘুর করছিলেন, আবার আমার সঙ্গে পরিচয় হলো। এই নিয়ে বেশ ক’বারই দেখা। যতবারই দেখা হয়েছে, শিশুর সরলতা ভরা হাসি দেখেছি।মাহবুব ভাইকে দেখলে আমার লেনিন এর কথা মনে পড়তো। ছোটবেলায় পড়া বই এর লেনিন।

ভাবনার অবসরে Baxter রোড পার হয়ে বেশ দূরে চলে যাই। একই রাস্তায় বেশ ক’বার ঘুরে Ottawa Citizen Hall এ যখন পৌছাই ,তখন অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। সঞ্চালক ছিলেন,টরন্টো থেকে প্রকাশিত ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক শওগাত আলী সাগর।

আমার সামনেই বেবী আপা বসেছিলেন। একটু পরই সভাপতি লেখক, ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের সভাপতিত্বে এবং বেবী আপা(কামরুন নাহার)এর মঞ্চে আসন গ্রহনের সাথে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাতীয় সংগীত গেয়ে শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান।উপস্থাপক সাগর অনুষ্ঠান এর ব্যানার এ এ স্মরণসভা থাকলেও একে উদযাপনের অনুষ্ঠান বলে অভিহিত করেন।আসলেই তো মানুষ যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন চলে জীবনের উদযাপন। যখন চলে যায়, তখন শুরু হয় স্মৃতির উদযাপন।

আর যখন আ ফ ম মাহবুবুল হক এর মত মানুষরা চলে যান। যারা তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছেন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে,দেশ এবং দশের কল্যান সাধনার চিন্তায়,কর্মে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অটোয়া,টরন্টোতে বসবাসরত বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশের সাবেক ছাত্রনেতা। মাহবুবুল হককে নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণের মধ্যে চলে যান কেউ কেউ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় মাহবুবুক হক একজন প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তাঁর অনুপ্রেরণা এবং নির্দেশনা কি করে ম্যাজিকের মত কাজ করেছিল যুদ্ধক্ষেত্রে তার বর্ণনা আমরা পাই মুক্তিযোদ্ধাদের বর্ণনায়।

অনুষ্ঠান শেষ পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন, মাহবুবুল হক এর পরিবারের সদস্যরা। এতক্ষন যে আমরা যুদ্ধ,যুদ্ধত্তোর বাংলাদেশ,ডাকসুর নির্বাচন এবং মাহবুল হক এর রাজনৈতীক কর্মকান্ড শুনছিলাম,তার থেকে সরে এসে এ এক অন্য আফম মাহবুবুল হক। যিনি ছিলেন একজন স্বামী, একজন পিতা এবং শশুর।

ক্রান্তি তার গল্পে বাংলাদেশের একজন বাবাদের গল্পই বলে। খুব সাদামাটা কিন্তু ভীষন সুন্দর এবং সাবলীল এই বলার মধ্যে আমরা একজন বিজ্ঞ,একজন অন্যরকম বাবাকে দেখতে পাই। ছোট্টবেলায় যখন ক্রান্তিকে তার নাম কেনো “উৎপলা ক্রান্তি” এটা নিয়েও স্কুলে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল।একজন মুসলীম পরিবারের মেয়ের কেনো বাংলা নাম হবে? এই ছিল তাদের কারো কারো প্রশ্ন। ছোট্ট ক্রান্তি বাড়ি ফিরে বাবাকে প্রশ্ন করায়,তার বাবা তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছিল। এখানে আমরা একজন বাবাকে দেখতে পাই,যিনি সেই ছোটবেলাতেই তাঁর সন্তানকে শিখিয়েছিলেন কি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।অন্য বাবা হলে হয়তো নিজে যেয়ে কথা বলতেন,কিন্তু তিনি তা করেন নি। ক্রান্তি নিজেই সেই শিক্ষককে যেয়ে বোঝাতে সমর্থ হয়েছিল যে,বাংলাদেশের একটা মেয়ের বাংলা নাম থাকতেই পারে। এর সঙ্গে ধর্মের কোন সংযোগ নেই।

ক্রান্তিকে বলতে শুনি,বাবা ভীষন সাধারন জীবন যাপন করতে পছন্দ করতেন। এবং একমাত্র সন্তান হিসাবে ক্রান্তি তার বাবার মত একাডেমিক দিক থেকে অনেক ভালো না করলেও ,বাবার মতাদর্শ এবং চিন্তাচেতনার অনুসারী। যদিও আমরা জানি ক্রান্তি নিজেও কানাডায় পড়ালেখা করে ভালো এক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। শেষ কথাটি বলেছিল ক্রান্তি, “I love you Dad. Proud of you.”

এমন অহংকার করার মত মানুষ তো ছিলেন তিনি। একজন বাবা যখন তাঁর সন্তানের কাছে হিরো হয়ে বাঁচেন,সেখানেই বেঁচে থাকা সার্থকতা পায়। আর মাহবুবুল হক রাজনৈতিক এর অনুসারী যারা ছিলেন,তারা খুব ভালো করেই বলতে পারবেন সেকথা।

কায়েস ও শশুর মাহবুবুল হক কে নিয়ে সুন্দর এবং হাস্যরসে ভরা স্মৃতিচারণ করে। বিয়ের সময় যখন রাজনীতিবিদের মেয়ের সঙ্গে বিয়ের কথা শুনেছিল,একটু চিন্তা করেছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে সাধারন মানুষদের চিন্তা ভাবনাগুলো অন্যরকম।এখানেও কেউ কেউ কায়েসকে প্রশ্ন করেছে,তার শশুর কেমন অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন? সুবিধাবাদী,অর্থলোভী,ক্ষমতালোভী মানুষদের দেখেই এই প্রশ্ন!কায়েস মাহবুবুল হককে অসুস্থ্য অবস্থায় দেখেছে। এবং আমরা দেখেছি কায়েস এর দ্বায়িত্ব এবং কর্তব্যনিষ্টা শশুর মাহবুবুল হক এবং তাঁর পরিবারের প্রতি। মানুষ আসলে কোন কিছুই হারায় না। আর যদিও বা হারায়, অন্যখানে অনেক বড় কিছু পায়।

 মাহবুল হক আহত অবস্থায় দেশ ছেড়েছিলেন,”ডায়বেটিক রোগী হবার কারনে আ... মাহ্বুবুল হক প্রতি দিন হাঁটতে যেতেন সন্ধ্যায় প্রায় একই সময়ে একই জায়গায়, রমনা পার্কে২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায়ও যথারীতি বেরিয়ে গেলেন হাঁটতেঅনেক অপেক্ষার     পরে উনার স্ত্রী ফোন পেলেন হসপিটাল থেকেএক ট্যাক্সি ড্রাইভার নিজ পরিচয় দিয়ে বললেন, – মাহ্বুব সাহেবকে উনি রমনা পার্কে ঢুকার মুখে ফুটপাথ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হসপিটালে নিয়ে আসেনমাহ্বুব সাহেবই বাসার ফোন নং এবং স্ত্রীর নাম ও নিজের নাম বল্লেনহাসপাতাল কতৃপক্ষ অপেক্ষা করছিলেন পরিবারের কারো জন্য, তানা হলে রোগীকে ভর্তি করা যাবেনা... মাহবুব সাহেব ফ্যাকাসে গলায় ফোনে স্ত্রীকে শুধু বলতে পেরেছিলেন, – ওরা মেরেগেছে  ক্রমশই বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেনকর্তব্যরত স্টাফ ও তাইবল্লেনডাক্তারের অবজার্বেশন অনুযায়ী এটা কোন গাড়ীচাপা ছিলনা, কোনও ছিনতাই ও ছিলনামাথায় একটি আঘাত্ছাড়া শরীরের আর কোথায়ও কোনো আঘাত্এর চিহ্নই ছিলনা”

লুৎফর রহমার রিটন

দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে চেনা এবং ৩৮ বছরের বিবাহিত স্ত্রী কামরুন নাহার বেবী তার বক্তব্যে একজন অসামান্য মানুষকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন রাজনীতির সুত্র ধরেই তাদের বাড়িতে আসতেন মাহবুবুল হক। এবং পরিচয়ের সুত্র ধরেই পরিণয়। তিনি বলেন, তাদের  সম্পর্ক জুড়ে রোমান্টিক আবেগের চেয়ে রাজনৈতিক আলাপচারিতা ছিল বেশি। এই মানুষের কাছে তিনি মানুষ হতে শিখেছেন।ভালো থেকে আরো ভালো হতে শিখেছেন। তাদের বিয়েতে যারা সম্মত ছিলেন না, এমন মানুষের সঙ্গেও তিনি হেসে কথা বলেছেন। তিনি এ ব্যাপারে জানিতে চাইলে বলেছেন, ওরা বাস্তব কথাই বলেছে।

কানাডা আসার পর চিকিৎসায় সুস্থ হলেও কিছু অসুবিধা থেকেই যায়। অতীতের বেশিরভাগ স্মৃতি ভুলে যান মাহবুবুল হক। কামরুন নাহার বেবী তাঁকে দিনের পর দিন শব্দ শিখিয়েছেন। শূন্যস্থান পূরন করে আবার নতুন করে শব্দ জুগিয়েছেন। ভিডিওতে নিজের ভাষণ দেখে একদিন যখন মাহবুবুল হক বলেছেন,”ও কত ভালো বলে”।এরপর আর কোনদিন সেই ভিডিও দেখাননি তাঁকে। হয়ত তাঁর কষ্ট হয় বা হবে সেকথা ভেবে।এ যেনো আমাদের কবি নজরুল ইসলামের আত্মার কথা।শুনেছি কবি যখন অসুস্থ্য ছিলেন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতেন। ভাষা ছিলোনা মুখের,তাঁর চোখের ভাষা বোঝার সাধ্যি কারো ছিলোনা।মাহবুবুল হক এর ভাগ্য,এমন একজন সহধর্মিনী,একজন বন্ধু পেয়েছিলেন।যে ছায়ার মত,মায়াবতী নাইটিঙ্গেল হয়ে গত বারোটি বছর শুধু তাঁর পাশে থেকেছেন। এখানে কোন একলা আমি ছিলোনা, এ শুধু আমরা।প্রার্থনায় চেয়েছেন তিনি যেনো সুস্থ থাকেন,বেঁচে থাকেন,এই মানুষটাকে দেখবার জন্য। আমি নিজে বিশ্বাস করি মানুষের সব প্রার্থনা পূরণ হয়। চাওয়ার মত চাইতে জানতে হয়।কামরুন নাহার বেবী বক্তব্যে শুনে কারো চোখে জল আসেনি বলে আমার মনে হয়না।

একজন মানুষ চলে গেলে অনেক দুঃখ এসে জমা হয়। অনেক শূন্যতা। তবে আ ফ ম মাহবুবুল হক এর চলে যাওয়া যেনো চোখে আঙুল দিয়ে বলে যায় ,ভুল। মানুষ থাকে। যেখানেই গেছেন,শিশুর মত হেসেছেন। মানুষের বড় শক্তি হলো এই হাসতে পারা। এই দুঃখ জয়ের বেশ।

ক্রান্তি

সভাপতির বক্তব্য ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন অনুষ্ঠানের সব বক্তাদের কথার রেশ ধরেই কথা বলেছেন, বলেছেন বিমোহিত হয়েছেন তিনি ,পরিবারের মানুষগুলোর চোখে আ ফ ম মাহবুবুল হক কে দেখে। সঞ্চালক বলেছিলেন, তিনি ছিলেন লাইট হাউজ।আমার নিজের কাছেও এটা খুব সত্যি মনে হয়। যে কোন আলোকিত মানুষ তো এক একজন এক একটা লাইট হাউজ। সেই আলোকে ছুঁতে হলে তার কাছে যেতে হয়না। দূর থেকেই বলে দেয়,আছি। এই আছি টুকুই অন্যদের শক্তি দেয়।যেমন করে কূল হারা নাবিককে এই আলো পথের দিশা দেয়।

লুৎফর রহমান রিটন,নিজের স্মৃতি থেকে কিছু গল্প বলেন। বলেন, আ ফ ম মাহবুবুল হক কলুষিত রাজনীতির শিকার।তাঁর মত রাজনৈতিক নেতার দরকার ছিল দেশের। তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেও, তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা,আদর্শর জন্য মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।লুৎফর রহমান রিটন বলছেন। প্রিয় বাংলাদেশের বট,হিজলের নীচে না ঘুমালেও কানাডার পাইন গাছের ভীড়ে মাটিতে চিরকালের জন্য শায়িত হয়েছেন আ ফ ম মাহবুবুল হক। সত্যিই তো। কি অদ্ভুত দর্শন। নাকি প্রকৃতির ভারসাম্যতা!

আমার কথাঃ আমি নিজে যখন কোন মানুষ চলে যাবার পর কোন প্রার্থনা বা স্মরণ সভায় যাই। সে ব্যাক্তিটি আমার চেনা হলে আমি তাকে নিয়ে কিছু কথা বলি। আমার মনে হয় ,যে কোন মানুষ কোন না কোন ভাবে পৃথিবীতে ছাপ রেখে যায়।আমরা যদি কোন সভায় গিয়ে তাকে নিয়ে কথা না বলি,তাহলে জানাটা পূর্ণ হয়না। একটা মানুষ চলে যাওয়া মানেই তাকে আরো বেশি করে মনে করা শুরু। মানুষ যতক্ষন থাকে।তাঁর থাকাটা তেমন করে বোঝা যায়না। যখন চলে যায় খুব মনে পড়ে তাকে।তার ভালো গুলো ভেসে উঠতে থাকে।খারাপ গুলো মুছতে থাকে।আর এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মানুষের ভালো গুনাবলী প্রতিফলিত হতে থাকে প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে। এইজন্য আজ মানুষ খুঁজে বেড়ায় জেনেটিক রহস্য।এই মনে করা থেকেই এই চর্চা অব্যাহত থাকে।

কায়েস

উদযাপনের এই সভা থেকে বের হয়ে আসার আগে বেবী আপাকে জড়িয়ে ধরে এসেছিলাম।বলেছিলাম, মনে মনে ভাবতাম ,আমাদের জীবনে বেঁচে থাকার যুদ্ধ অনেক বেশি।কারো জীবনের গল্প কারো মত না।তবু আপার এই যুদ্ধ দেখে মনে নতুন করে সাহস হয়েছে।

বিজয়ের এই মাসে এমন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এত সুন্দরভাবে জানতে পেরে মন সত্যি ভরে উঠলো। ফেরার সময় বারবার চোখ ভেসে যাচ্ছিল।মুক্তিযোদ্ধাদের চোখে দেখা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দেখাটা ছিল,এই অনুষ্ঠানের খুব সুন্দর পাওয়া। মনে ভাবছিলাম,মানুষকে এইভাবে মূল্যায়ন করার চর্চাটা যদি একদিন বাংলাদেশে এইভাবে অব্যাহত হয়। ভালো হবে। ভালো হওয়াটা আর ভালোবাসতে পারার সংক্রমণটা খুব দরকার আমাদের বাংলাদেশ। তাহলেই সব হবে।সব। প্রার্থনা করি,যেখানে চলে গেছেন সেখানেও নক্ষত্র হয়ে থাকেন আ ফ মমাহবুবুল হক।

ছবিঃ সংগৃহিত