নারীবাদে তত্বের চেয়ে এখন অ্যাকশনই জরুরী

ফারজানা কবির

একজন মহিলার সঙ্গে কথা হতো প্রায়ই । ঘন্টার পর ঘন্টা নারীদের উপর অত্যাচার নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করতেন । পুরুষের কি করা উচিত , নারী কি করলে পুরুষের হাত থেকে বাঁচবে সব বিষয়ে অত্যন্ত আকর্ষনীয় বলে যেতেন ।উনার ভাষ্যমতে এবং আমিও সহমত যে মাইন্ড সেট আপ একটা গুরত্বপুর্ন বিষয় ।আর সেই সেট আপ শুরু করা উচিত বাচ্চা কাল থেকে সেটাও তিনি জোর দিতেন। তার পুত্র সন্তান আছ । একদিন প্রসঙ্গক্রমে তাকে জিজ্ঞেস করলাম , ‘আপনি আপনার পুত্রকে কি শিক্ষা দেন এবং কিভাবে দেন ? উনার উত্তর শুনে আমি যারপর নাই আশ্চর্য্য হলাম । উনি বললেন , এখন কি শিক্ষা দিব ! বড় হলে সব শিখে যাবে । এরপর তার সঙ্গে এইসব আলোচনায় আমি উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলাম ।

তবে পরে খেয়াল করলাম , প্রায় সব নারী পুরুষের ক্ষেত্রে এই প্রতারণাটা সত্য্। তারা বলতে এবং লিখতে পছন্দ করে কি্ন্তু করতে পছন্দ করেন না । পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে তার মধ্যযুগীয় চিন্তা ভাবনায় বিশ্বাসী । তারা তাদের পুত্র সন্তানদের ঘরের কাজে অংশ গ্রহন করাবে না । সবচেয়ে বড় কথা তারা সব সময় দেখে পরিবারের পুরুষ কর্তা টি সমানে নারীকে দ্বিতীয় শ্রেনি হিসেবে ব্যবহার করছে । নারীও আরো সমান উৎসাহে মেনে নিচ্ছে । কোন কোন ক্ষেত্রে এটাও দেখা যায় নারী সব সময় পুরুষের ভয়ে ভীত থাকে । আমার খুব অবাক লাগে যে তারা ভয়ে ভয়ে সংসার করে যায় । এই ভয় শুধু বাড়ীর কর্তা পুরুষের জন্য , এটা সমানতালে নিজের পুত্র সন্তানের জন্য থাকে। গ্রামের অশিক্ষিতদের মধ্যে এমনও দেখা যায় , একটা বয়সে নারীরা তার পুত্র সন্তান কে কিছু বলতে হলে লজ্জা পায় । এই লজ্জার বিষয়টা আমি কখনই বুঝতে পারবো না ।

এর মধ্যে , অপু বিশ্বাসের ঘটনায় বুঝতে পারলাম তথাকথিত প্রগতিশীল নারীরা নতুন বোতলে পুরানো মদ । আগে যেমন সব ঘটনায় নারীদের দোষ দেয়া হতে। তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ত তাদেরকে অপরাধী করে তেমনি ঘটেছে অপু বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ।নারীরা মিলে বলতে শুরু করলো , সে কেন শক্ত হলো না । সে এখনও কেন লাথি মেরে চলে আসলে না | সে এরকম নায়িকা হয়েও কেন এরকম বিয়ে করলো ।কিন্তু শাকিবও নিয়ে একটা শব্দ ব্যাবহার করলে। অথচ পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় শাকিব সেটাই করছে যেটা আর পুরুষের যুগ যুগ ধরে করে ।এই সময় নারীদের উচিত ছিল অপুর পাশে দাড়ানো । একটা নারী একটা বিপদে আছে । তার প্রতি নারীদের আরো সহানুভূতি থাকবে প্রগতিশীল নারীদের উচিত ছিল তার পাশে দাড়িয়ে তাকে এই অবস্হা থেকে বের করে নিয়ে আসা। সেটা না করে সেই ব্লেইম গেম এর ভিকটিম হতে হলো অপুকে এবং তা নারীদের দ্বারা । এর শেষ কোথায় ? কবে নারীরা বুঝবে ক্ষমতা তাদের হাতে এবং তা ব্যবহার করতে জানতে হবে । সেটা সম্ভব এক নারীর কাছে আরেক নারীর সহোযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া । পুরষদের চিন্তা ভাবনা থেকে নারীকে বের হতে হবে । এটা শুধু বললেই হবে না । হাজার বছরের চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি শুধু চর্চার মাধ্যমেই সম্ভব । আর সেটা আমাদের এখনই শুরু করতে হবে ।

আরো একটা ব্যাপার লক্ষ্য করা যায় যে সোশ্যাল মিডিয়া আসার পর এক শ্রেনীর নারী/ পুরুষ শুধু খ্যাতি পাবার আশায় নারীবাদ্ নিয়ে শুধু তত্ত্বগত আলোচনায় সীমারেখায় আবদ্ধ করে ফেলেছে । অথচ নারীবাদে তত্বের চেয়ে অ্যাকশন টা জরুরী ।

যা বলছিলাম , মাইন্ড সেট আপ । ছোটবেলা থেকে পুরুষ ও নারীকে যদি এরকম শিক্ষা দেয়া যায় যেটা সহনশীলতা শেখায় , এক সংগে দায়িত্ব নেয়া শেখান হয় তাহলে পরিবর্তন আসতে বাধ্য ।

ছবি:অনিরুদ্ধ দাস