বন্ধুরাই হলো জীবনে আসা শীতকালের মধ্যে রোদ্দুরের আশ্বাস!

অদিতি বসু রায়

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ইদানীং কোন পোশাকই ঠিকঠাক ফিট করে না। আলমারি খুলে শাজাহানের মত তাকিয়ে থাকি, বেহাত সাম্রাজ্যের দিকে! সেদিন রবীন্দ্র-ওকাকুরা ভবনে যাওয়া! কী করা যায়? গাউন বা ফ্লেয়ারড কাটের যে সব কুর্তা পরে আনারকলির মত ঘুরি তা গায়ে দিয়ে কবিতা পড়তে গেলে কি সমাজ আমাকে মেনে নেবে? এই সব দ্বিধা-দ্বন্ধের মাঝে মনে পড়ল, দেবর্ষির একটা পাঞ্জাবি দিয়েছিল দীপান্বিতা। সে পাঞ্জাবি এতদিন নীচের তাকে মুখ লুকিয়ে ছিল । ইউরেকা বলে, বের করে পরে ফেলে দেখি, কাঁধের কাছটা দেখে মনে হচ্ছে হ্যাঙ্গারের ওপর ঝুলছে। ঝুলেও সে মোটামুটি হাঁটু-ফাটু ছাড়িয়ে পাড়ি দিয়েছে গোড়ালির কাছাকাছি। যাইহোক ঢোলা জামা ঢাকতে একখান শাল নিয়ে নিলুম। বেশ সাহিত্যিক টাইপ ভাবও এসে গেল। তবু ঘ্যানঘ্যান করে যাচ্ছি ! বাপ্পা গাড়িতে উঠে জিজ্ঞেস করল, ” রিপেন্ট করে যাচ্ছ এখনও জামা নিয়ে?” –
“মোটেও না। শাল নিলাম কী করতে তাহলে?’
-“তবে দয়া করে থাম।”
এই হার্টলেস মক্কেলের দিকে আর তাকাব না ঠিক করে নিলুম।
এখন আর সে দিন নেই, যে তেজ করে নেমে পড়ব মাঝরাস্তায়।
সেখানে গিয়ে পড়তে, সে কেটে পড়ল।
আমি হলে ঢুকে পড়ে আবার বেড়িয়ে এলুম।
তানিয়া, বিপ্লব, সাম্রাজ্ঞী, অরুণাভ, বিনায়কদা হাজির ।
ব্রিগেড চলল লিকার চায়ের খোঁজে।
এক চা-বক্রেতাকে পাকড়াও করে সবে সাম্রাজ্ঞী ফিরিস্তি দিতে শুরু করেছে- ” পাঁচটা লিকার চা। দুটো চিনিছাড়া, তিনটে চিনি দিয়ে আর…”
-“দিদি, এখানে লিকার চা নেই। আগে দেখুন”।
আগেও কোথাও লিকার চায়ের দেখা মিলল নাই।
আছে বিস্কফার্ম। ষাট টাকা কাপ চা।
চল! যাই!
সাম্রাজ্ঞীর খিদে পেয়েছে, আমার তো সারাক্ষণই খাইখাই আজকাল!
চায়ের সঙ্গে স্যান্ডউইচ আর আমি নিলাম প্রজাপতি বিস্কুট। কারণ, আমি বরাবর অন্যরা যা অর্ডার করে, সেটা এড়িয়ে চলি। আর খাবার প্লেটে আসার পর সকরুণ নয়নে অনুভব করতে বাধ্য হই – আমারটা নয়, পাশের জনেরটাই ভাল ছিল। তবু একই রিপিটেশন চলে- ওই যে স্বভাব যায় না নাকি একটা প্রবাদ বাক্য আছে না? তো সেদিন বিস্কুট খেতে খেতে টেবিলে গুঁড়ো ছড়িয়ে, মুখে মেখে, শালে ফেলে যা করলাম – তা তানিয়াই ভাল বলতে পারবে।
ফিরে গিয়ে কবিতা পড়া।
হাহা-হিহি-হোহো।
চৈতালিদি, সাম্রাজ্ঞী, আমি একসঙ্গে ফেরার পথে।
ছবি তোলা হলো কই?
আমি ইতিউতি মনোমত সেলফি-জোন খুঁজছি-
সাম্রাজ্ঞী চেঁচাতে লাগল,
” ওই দেখ, শোভনসুন্দরদা এসে গেছে। দাঁড়াবে কোথায়? তুই উঠে পড়”।
পাগল নাকি, ছবি না তুলেই?
ও যেখানে পারে, পার্ক করবে এখন। হুঁহ!
পার্ক-টার্ক করে সে দেখি বীরদর্পে এগিয়ে আসছে।
চৈতালিদি প্রস্তাব দিলেন,
-” শোভন তুলে দিক বরং ছবি”।
আমি তো জানি – ছবি তুলতে গেলে হয়ে গেল!
স্মার্ট ফোনে ও যে কি করে ব্লার্ড ছবি তোলে- সে এক রহস্য।
যাই হোক, আমি বরের মান-সম্মানের তোয়াক্কা না করেই চিৎকার করতে লাগলাম,
“ও পারবে না “- বলে।
সঙ্গে সঙ্গে চৈতালিদি উবাচ,
“টিপিক্যাল বউয়ের মত করিস না তো! ছবি তুলতে পারবে না, আবার কী”!

ভেতরের ছবিগুলো দেখেই এবার চৈতালিদি বুঝতে পারবে, কি জিনিস উঠিয়েছে সে!
এদিকে মোদ্দা কথাটা হল, আমার মেটারনিটি পোশাকের স্পনসর পেয়ে গেছি- দেবর্ষি থাকাতে আর চিন্তা নেই।
আর বন্ধুরাই হল,জীবনে আসা সব শীতকালের মধ্যে রোদ্দুরের আশ্বাস!
না, সেদিনের কবিতা পড়া নিয়ে কিছু লিখছি না!

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে