সুন্দরী ও রাজনীতি

রাজনীতি বরাবরই খটমটে ব্যাপার। সেখানে হিসাব, মেরুকরণ আর নানা কৌশলের খেলা চলে নিরন্তর। অলিখিত নিয়মের মতো ধরেই নেয়া হয় এই কূটকৌশলের জায়গায় নারীর প্রবেশ একরকম সীমিতই। কিন্তু তারপরেও গোটা বিশ্বের রাজনীতির পাল্টে যাওয়া আবহে নারীরা যুক্ত হচ্ছেন। অতীতেও হয়েছেন। তোদের কেউ কেউ বেশ কঠিন হাতেই ধরেছিলেন রাজনীতির পাগলা ঘোড়ার লাগাম।কিন্তু এই বদলে যাওয়া পৃথিবীতে নারীদের রাজনীতিতে আসার প্রবণতা বেড়েছে। তাদের কেউ কেউ রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েও মাঠে নামছে। আবার অনেকে আসছে নিজের সৌন্দরয আর আকর্ষণ ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সাময়িক সুবিধা ঘরে তুলতে। ক্ষমতার এই মোহন পারদ বলকে দখল করতে তাদের এই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে এমন নয়। তাদের কেউ ছিটকে পড়েছে দুর্নীতির অভিযোগে, কেউ আবার বিতর্কিত হয়েছে রাষ্ট্রপ্রধানের রক্ষিতা বনে গিয়ে। আবার সাবেক মডেলিং পেশা নিয়েও বিপদে পড়েছে কেউ।
সম্প্রতি স্টোরি টেলার নামে একটি অনলাইন পত্রিকায় সম্প্রতি এধরণের আলোচিত, সমালোচিত দশ নারীকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ভাঞ্জা হাজোভিক
ভাঞ্জা হাজোভিক সারবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন এখন। পেশায় কূটনীতিক এই নারী সম্প্রতি মেয়েদের অন্তর্বাসের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে মহা হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করে তার অন্তর্বাসের মডেল হয়ে যাওয়াটা দেশটির রাজনৈতিক মহল মোটেই ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। তবে এতে অবশ্য এখনো চাকরি হারাননি এই নারী।

এলিনা কাবায়েভা
সুন্দরী এবং আকর্ষণীয় এলিনা কাবায়েভার জন্ম রাশিয়ায়। শুরুতে জিমনাস্টিকস পেশার সঙ্গে জড়ালেও পরে চলে আসেন রাজনীতিতে। রুশ দেশের রাজনীতির হাওয়ায় নিজের রূপকে ব্যবহার করে বেশ দ্রুতই ক্ষমতার সিঁড়ি ভাঙ্গতে শুরু করেন এলিনা। কিন্তু নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করে তার বিরুদ্ধে। শোনা যায়, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ঠ জন। আর তাতেই এই নারীর রাজনৈতিক সম্ভাবনার দরজায় পড়ে কাঁটা।

 

 

 

নিকোলি মিনোত্তি
নিকোলি মিনোত্তি ইতালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে পা রাখার জন্য ভালোই তোড়জোড় শুরু করেছিলেন। কিন্তু গোড়াতেই বাধলো গন্ডগোল। খবর ফাঁস হয়ে গেলো পেশায় সাবেক মডেল নিকোলি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেরলুসিকোনিসের বিশেষ প্রমোদ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সী নারীদের পৌঁছে দেয়ার কাজটি করছেন বেশ অনেকদিন ধরে। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই নিকোলির স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়েছে। রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।

 

অ্যানা মারিয়া গালোজান
অ্যানা মারিয়া এস্তোনিয়া নামে দেশটির বেশ আলোচিত এক নারী চরিত্র। ২০০১৪ থেকে ১৫ সালে এস্তোনিয়ার রিফর্ম পার্টির যুব অংশের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েও জয়ী হতে পারেননি অ্যানা মারিয়া। এর একটি বড় কারণ ছিলো এস্তোনিয়ার প্লে বয় পত্রিকায় মডেল হিসেবে তার ছবি ছাপা হয়েছিলো। তবে রোজনীতিতে অসফল হওয়ার পেছনে আরেকটি বড় কারণ ছিলো অর্থনৈতিক অসাধুতা। ২০১১ সালে একটি এনজিও সংস্থার তহবিল থেকে ৬০ হাজার ইউরো তছরুপ করার দায়ে অ্যানা মারিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়। কিছুদিন লন্ডনে পালিয়ে থাকলেও শেষ পরযন্ত এই আলোচিত, সমালোচিত নারীকে তার দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সেখানে তার ভাগ্যে ছিলো কারাপ্রাচীর।

 

ইভা কাইলি
ইভা কাইলি গ্রীক দেশীয় কন্য। নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে। ২০০৭ থেকে ১৪ সাল পরযন্ত ইভা ইতালীর মেগা চ্যানেল নামে একটি টিভি চ্যানেলে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। ইভ নানা কারণে রাজনীতির জগত থেকে পা পিছলে পড়া নারীদের মতো নন। ২০০৯ সালে তিনি গ্রীসের হেলেনিক পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে হাতেখড়ি ইভা কাইলির। এখন রাজনৈতিক দক্ষতার কারণে ইউরোপের রাজনীতির মাঠেও ক্রমশ পরিচিত হয়ে উঠছেন তিনি।

মারিয়া কারফানগা
মারিয়া কারফানগাকে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী মন্ত্রী। মারিয়ার জন্ম ইতালিতে ১৯৭৫ সালে। এক সময় পেশায় ছিলেন মডেল। ওই পেশা থেকেই রাজনীতিতে আসা। বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলেও কাজ করেছেন তিনি। নিয়েছেন আইন বিদ্যায় ডিগ্রী। পর্ণোগ্রাফী ছবির জগতে খ্যাতিমান পরিচালক টিন্টো ব্রাস একবার তার রূপে মুগ্ধ হয়ে তার ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মারিয়াকে। মারিয়া অবশ্য সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে মডেল থাকা অবস্থায় মারিয়া যথেষ্ট খোলামেলা হয়ে ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হতেন। ‘ম্যাক্সিম’ পত্রিকা তাকে পৃথিবীর সবচাইতে হটেস্ট পলিটিশিয়ানের উপাধি দিয়েছে।

 

কুইন রানিয়া
প্যালেস্টাইনি বংশোদ্ভূত রানিয়ার জন্ম কুয়েতে। কাজের খোঁজে এসেছিলেন জর্ডানে। সেখানেই পরিচয় হয় সেখানেই পরিচয় হয় যুবরাজ আবদুল্লাহ‘র সঙ্গে। তারপর ১৯৯৩ সালে বিয়ে। আবদুল্লাহ এখন জর্ডানের রাজা। রানি রানিয়া স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্র ঋণ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে এখন কাজ করছেন জর্ডানে। তার ফেসবুক, টুইটার ও ইন্সটাগ্রামে অ্যাকাউন্ট আছে।

অর্লে লেভি
অর্লে লেভির রাজনৈতিক উত্থান আবার একটু ভিন্নরকমের। ইজরাইলের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডেভিড লেভির কন্যা তিনি। চাকরির সূত্রে কাজ করেছেন ইজরাইলের বিমান বাহিনীতে। এর আগে অবশ্য তিনিও অন্যদের মতো মডেলিং পেশায় ছিলেন। ছিলেন টেলিভিশনেও। পরে রাজনীতিতে এসে দ্রুত উত্থান ঘটে লেভির। তিনি ইজরাইলের সংসদ নেসেটেরও একজন সদস্য। চার সন্তানের জননী লেভি অবশ্য গত বছর তার পার্টি ইজরায়েল বেটিনিউ থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এখন তিনি নেসেটের একজন স্বতন্ত্র সদস্য।

রুবি ডালহা
রুবি ডালহা একজন ভারতীয় শিখ। কিন্তু কানাডার নাগরিক হিসেবে ২০০৪ সালে সেখানকার হাউজ অফ কমন্সের সদস্য নির্বাচিত হন লেবার পার্টির পক্ষ থেকে। কিন্তু মায়ের জন্য অবৈধভাবে দুজন সেবাপ্রদানকারী নিয়োগ দিয়ে অভিযোগের মুখে পড়েন তিনি। আর তখনই তাকে ছেড়ে আসতে হয় রাজনীতি।অনেকে বলেন, রুবির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আসলে ছিলো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।

 

 

লুইসিয়ানা লিওন
লুইসিয়ানা লিওন পেরুর প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা রামুলো লিওনের কন্যা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাবার হাত ধরেই রাজনীতির অঙ্গনে তার পদচারণা। সেই সময়েই লিওন পেরুর অ্যাপ্রিসেটা পার্টির যুব অংশের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল পর‌যন্ত তিনি পেরুর যোগাযোগ ও পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি পেরুর তেল কেলেংকারির এক অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তার বিরুদ্ধে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আসে এক অজ্ঞাত ই-মেইল থেকে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ স্টোরি টেলার, অনলাইন ম্যাগাজিন