সেলফি হচ্ছে সেলফাইটিস রোগ

অনেকদিন ধরেই চিকিৎসকরা বলছেন সেলফি তোলা এক ধরণের অসুখ। ভেসে বেড়ানো এই অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি ভারতে একদল গবেষক গবেষণা চালিয়েছেন। আর সেই গবেষণায় বের হয়ে এসেছে মোবাইলে সেলফি তোলা এক ধরনের মানসিক অসুখই। এবং তা নিরাময়ের জন্য সঠিক চিকিৎসা দরকার।

রাস্তাঘাটে হোক কিংবা একা একা, যে কোনও মুহূর্তে সেলফি এখন অবশ্য কর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।  বন্ধুদের আড্ডা হোক বা বিয়েবাড়ি, সেলফি না তুললে সে আয়োজন যেনো অসম্পূর্ণ থেকে যায়।  বর্তমান সময়ে সেলফি আমাদের জীবনে এক স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু আসলে বিষয়টি মোটেও স্বাভাবিক নয়। ভারতের গবেষকরা বলছেন, একধরনের অবসেসিভ ডিসঅর্ডারের জেরেই এই সেলফি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এবং তা এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে, বিপজ্জনক সেলফি তোলা থেকেও বিরত হচ্ছে না মানুষ। আর তাতে ঘটছে প্রাণহানি।

বেশ কিছুদিন আগে খবর শোনা গিয়েছিলো আমেরিকার গবেষকরা সেলফি তোলাকে মানসিক ব্যাধি বলে চিহ্নিত করেছেন। পরে অবশ্য জানা যায়, খবরটির তেমন সত্যতা নেই। কিন্তু গবেষকরা তাদের অনুসন্ধান বন্ধ রাখেননি। আর তাই ইংল্যান্ডের নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং তামিলনাড়ুর থিয়াগারাজার স্কুল অফ ম্যানেজমেন্টের গবেষকরা যৌথভাবে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। স্থান হিসেবে বেছে নেওযা হয় ভারতকেই। কারণ এখন ভারতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচাইতে বেশি। সেলফি তুলতে গিয়ে সে দেশেই মানুষের মৃত্যুর হারও বেশী। তাই নির্বাচিত জনগণদের উপর সমীক্ষা চালিয়েই এই মানসিক অসুখের কারণ জানতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। অনুসন্ধানে মিলেছে উত্তর। রোগটির নাম, তাঁদের মতে সেলফাইটিস। এবং তার বেশ কয়েকটি ধাপও আছে। তারা বলছেন, দিনে যারা তিনটে করে সেলফি তোলেন এবং প্রত্যেকটিই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, তাঁরা অ্যাকিউট সেলফাইটিসে আক্রান্ত। আর ঘণ্টায় ঘণ্টায় যদি কেউ সেলফি তোলেন, আর তা পোস্ট করতে থাকেন, তবে তিনি ক্রনিক সেলফাইটিসে আক্রান্ত। সেক্ষেত্রে এই ধরনের রোগীরা দিনে অন্তত ছটি করে সেলফি তোলেন। কেন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ? জানা যাচ্ছে, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, সামাজিকভাবে নিজেকে সংযুক্ত রাখা, বা নিজের পরিপার্শ্বের রেকর্ড রাখার তাগিদেই এই কাজ করে চলেন। অনেকে আবার মুড ভাল রাখার উপায় হিসেবে কাজটি করে থাকেন। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন সামাজিক বিচ্ছিন্নতাই মানুষকে আসলে ঠেলে দিচ্ছে সেলফির দিকে।

তবে এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানতে চান, ঠিক কী কারণে এরকম একটি ব্যবহারিক বিকৃতি বা অবসেসিভ ডিসঅর্ডারে স্বীকার হচ্ছে মানুষ।

স্বাস্থ্য ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ ইন্টারনেট