ঠাকুরমার ঝুলি ইংরেজি ভাষায়

হ্যারি পটার দুনিয়া কাঁপিয়েছে। এবার পটার-গল্পের পাশে বুকটান করে দাঁড়াতে আসছে আমাদের লাল কমল, নীল কমলের গল্প, ডালিম কুমারের অ্যাডভেঞ্চার। ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিক শিশু সাহিত্যের দরবারে হাজির হচ্ছে আমাদের আদি ঠাকুরমার ঝুলি।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

এই দারুন গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে ফেলেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক মনোবিজ্ঞানী পিয়াষ নন্দী। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের এই অমর সৃষ্টির মধ্যে শিশুদের জন্য এক অদ্ভূত পৃথিবী আছে আর সে পৃথিবী স্বপ্ন তৈরী করতে পারে। অনুবাদের কাজে হাত দেয়ার আগে এমনটাই ভেবেছিলেন পিয়াষ। আর এই উৎসাহ থেকেই অনুবাদের কাজের শুরু।
কলমের জাদুতে রূপকথা আর অ্যাডভেঞ্চারের মিশেল দিয়ে শিশুদের জন্য এই গল্পগুলো লিখেছিলেন দক্ষিণারঞ্জন। ১৯০৬ সালে যার প্রথম আত্মপ্রকাশ। তারপর থেকে এতগুলো বছর মূলত বাংলা ভাষাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে রাক্ষস-খোক্কস, ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমীর গল্প। কিন্তু আমেরিকায় বসে অন্য রকম ভাবনা ভেবেছিলেন প্রবাসী বাঙালি পিয়াষ নন্দী। সেখানে বসেই কাজ করছিলেন। পরে কলকাতায় ফিরে শেষ করেন পুরো বইয়ের অনুবাদের কাজ। বইটি প্রকাশিতও হলো কিছুদিন আগে।
আজকের ডোরেমন পোকেমনের যুগে রাজপুত্র-রাজকন্যার রূপকথা দারুণভাবে টানে পিয়াষকে। সেই ভালবাসা থেকেই ঠাকুরমার ঝুলির ইংরেজি অনুবাদে হাত দেওয়া।
কলকাতার ভট্টাচার্য্ অ্যান্ড সন্স থেকে প্রথমবার প্রকাশিত হয় ঠাকুরমার ঝুলি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন। ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ প্রকাশের পর একে একে দক্ষিণারঞ্জনের অনেক বই প্রকাশিত হতে থাকে। তার প্রতিটি বই-ই বাংলা সাহিত্যের অক্ষয় সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত। উত্থান এবং ঠাকুরমার ঝুলি ছাড়া তার যেসব বই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সেগুলো হলো- আর্যনারী (প্রথম ভাগ ১৯০৮, দ্বিতীয় ভাগ ১৯১০), চারু ও হারু (১৯১২), দাদামশায়ের থলে (১৯১৩), খোকাখুকুর খেলা (১৯০৯), আমাল বই (১৯১২), সরল চন্ডী (১৯১৭), পুবার কথা (১৯১৮), ফার্স্ট বয় (১৯২৭), উৎপল ও রবি (১৯২৮), কিশোরদের মন (১৯৩৩), কর্মের মূর্তি (১৯৩৩), বাংলার সোনার ছেলে (১৯৩৫), সবুজ লেখা (১৯৩৮), চিরদিনের রূপকথা (১৯৪৭), আশীর্বাদ ও আশীর্বাণী (১৯৪৮) ইত্যাদি।

সাহিত্য ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ২৪ ঘন্টা কলকাতা
ছবিঃ গুগল