তুরস্কে পুরস্কৃত বাংলাদেশের অ্যা পেয়ার অফ স্যান্ডেল

সিনেমার ব্যাপ্তি ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ড। কিন্তু হত্যা, নির্যাতনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারানো এক জনগোষ্ঠীর বেদনা গভীর নৈঃশব্দের ডানায় ভর করে যেন ধরা পড়লো ক্যামেরায়। শরনার্থী মানুষের হাহাকার ছড়িয়ে পড়লো বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বসভায়।

গণহত্যা আর  শিকার হয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এই আশ্রয় নেয়া মানুষদের ওপর পরিচালক জসিম আহমেদ নির্মাণ করলেন  প্রামাণ্যচিত্র ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল’। আর এই ছবিটি তুরস্কের আনকারায় হাক-ইস স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতলো। ছবিটি নির্মাণের জন্য জসিম আহমেদ সেরা পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। গত বুধবার (২০ ডিসেম্বর) আনকারার হিলটন গার্ডেন ইন হোটেলে সমাপনী আয়োজনে তার হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়।

উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নেয় জসিম আহমেদের সিনেমা। তুরস্ক সরকারের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজক।  পৃথিবীর ১২৪টি দেশ থেকে ৫ হাজার ৪০৪টি ছবি জমা পড়ে এবারের উৎসবে। এর মধ্যে ছিল তুরস্কের ৫৬২টি, ভারতের ৫৬২টি, আমেরিকার ৫০০টি, ইরানের ৪৪৮টি, ইতালির ২৪৮টি, স্পেনের ২৪৭টি, ব্রাজিলের ২২৮টি, ফ্রান্সের ২২৬টি, রাশিয়ার ১১৯টি, জার্মানির ১২৬টি, কানাডার ১২৫টি, আর্জেন্টিনার ১২২টি, অস্ট্রেলিয়ার ৮৪টি, মেক্সিকোর ৭৬টি, পর্তুগালের ৭১টি, মিশরের ৫৮টি, পোল্যান্ডের ৫৪টি, গ্রিসের ৪৯টি, তাইওয়ানের ৩৯টি ও বাংলাদেশের ২টি ছবি।
পুরস্কার জয় করে আনন্দিত জসিম প্রাণের বাংলাকে বলেন, একটি জনগোষ্ঠীর দুঃখ আর বেদনাকে তুলে ধরতেই ছবিটি তৈরী করেছি। পাশাপাশি এই রোহিঙ্গা সংকটও আমার ছবিতে স্থান পেয়েছে। আজকে একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি ভীষণ ভাবে গর্বিত। আমার দেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা সফল হলো আমার।’

তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে মাত্র দুটি সিনেমা এই উৎসবে জমা পড়ে। দুটি ছবির মধ্যে ‘অ্যা পেয়ার অফ স্যান্ডেল’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১১টি ছবির তালিকায় চলে আসে।

এর আগে ইতালির নেপলস মানবাধিকার চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নেয় ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল’। ন্যাপোলিতে ৬ থেকে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।
এই প্রামাণ্যচিত্রের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে— ওপরের দিকে তুলে ধরা একজোড়া স্যান্ডেল কাকে দেখাচ্ছে একটি রোহিঙ্গা শিশু? মিয়ানমার সরকার ও সামরিক বাহিনীকে? নাকি রাশিয়া, চীন ও ভারতসহ পরাশক্তিদের, যারা ব্যবসায়িক স্বার্থে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গণহত্যাকে অন্ধভাবে সমর্থন করছে? নাকি গোটা পৃথিবীর সবাইকে- যারা নৃশংস গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ দেখেও চুপ করে বসে আছে?

৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ড ব্যাপ্তির ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল’ পুরোটাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন নির্মাতা জসিম আহমেদ। একটি শরণার্থী দলের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়াকে ঘিরে গল্প শুরু হয়। শেষে দেখা যাবে শরণার্থীদের আরেকটি দল আসছে ক্যাম্পে। ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও শব্দসজ্জা করেছেন রিপন নাথ। পাণ্ডুলিপি লিখেছেন ফরিদ আহমেদ।
জসিম আহমেদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত তার স্বল্পদৈর্ঘ্য ফিকশন ছবি ‘দাগ’ এর আগে অংশ নিয়েছে ৭০তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের শর্ট ফিল্ম কর্নারে। এটি এখন যুক্তরাজ্যভিত্তিক শর্ট ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে আমেরিকার মূলধারার টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে।  ইউরোপের টেলিভিশনে ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিটির প্রিমিয়ার হয়।

বিনোদন ডেস্ক