আজ হবে উল্লাস…

 

আবিদা নাসরীন কলি: আজ ২৫ ডিসেম্বর,বড়দিন।আমাদের সবার দাদা সঞ্জীব চৌধুরীও পৃথিবীতে এসেছিলেন আজ।দাদা রোজইতো কথা হয় আপনার সঙ্গে।হাজারো তারার সঙ্গে বড় জ্বলজ্বলে আপনি।এখনও সবার মধ্যমনি।কোন লেখা সম্পাদনা করতে গেলেই আপনি সামনে এসে দাঁড়ান।বলেন, ‘সাথে শব্দটা কেন তোমরা লেখো?ওটা সঙ্গে হবে।সাথে শব্দটা হলো সাধুভাষা, কথ্য হলো সঙ্গে।’ দাদা আপনার এই কথাটাই সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় সেদিন তাঁর একটা সাক্ষাৎকারে বলেছেন-পড়ে বড্ডো মনে পরেছে আপনাকে।আর বড়ো বিরক্ত হতেন ‘সখ্যতা’ শব্দটা দেখে।বলতেন,‘অনেক বড় বড় লেখকরাও এই ভুলটা করে। এ হবে ‘সখ্য’।’ সব সব সব মনে আছে দাদা।বড়ো বড়ো বাক্য আপনার একেবারে পছন্দ ছিলোনা।তাই ছোট ছোট বাক্য দিয়ে লেখা তৈরী করা শেখার জন্য সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লেখা পড়তে বলতেন সকলকে।মনে মনে ভাবতাম নিশ্চয়ই তিনি আপনারও প্রিয় লেখক।গোপনে একদিন স্বীকারও করেছিলেন-‘লোকটা বড্ড রসিক।’

এখন মেঘেদের দেশে সবাই আপনার কাছ থেকে অনেক অনেক কিছু শিখে নিচ্ছে।আমার বড্ডো হিংসে হয়।সে দেশেও কি পেয়েছেন আমাদের মতো এত্তো এত্তো ভালোবাসার মানুষ? আকাশের ওপারে  কি আছে? নির্জনতা নাকি কোলাহল? কোনটা আটকে রেখেছে আপনাকে।নাকি দূর থেকে আমাদের দেখেন আর হাসেন।বলেন, ‘দেখ আমাকে ছাড়া তোদের কেমন লাগে?’ ভালো লাগেনা। মোটেও ভালো লাগেনা দাদা।এখনো আপনার বাহিনীর কোন আড্ডায় অনেকটা জায়গা জুড়ে আপনি আছেন।থাকবেনও চিরটাকাল।

বৌ-বাচ্চার সঙ্গে

শীতকালে আপনার সঙ্গে বড়ো কম দেখা হয়।এ যেন আপনার অলস সময়, সন্ধ্যার পরই কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়েন।দ্যূতি ছড়ানো তারাটা তাই রাতের আকাশে আর চোখে পরেনা।

সকালে পান্তাভাত খাওয়া কি ছেড়ে দিয়েছেন? তাহলে কি দিয়ে নাস্তা করেন? মেঘের হাওয়াই-মিঠাই নাকি চাঁদে ঝলসানো রুটি? ঈদের পরদিন বেলা ১২টায় পান্তাভাত আর গরুর মাংস খেতে  এখন কেউ আসেনা। কেউ বলেনা ‘মনে আছে তো সঙ্গে পোড়া মরিচও যেন থাকে।’ সত্যি সকালে আমি আপনাকে খুঁজি, কিন্তু সূর্যের আলোটা যে বড়ো প্রখর তখন আপনাকে আড়াল করে দেয়।রাতে ঠিক আপনি তাকিয়ে হাসেন-‘কেমন ফাঁকিটা দিলেম।’আমার অনেক রাগ হয় দাদা।আপনি তো এমন ছিলেন না।এখন বড়ো বেশি স্বার্থপর হয়ে গেছেন।

ঘন্টা ধরে রিক্সা চড়াটা আপনার কাছেই শিখেছিলাম।এখন ঢাকা শহরে রিক্সা চড়াটাও…।সালাদিয়া হোটেলে খাওয়াও প্রথম আপনারই সঙ্গে।মাঝে মাঝে সঙ্গে জুটে যেত কোন উটকো কেউ।এড়ানো সম্ভর হতোনা।

আপনার শিল্পী এখন পুরোদস্তুর মাষ্টারনী।কিংবদন্তী হাতে-পায়ে অনেক বড়ো হয়ে গেছে।ওরা প্রতি বছর আপনাকে গিয়ে দেখে আসে।আপনি বড়ো অ-মিশুকে হয়ে গেছেন।শত ডাকেও রা করেন না।

রাসেলটা কি করছে তা-ও নিজেও হয়তো জানে না।তবে আপনার খবর ঠিকই আছে ওর কাছে।কিন্তু আপনি কেন অভিমান করে এত দূরে সরে আছেন? আমাদের থেকে মেঘেদের রাজ্য কি অনেক ভালো? আমরা কি তবে আকাশের ঠিকানায় আপনাকে চিঠি দেবো?

আপনার হাতেগড়া ‘পাঠক ফোরাম’এখনও রিপন আগলে রেখেছে।ভোলা’দা, আতিক, কবিতা, কিমি, হারুন, সাগর ভাই, পারভেজ এখনও সময় পেলে বসে পড়ে আড্ডায়।আপনিও সঙ্গে থাকেন। কিন্তু প্রতিবার আমাকে ডাকতে ভুলে যান।মন খারাপ হয় আমার।

জানেন তো জয়া এখন দেশের সীমানা ছেড়ে বিদেশেও পা রেখেছে। এবার কলকাতায় জি-সিনে অ্যাওয়ার্ড পেলো জয়া।আপনি নিশ্চয়ই অনেক আনন্দিত।আমরা সবাইতো আপনারই কমরেড।

বাপ্পাটাও এখন ‘দলছুট’।কথা হয় ফেইসবুকে। জানিনা মনের খবর। গতকাল রাত ১২টায় আমার মতো বাপ্পাও আপনাকে খুঁজেছে আমি বুঝতে পেরেছি। ওর ম্যাসেঞ্জারের সবুজ বাতিটা বড় বেশি উজ্জ্বল হয়েছিলো। যতটা উজ্জ্বল হলে আপনাকে ছোঁয়া যায়।মাঝখানে বাঁধ সাধলাম আমি।আপনার সঙ্গে আমার কথা যে শেষ হতেই চাচ্ছিলো না।

তবে আজ আপনার জন্মদিন। আজ হবে উল্লাস।আসবে সবাই।বাদ পড়বেনা কেউই শবনম, আরিফ, রুমী, বহ্নি, সেতু, শিউলী, সাগর, রবিন, বিপুল, শাহান, জয় আরও আরও অনেকেই।আপনিও কিন্তু বেনজির ভাই, টিপু ভাই, ফারুক ভাই আর শিলাকে আনতে ভুলবেন না যেন।

ছবি: গুগল