জীবনটাতো ওই ফুলদানীর মতোই

লুৎফুল হোসেন

চেনা বালিশে ঘুম ভলো হয় । নিজ বিছানায় নিদ্রা শান্তিময় । অথচ এই আপন ঘরখানায় সুখ-শান্তি কষ্ট করে গড়ে না নিলে বড়ই যাতনাময় ! কি অবাক কান্ড ! যন্ত্রণার লাগি হেলা অবহেলার এক রত্তিই যথেষ্ট । অথচ সুখ-শান্তির লাগি নিত্য দিন হিমালয়ের চূড়ায় ওঠো তো আটলান্টিকের তলা থেকে মুক্তো খুঁজে আনো … এ তো মাত্র গেলো দুই মনের আলাপ … এখনো বাকী আছে আরো আঠারো মন ঘি এর গল্প … তাহলে?সুখের রাধা,শান্তির রাধা, আনন্দের রাধা।

সেই ঘি বানাবার তো ওই একটাই পন্থা ! পোড়াও আর পোড়াও ! দাহে দাহে ! দহনে দহনে ! পুড়িয়ে ভষ্ম করো নিজেকে । দেখবে ওই এক আগুনে কতো সহস্র শিখার কেমন তীব্র নাচন !

অগ্নিদগ্ধ হতে যদি হয় ভয় তবে জলের কাছে যাও । তার অতলান্তে ডুব দাও । সমর্পণের সংক্রান্তি ছুঁয়ে যতোই গভীরে যাবে দেখবে প্রণয়ের সাথীর সঙ্গে ওই বদল করা বেলী ফুলের মালা তোমার গলার সীমান্ত জুড়ে কেমন অনাবিল আনন্দে তা ধিন তা ধিন নেচে যায় ! অনন্ত সখ্যে।

জানি তাতেও তোমার সইবে না । অচিরেই তুমি আবিষ্কার করবে ওই সাধের স্বপ্নমালা তোমার গলায় ফাঁসের মতোন চেপে আসছে । কি কান্ড বলো! তাহলে কার কীইবা করার আছে আর?

তুমি হয়তো মালার স্মৃতিকথা ভেবে ওটা বাদ দেবে।বলবে, জলে আটকা পড়ে মরতে বসেছো ! অথচ এই জলের কাছে সমর্পণের লাগি কতো পথ পাড়ি, কতো কাঠ খড় ! সমুদ্রের সখ্যের লাগি কতো মেঘে বলি দিলে কতো জল?আর এখন ওই মেঘের সীমানা নিয়েও তোমার সাত রাজ্যের অভিযোগ ! তোমার আকাশে কেনো নয় তার একাগ্র নিমগ্ন বিচরণ ! আজ একটু পেঁজা তূলো মন মতোন তো অন্য দিন এমন আঁধার কেনো বিষন্নতার অটোগ্রাফের মতোন?

বলি মেঘের ডানায়ও তবে চাই তোমার জিনির জিন, লাগাম, পরাবার ! তুমি চাইলেই তোমার ছাদ, বাগানে প্রিয় ফুল সমাহার ! জীবন কি কিছুমাত্রও তাই? হোক কি না-হোক তা, খোলা আকাশে রংধনুর দেখা পেতে হলে অমন সব স্বপ্ন সম্ভাবনাই জীবন ক্যানভাস জুড়ে নিত্যদিন তোমার নির্মাণ করা চাই । নচেত মেঘ আর উড়বে তো না-ই বরং মেঘবন্দী আঁধারে প্রাণপাতে জীবনময় বাজবে শুধু দুঃখ সানাই । ওই নির্মাণ শ্রমিক হওয়া তাই তোমার চাই-ই চাই । শুধু কি তাই, দক্ষতায় হতে হবে বাজখাঁই ।

এই যেমন, ফুলদানীতে নতুন ফুল না হলে হররোজ, তাজা ফুলের সুবাস নাই । কথাটা না মানলে অপেক্ষায় দৃশ্যমান মলিন ও ম্রিয়মান পুষ্পস্মৃতি অর্ঘ্যের দেখাই শুধু পাই।বলি জীবনটাতো ওই ফুলদানীর মতোই । সাজাও দিন দিন প্রতিদিন । নিজেকে নিজেই নিত্য করো চমকিত, চমতকৃত । আংশিক-ফাংশিক নয়, জীবন তোমার পুরোটাই রঙ্গিন ।

আর যাকে ভালোবাসো তার সাথে মেঘের গায়ে সূর্যালোকের লুকোচুরি খেলা ! এমনতরো হলোই যদি রাফ রাফটিং জীবন-যাপন ভেলা । তাতেই পারো যদি সাজাও কিছু রংধনূ রঙ খেলা। পারবে না? বোঝো জীবন মানে কতো ধানে কতো চাল । যন্ত্র আর যন্ত্রণার থাকতে পারে কত্তো রকম ঠ্যালা !

ছবিঃ গুগল