বন্ধুত্বের অমল ধবল দিনগুলো এভাবেই কাটুক

সুলতানা শিরীন সাজি, অটোয়া থেকে

 নির্মল আনন্দে পালকী’তে কাটলো একটা সন্ধ্যা।বিশ বছরের বেশি সময় ধরে “উৎসব” শিরোণামে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হচ্ছে অটোয়াতে। প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর এ এই আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবার ২৬ তারিখে হলো।

অনুষ্ঠানে গানের শিল্পী ছিল আমাদের অটোয়ার খুব প্রিয় মুখ, আশেক বিশ্বাস আর মন্ট্রিয়ল থেকে আগত দেবপ্রিয় কর রুমা। আশীক দেশের গান, সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তে তুমি দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন।এরপর অনেক গান করেন। যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে জীবনে অমর হয়ে রয়, তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে ফুল নিতে আসতে,শোন গো দখিন হাওয়া প্রেম করেছি আমি,দুরন্ত ঘূর্ণির ওই লেগেছে পাক, ওই দূর, দূর দূরান্তে , রসিক আমার মন বান্ধিয়া, ওরে নীল দরিয়া, কেমনে ভুলিবো আমি, চেনা চেনা লাগে, দিন দিনান্তে নীল নীলান্তে থেকে সহ আরো কত অসংখ্য গান গাইতে গাইতে দিন যায় কথা থাকে তে এসে থামেন।

কিন্তু থামবেন কি করে ? বন্ধুরা সব ঘিরে,কেউ গান থামতে দিচ্ছিলো না।গানের সঙ্গে চলছিল আমাদের সবার নাচ।আশীক বেশ কিছু জনপ্রিয় হিন্দী গা্ন ও করেন।অনেক দিন পর আশীকের গাওয়া অপূর্ব সব গান শুনে সবাই খুব আনন্দ পায়।সেকারনেই মনে হচ্ছিল চলুক অনেক সময় ধরে।

আশীকের পর পরই রুমা, সুন্দর সুবর্ণ থেকে শুরু করে,বঁধুয়া আমার চোখে জল এনেছে, গাড়ি চলেনা গাড়ি চলেনা, আমার ঘুম ভাঙাইয়া গেলোরে পাড়ার কোকিলে, রুমা তার স্বামী মৃণাল পিঙ্কুর সঙ্গে কয়েকটি ডুয়েট গান করেন।
আমি রুমার গানের পর পরই আমার নিজের লেখা একটা কবিতা আবৃত্তি করি।
অনেকদিন পর অটোয়ার কিছু সুন্দর ,সংস্কৃতমনা মানুষের সঙ্গে অদ্ভুত একটা সন্ধ্যা কাটে। অনেক সুন্দর গান,চেনা মানুষদের সঙ্গে আড্ডা।ইচ্ছে করছিল চলুক এই আড্ডা। পালকীতে সুন্দর ডিনার আয়োজন ও ছিল। দেওয়ান শাহীন চৌধুরী শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেছেন,এই প্রবাস জীবনে এই আনন্দটুকু সবাই যেনো একসঙ্গে করতে পারি।আমাদের বেঁচে থাকাটা অনেক আনন্দের। জীবন অনেক ক্ষনস্থায়ী।যে যেমন করে ভালো থাকতে পারি,সেই চেষ্টাই যেনো করি।

প্রবাস জীবনে এমন একটা আয়োজন যখন আমরা করি।যারা এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আসেন।খুব ভালো লাগে। এক একটা আয়োজন খুব সুন্দর আর হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে সবার একান্ত অংশগ্রহনে আর আন্তরিকতায়।

অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেম এর দ্বায়িত্বে আব্র মন্ট্রিয়ল থেকে এসেছিলেন,শংকর দা ,বউদি এবং বউদির ভাই জয়দা।
ধন্যবাদ মমতাদি,সুপর্ণা,জুলি,তিরু,নাহিদ,শাহনাজ,নীলাআপা। যারা নিজেরাই তাদের বন্ধুদের বলেছিলেন এবং সঙ্গে করে এনেছিলেন।ধন্যবাদ লিন্ডা,জেবীনভাবী। যাদের ছাড়া আমি ভাবতেও পারিনা এমন কোন আয়োজন।আমাদের কারোই একার পক্ষে সম্ভবনা এমন আয়োজন করা। আমরা সবাই যেনো এভাবেই মিলেমিশে আনন্দ করতে পারি।

শুভেচ্ছা রুমা। তোমার ছোট্ট রাইয়ানকে নিয়ে এসে এত সব গান শুনিয়ে আমাদের আনন্দ দেয়ার জন্য। ভালো থেকো। অনেক আনন্দে কাটুক তোমাদের জীবন। পিঙ্কুদাকে শুভেচ্ছা জ্বর নিয়ে এসে গান শোনাবার জন্য।

শুভেচ্ছা আশীক। গান চলুক।আমরা সবাই যেনো এভাবেই আনন্দ করতে পারি।বন্ধুত্বের অমল ধবল দিনগুলো এভাবেই কাটুক।

শুভেচ্ছা আমার বন্ধুরা, আশীক মিনু,রুবী,হেলাল,মীরা আর রাশীকের বাবা।
উৎসব ২০১৭ এর আনন্দ মনে থাকবে।আমাদের আনন্দ স্মৃতিগুলো দিয়েই আজকের এই লেখাটুকু।আর ছবি তো রইলোই। মাইনাস ৩০ চলছে অটোয়ায়। অথচ কি সূর্য ঝলমল দিন। আমাদের আনন্দ এই ঝলমলে রোদের মত বাড়ুক। মাইনাস তাপমাত্রা কি আর বেঁধে রাখতে পারে আমাদের?
ভালোবাসা সবার জন্য।

ছবি : লেখক