চোর, চোর…

গল্প-কাহিনীর পৃষ্ঠা থেকেই শুরু করি। সেই বিখ্যাত আলী বাবা আর চল্লিশ চোরের গল্প। আলী বাবা চরিত্রটি বহুযুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে পরিবাহিত হয়ে এক ধরণের অমরত্ব লাভ করেছে। কিন্তু চল্লিশ চোর? তারা হয়ে রইলো খল নায়ক। চল্লিশ চোরের দল চুরি করেছিলো মানুষের ধন সম্পদ আর আলী বাবা কী করেছিলো? সেই চিচিং ফাঁকের জাদুই গুহা থেকে চোরেদের  লুন্ঠিত ধন সে নিজেই আবার চুরি করেছিলো। রাতারাতি ভাগ্য ফিরেছিলো আলী বাবার।তাহলে চোর কে? না, আমি দুনিয়াজোড়া চোরদের পক্ষ সমর্থনে এই আখ্যানের অবতারণা করতে বসিনি। বলতে চাইছিলাম চুরি কে না করে! এই পৃথিবীতে কী এমন আছে যা চুরি যায় না? সম্পদ, সম্পত্তি, ভালোবাসা, বিশ্বাস।গায়ক নচিকেতার সেই বিখ্যাত গানের কথায় চুরি হয়ে যায় আকাশ,চুরি হয় আমাদের মূল্যবোধ পর্য্ন্ত।

বুঝতেই পারছেন এবার প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনের বিষয় সেই চোর আর তাদের বিচিত্র  কান্ডকারখানা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুবার এই চোরের পাল্লায় পড়েছিলেন। একবার চুরি হয়েছে তার নোবেল পুরস্কারের পদকটি। আরেকবার লেখার কলম। প্রথমটি অবশ্য ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা উদ্ধার করতে পারেনি। ২০০৪ সালের সেই ঘটনা গোটা পৃথিবীতে সংবাদের বিষয় হয়েছিলো। তবে দ্বিতীয় চুরির ঘটনায় চুরির মাল এবং চোর ধরা পড়েছিলো। সেই চুরি যাওয়া বস্তুটি ছিলো রবীন্দ্রনাথের লেখার কলম। ১৯১৮ সালের কথা। মাত্র পাঁচ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পান। তখন যে ঝর্না কলম দিয়ে কবি রচনা করছিলেন অসাধারণ, কালজয়ী সব কবিতা, উপন্যাস আর গান সেটাই একদিন ঠাকুর বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। ঠাকুরবাড়ি তন্ন তন্ন করে তল্লাশী চালিয়েও সেই কলমের হদিশ পাওয়া গেলো না। কলম হারানোর বেদনা একাধিত সাহিত্য সভায় রবীন্দ্রনাথের নিজের জবানীতে শোনা গিয়েছিলো। তবে কিছুদিনের মধ্যে সেই কলম চোর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। সেই দাগী চোর স্বীকার করে সে কলমটি ঠাকুরবাড়ি থেকেই চুরি করেছে। তবে এই চুরির ঘটনা নিয়ে জন্ম হয় আরেক কাহিনী। কলম দেখে রবীন্দ্রনাথ উচ্ছ্বসিত হয়ে সেটা ফেরত চাইলে পুলিশ তাঁকে কলম ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাঁকে জানানো হয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ অনুযায়ী কবিকে কোর্টে গিয়ে কলম সনাক্ত করে ফেরত নিতে হবে। পরে এ নিয়ে আইনী লড়াই শুরু হবার মুখে স্বয়ং ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব তার অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি জানান, সমন স্বাক্ষরের সময় তিনি লক্ষ্যই করেননি কাকে পাঠানো হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফেরত পেয়েছিলেন তাঁর প্রিয় ঝর্ণা কলম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো ফিরে পেয়েছিলেন তাঁর সাধের কলম। কিন্তু চোরেদের কবল থেকে এমন সম্পদ অথবা সম্পত্তি কি সবাই ফেরত পায়? পায় না। বরং চোরের কবলে পড়ে বহু মানুষ হয় নিঃস্ব। এই চোর কিন্তু আমাদের এই বঙ্গ দেশে বহু প্রাচীন এক চরিত্র। অভিধানে চুরি (চৌরকার্য, হরণ, আত্মসাৎ) যে করে সে চোর সংস্কৃত ভাষায় বলা হয়,চৌর, তস্কর । চৌর্যবৃত্তি যার পেশা সে পেশাদার চোর।সমাজের চোখে চুরি অপরাধ এবং চোর অপরাধী। চুরির অন্য অর্থ হচ্ছে, না বলে পরদ্রব্য নেওয়া। একে পেশাদার চোররা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে এবং বিদ্যা হিসাবে শেখাতে পারে। কথায় বলে: “চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড়ে ধরা।” ধরা পড়লে চুরি দণ্ডণীয়। শোনা যায় প্রাচীন কালের সেই বিখ্যাত গল্পকার ঈসপও মিথ্যা চুরির দায়ে দন্ডিত হয়েছিলেন। তার ঝোলায় ষড়যন্ত্র করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিলো একটি চোরাই বাটি। তারপর শাস্তি হিসেবে তাঁকে পাহাড় থেকে ফেলে দেয়া হয়েছিলো।এই চোর সম্প্রদায় এবং চুরি-কান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সম্প্রদায় নিয়েও আছে নানান মজার কাহিনী ও গল্প। এই চোর ধরতে গোয়েন্দারা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা হয়ে উঠেছে সাহিত্য রচনার বিষয়ও।

প্রাচীন বাংলার গ্রামে এই চোরদের কথা শোনা যায়। প্রচলিত আছে কত শত কিংবদন্তী। চোরচক্রবর্তী নামে এক প্রাচীন গ্রন্থে বলা আছে-চোর-শাস্ত্র জানলে মানুষের বুদ্ধি বাড়ে, মানুষ চতুর হয়। আচ্ছা, এই চোর শব্দটার উৎপত্তি কোথায়? প্রাচীন বঙ্গ সমাজে এক সময়ে অপরাধ বা ক্রাইম বলতে ছিলো শুধু চুরি। বৈদিক শব্দ ‘তায়ু’ মানে চোর। এই শব্দের সংশ্লিষ্ট তিনটি শব্দ হচ্ছে স্তেন অর্থ চোর ও চুরি, স্তেয় শব্দের অর্থও চুরি। অস্তেয় শব্দের অর্থ চুরি না করা।

চর্যাপদে আছে ‘‘যো সো চৌর সোই দুষাধী, যে সে চোর যেই চোর-ধরা’’। ‘দুষাধী’ শব্দের অর্থ হচ্ছে, যে দুঃসাধ্য কর্ম করে অর্থাৎ দক্ষ ব্যক্তি, গোয়েন্দা। প্রাচীন কালে চোরদের বেলা হতো বুদ্ধিমান, দক্ষ ব্যক্তি। ক্রমে ক্রমে চৌর্যবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো অনেক নাম। যেমন ধুতালিয়া শব্দটি প্রাচীন বাংলা ভাষায় পাওয়া যায়। এর অর্থ প্রবঞ্চক, ঠগ। আবার সিন্ধালিয়ার অর্থ সিঁধেল চোর। এমনি ভাবে ফাঁসুড়েকে বলা হতো গলসী।

একজন মানুষ কেনো চোর হয় অথবা সে এই পেশা বেছে নেয় কেনো? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হচ্ছে অর্থনৈতিক সংকট। তবে শুধু এই সংকট থেকেই মানুষ তস্কর হয়ে যায় না। লোভ নামের রিপু তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তবে চিকিৎসা ও মনোবিজ্ঞান বলে ‘ক্লিপটোম্যানিয়া’ নামে বিশেষ মানসিক অবস্থার কথা। এই অবস্থায় মানুষ নিজের মনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে চুরিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এটি এক ধরণের মানসিক রোগ। মৃচ্ছকটিক নাটকে একজন চোরকে কেমন হতে হয় তার মজার বিবরণ আছে চোরের সংলাপেই। চোর বলছে, ‘‘ “আমি বিড়ালের ন্যায় নিঃশব্দে গমন করিতে পারি। মৃগের ন্যায় দ্রুতবেগে দৌড়াইতে পারি। শ্যেন পক্ষীর ন্যায় সহসা গ্রাহ্য বস্তু ধরিতে ও খণ্ড খণ্ড করিতে পারি। কুক্কুরের ন্যায় নিদ্রিত ও জাগরিত ব্যক্তির বল পরীক্ষা করিতে পারি। সর্পের ন্যায় বক্ষোপরেও গমন করিতে পারি এবং আমি নানাবিধ রূপ ধারণে ও বিবিধ বেশ বিন্যাসে ঐন্দ্রজালিকের সদৃশ, সর্বদেশীয় ভাষার উচ্চারণে দক্ষ, এবং স্থলপথে ঘোটকের ও জলপথে নৌকার তুল্য।”

চুরিবিদ্যা বিষয়ে প্রাচীন গ্রন্থের পৃষ্ঠা উল্টে জানা যায়, প্রাচীন বঙ্গদেশে চোরদের বিভিন্ন পশু ও পাখির ভাষাও নাকি আয়ত্ত করতে হতো চুরি করার জন্য। চোরদের কাজ অন্ধকারে। তাই তখন একজন চোরের চোখ ও কান এই দুই ইন্দ্রীয়কে হতে হতো ভীষণ প্রখর। গ্রামে এক সময়ে চোররা বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরি করতো। চোরদের কাছে সিঁধকাঠি ছিলো ভীষণ পবিত্র এক বস্তু। জানা যায় এই সিঁধ ছিলো ছয় ধরণেরঃ পদ্মব্যাকোষ অর্থাৎ ফুটন্ত পদ্মফুলের মতো সিঁধ, ভাস্কর সিঁধ হচ্ছে সূর্যের মতো গোলাকার, বালচন্দ্র কাস্তের আকৃতি, বাপী নামের সিঁধ হচ্ছে পুকুরের মতো চারকোনা অর্থাৎ চওড়া। এছাড়াও ছিলো স্বস্তিকা চিহ্নের মতো দেখতে সিঁধ আর পূর্ণকুম্ভের মতো সিঁধ। চোরদের আইনশাস্ত্রে নিষেধ ছিলো, রোগীর বাড়িতে প্রবেশ না করতে। অসুস্থ মানুষ জেগে থাকে অনেক রাত অবধি। নিষেধ ছিলো বেশ্যা নারী অথবা লম্পট পুরুষের বাড়িতে চুরি না করতে। কারণ এই দুই প্রজাতির বাড়িতেই মানুষের চলাচল বেশী থাকে। এরা নিজেরা্ও ঘন ঘন বাড়ি থেকে বের হয়।

গোটা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে আছে এমন চোরদের গল্প। মধ্যপ্রাচ্যে চোর বাবাজীরা বিখ্যাত হয়েছে আরব্য রজনীর গল্পে। তবে পৃথিবীতে সবচাইতে বেশী আলোচিত হয়েছে সম্ভবত চিত্রচোরেরা। বিখ্যাত সব আঁকিয়েদের ছবি গ্যালারী থেকে উধাও করে দেয়া এই চোররা অন্ধকার জগতের মূল্যবান সম্পদ।

অধুনিক পৃথিবীতে কিন্তু চোর চক্রবর্তীকে সিঁধকাঠি নিয়ে রাতের অন্ধকারে চুরি করতে বের হতে হয় না। এখন দিনের আলোতেই রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বুক ফুলিয়ে চুরি করে নতুন প্রজন্মের চোরেরা, বলা যায় ডাকাতি করে। তবে এই শ্রেণীটি ছাড়াও আরেক ধরণের চোরের আবির্ভাব ঘটেছে পৃথিবীতে। এরা এসেছে প্রযুক্তির হাত ধরে।এরা ‘হ্যাকার’। কম্পিউটারের একটা বোতাম চেপে এরা মুহূর্তে খালি করে দিতে পারে ব্যাংকের ভল্ট, শূণ্য করে দিতে পারে কারো সঞ্চিত তথ্যের ভান্ডার। এদেরকেই বলা যায় আধুনিক চোর। তাদের সিঁধকাঠি হচ্ছে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার। আধুনিক বিশ্ব বহুদিন ধরেই এই নতুন চোর চক্রবর্তীদের ভয়ে কম্পমান। তাদের কাছে কোনো গোপনই আর গোপন নয়। আর তাই এবার তারা ছিনিমিনি খেলতে চাইছে মানুষের প্রাণ নিয়ে। সেটা কেমন? সম্প্রতি আমেরিকায় একটি টিভি ধারাবাহিকে দেখানো হয়েছে হ্যাকার ব্যবহার করে এক ব্যক্তির বুকে বসানো ‘পেস মেকার’ অচল করে দিয়ে তাকে খুন করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিক দেখে নড়েচড়ে বসেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, কাজটা অসম্ভব নয়। মানুষের শরীরে বসানো এমন ইন্টারনেটে সংযুক্ত প্রাণরক্ষাকারী যন্ত্র বিকল করে দিয়ে এরা খুনও করতে পারে কোনো মানুষকে। গবেষণাকারীরা বিকল্প পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন এই পদ্ধতিতে একটি সামান্য ট্রান্সমিটারের সাহায্যে ৫০ ফুট দূরত্বে বসেই একজন ব্যক্তিকে তার পেস মেকারে ৮৩০ ভোল্টের শক দিয়ে হত্যা করা সম্ভব। সৌভাগ্যের কথা হচ্ছে, এখনো এ ধরণের কোনো অঘটনের হদিস পাওয়া যায় নি। তবে এমন কিছু ঘটা কি খুব অসম্ভব? পেশাদার চোরদের দুনিয়ায় ভাবনা চোর আর হৃদয় চোরদের কথাও শোনা যায়। হৃদয় চুরির অর্থ ভালোবাসা। কথায় বলে, হৃদয় চুরি হলে মামলা করা যায় না!ভগ্ন হৃদয় কখনো নাকি চুরি করাও যায় না। সে হৃদয় তো আগেই বিকল হয়ে আছে। ভালোবাসায় বসবাস করলে যে হৃদয় উৎফুল্ল থাকে এ কথাটা সকলেরই জানা৷ চিকিৎসকরা গবেষণা করে বেরও করেছেন ভালবাসার সুস্থ সম্পর্ক হৃদয় ভাল রাখতে সক্ষম৷

তবে ভাবনা চুরির ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। অভিযোগ আছে, স্টিভেন স্পিলবার্গের বিখ্যাত ‘ই.টি’ সিনেমাটি বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ‘ দি এলিয়ন’ নামের একটি স্ক্রিপ্ট থেকে আত্নসাৎ করে তৈরী করা হয়েছে। সত্যজিৎ রায় ১৯৬৭ সালে স্ক্রিপ্টটি লিখেছিলেন। স্বয়ং সত্যজিৎ বলেছিলেন, “মিমিওগ্রাফ কপির মাধ্যমে আমার লেখা The Alien মুভির স্ক্রিপ্ট যদি হলিউডে ছড়িয়ে না পড়তো, তাহলে E.T. বানানো সম্ভব ছিলো না’’।

The Alien ছিল ১৯৬০ সালের শেষের দিকে ভারত-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে প্রস্তাবিত সায়েন্স ফিকশন মুভি। পরে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। সত্যজিতের পরিচালনায় ছবিটি প্রযোজনা করার কথা ছিলো হলিউডের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কলাম্বিয়া পিকচার্সের। সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল খ্যাতিমান অভিনেতা মার্লন ব্র্যান্ডো এবং পিটার সেলার্সের। কিন্তু সত্যজিৎ একদিন বিষ্ময়ের সঙ্গে জানতে পরেন তাঁরই রচিত স্ক্রিপ্ট মাইক উইলসনের নামে কপিরাইট করা হয়ে গিয়েছে। এই মাইক উইলসন ছিলেন হলিউডে সত্যজিৎ রায়ের প্রতিনিধি। মাইক স্ক্রিপ্ট রচনায় বিন্দুমাত্র অবদান না রেখেই নিজেকে সহ-লেখক পরিচয় দিয়ে সেটিকে কপিরাইট করে ফেলেন এবং কপিরাইটের টাকা থেকে সম্পূর্ণরূপে সত্যজিৎকে বঞ্চিত করেন। সত্যজিৎ রায় নিজের লেখা সায়েন্স ফিকশন গল্প “বঙ্কুবাবুর বন্ধু” এর উপর ভিত্তি করে চিত্রনাট্যটি লেখেন।

সত্যজিতের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা মাইক উইলসন পরবর্তীতে স্পিলবার্গের এজেন্ট হিসেবে যোগ দেন। এই লোকই স্পিলবার্গকে সত্যজিৎয়ের আইডিয়া সম্পর্কে ধারণা দেন বলে অনেকে মনে করেন।

লেখকদের মধ্যে ভাবনা চুরির সূচনা হয় খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে। রোমান কবি মার্শাল সে সময় অভিযোগ তুলেছিলেন, অন্য এক কবি তাঁর একটি কবিতা চুরি করেছেন। আর সেই থেকে সাহিত্যে অপর লেখকের ভাব বা রচনা চুরিকে ‘প্লেজিয়্যারিজম’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। ল্যাটিন শব্দ ‘প্লেজিয়্যারিয়াস’-এর অর্থ হচ্ছে সাহিত্য ভাবনার চুরি বা অপহরণ।ইংরেজ নাট্যকার বেন জনসন ১৬০১ সালে শব্দটিকে ইংরেজি সাহিত্যে পরিচয় করিয়ে দেন।বাংলা সাহিত্যের ঘরে প্রখ্যাত লেখক মনোজ বসুর নামে ছয় জন নকল লেখক ছিলো। তারা সবাই বিভিন্ন সময়ে উপন্যাস লিখে মনোজ বসুর নামেই প্রকাশ করতো।

এই ‘প্লেজিয়্যারিজমের মতো মানুষের মনের আরেকটি বিকার ‘ক্লিপটোম্যানিয়া’ এ অসুখ দূর করতে প্রয়োজন চিকিৎসকের। এই কিছুদিন আগেও হলিউডের বিশিষ্ট অভিনেত্রী মেগান ফক্সকে সেখানকার ওয়ালমার্ট দোকান নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তিনি ওই দোকান থেকে মাত্র ৭ ডলার মূল্যের একটি জিনিস চুরি করেছিলেন। এই একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স ও লিন্ডসে লোহান। ব্রিটনি একটি সেক্স শপ থেকে চুরি করেছিলেন। আর লোহান সরিয়েছিলেন ক্যামেরা আর অলংকার যার মূল্য আড়াই হাজার ডলার।

ইরাজ আহমেদ

তথ্যসূত্রঃ নিশি-কুটুম্ব-মনোজ বসু, ক্রাইম কাহিনীর কালক্রান্তি-সুকুমার সেন, মৃচ্ছকটিক, শূদ্রক বঙ্গানুবাদ-বরদাপ্রসাদ মজুমদার,বাংলার ডাকাত-যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত ।

ছবিঃ গুগল