শুভ জন্মদিন কবি আহসান হাবীব

বাংলা কবিতায় তিরিশোত্তর কালে এক অবধারিত নাম আহসান হাবীব। আধুনিক বাংলা কবিতার বিকাশের ধারায় তিনি নির্মাণ করেছিলেন স্বতন্ত্র কাব্যভাষা, রাজনৈতিক দর্শন। জাগিয়ে তুলেছিলেন ইতিবাচক ভাবনার নতুন ব-দ্বীপ। তাঁর কবিতায় রয়েছে স্বদেশের প্রতি এক ধরণের গভীর আনুগত্য। পাশাপাশি মানবিক বেদনাবোধ আর প্রেমানুভূতির এক উজ্জ্বল সোপানেও তিনি নিয়ে যান কবিতার পাঠককে। এই বৈশিষ্টগুলো বাংলা আধুনিক কবিতায় আলাদা ভাবে চিহ্নিত করে তাঁর সৃষ্টিকে।

আজ কবি আহসান হাবীবের ৭১তম জন্মদিন। কবির স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

আহসান হাবীব ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারী বরিশালের শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম হামিজুদ্দীন হাওলাদার। মাতা জমিলা খাতুন। তাঁর পাঁচ ভাই ও চার বোন। অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পিতা- মাতার প্রথম সন্তান তিনি ৷ পারিবারিকভাবে আহসান হাবীব সাহিত্য সংস্কৃতির আবহের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই সূত্রে বাল্যকাল থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সেইসময় তাঁর বাড়িতে ছিল আধুনিক সাহিত্যের বইপত্র ও কিছু পুঁথি। যেমন আনোয়ারা, মনোয়ারা, মিলন মন্দির প্রভৃতি ৷ এসব পড়তে পড়তে একসময় নিজেই কিছু লেখার তাগিদ অনুভব করেন। সাহিত্যের অণুকূল পরিবেশ নিয়ে পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ১৯৩৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি চলে আসেন বরিশালে। ভর্তি হন সেখানকার বিএম কলেজে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কলেজের পড়াশোনার পাঠ শেষ পর্যন্ত অসমাপ্ত রাখতে হয় তাঁকে। বিএম কলেজে দেড় বছর পড়ার পর ১৯৩৬ সালের শেষার্ধে কাজের খোঁজে তিনি কলকাতায়  পাড়ি জমান৷

প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাত্রিশেষ’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৭ সালে কলকাতা থেকে। রাত্রিশেষের কবিতাগুলো ১৯৩৮ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে রচিত হয়েছিল। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠা এক সময়।দাঙ্গা, মহামারী, দুর্ভিক্ষ আর পরাধীনতার জটিল আবর্তে ঘুরপাক খাওয়া মানুষের জীবন। তখন বাংলাদেশের বরেণ্য   ঔপন্যাসিক ও গল্পকার সৈয়দ ওয়ালীউল্ল্যাহ‘র প্রকাশনা সংস্থা কমরেড পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থে আহসান হাবীব সমকালীন সমাজের জীবনযাপনের নানান অনুষঙ্গ গভীর অন্তর্দৃষ্টিতে চিত্রিত করেছেন তার লেখনিতে।

প্রথম কাব্যগ্রন্থের দীর্ঘ বিরতির পর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ছায়াহরিণ’ (১৯৬৩)। এরপর সারা দুপুর (১৯৬৪), আশায় বসতি (১৯৭৪), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দুই হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮৫) এবং সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘বিদীর্ন দর্পণে মুখ’ (১৯৮৫)। কবির ৬৮ বছরের জীবনে শিশুতোষ উপন্যাস ‘রানী খালের সাঁকো’। শিশু-কিশোর উপযোগী ছড়া, কবিতা ও গল্প রচনায়ও তিনি নিবেদিত ছিলেন।

আহসান হাবীব দীর্ঘ সময় লুপ্ত দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশের সাহিত্যের একটি কাঠামো নির্মাণে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিলো অনন্য।

তিনি ১৯৭৮ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া

ছবিঃ গুগল