নেপালের লুম্বিনি ও জমসম দেখা

লুম্বিনি নেপালের দক্ষিন পশিমাঞ্চলের একটি ছোট্ট শহর। সিদ্ধার্থ গৌতম বা বৌদ্ধের জন্মস্থান। তাই তীর্থ যাত্রীদের স্থান হচ্ছে লুম্বিনি।এই পৌরাণিক স্থানটি জ্ঞানী, বিজ্ঞানী এবং কৌতুহলী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। প্রত্নতাত্ত্বিক ভাবে এটি ৫৫০ খ্রিষ্ট পূর্বের নিদর্শন বহন করছে।গৌতম বৌদ্ধের মাতা মায়া দেবী বাগানের একটি গাছের কাছে বৌদ্ধের জন্ম দিয়েছিলেন। সেখানে রয়েছে তার নামে একটি মন্দির ।একটি ছোট পার্কের মাঝখানে এটির অবস্থান।  জাপানিজ আর্কিটেক্ট কেঞ্জু টাংজি মন্দিরটির নকশা করেছেন। এখানে রয়েছে পুকুর যেখানে বৌদ্ধকে প্রথম গোসল করানো হয়, অশোকা পিলার, মায়াদেবীর প্রাচীন মূর্তি,  বৌদ্ধ মন্দির, থাই মনেস্ট্রিসহ সবুজ ঘাসে-ছাওয়া প্রান্তর। এখানে প্রতিদিনই বৌদ্ধধর্মের অনুসারীদের  উপস্থিতি ঘটে। বর্তমানে লুম্বিনিতে বিভিন্ন দেশের শিল্পকলা ও সংস্কৃতির চিত্র তুলে ধরা হয়।তাই এখানে ধর্মীয় অনুসারীদের থাকার জন্যও মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে।

চলো যাই লুম্বিনি

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে বাই এয়ারে যেতে হবে লুম্বিনি থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে সিদ্ধার্থনগর।তাছাড়া প্রতি ১৫ মিনিট পরে পরে এখান থেকে লুম্বিনির উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়।শেষ ফিরতি বাস বিকেল ৫টায়।তবে

ভারতের গোরাখপুর এবং ফায়জাবাদ থেকে বিমানে করে সিদ্ধার্থনগর (Siddharthanagar)  পৌঁছানো যায়।ইচ্ছে করলে গোরাখপুর থেকে বাসেও যাওয়া যায়।কাঠমান্ডু থেকে বাই রোডে লুম্বিনি যেতে সময় লাগবে ৫ ঘন্টার মত।ইচ্ছে করলে লুম্বিনিতে একরাত থেকেও যেতে পারেন।

 লুম্বিনি বাজারের কাছে আছে মায়াদেবী গেস্ট হাউজ , মায়াদেবী মন্দিরের কাছে আছে The Holy Birth , লুম্বিনি মেইন বাজারের কাছে আছে Lumbini Garden Lodge ।

 

জমসম

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৭৬০ মিটার উচ্চতায় এবং কালী গান্ধাকী নদীর তীরে  অবস্থিত জমসম শহরটি নেপালের মুস্টাং জেলায় অবস্থিত। নেপালের সর্বোচ্চ তুষারপাতের শহর এটি।হিমালয়ের একদম কাছে হওয়ায় এমনটি ধারনা করা হয়ে থাকে। ট্রেকিং করার জন্যে শহরটি খুব জনপ্রিয় । কালী গান্ধাকী নদীর তীর ধরে ট্রেক করে মুক্তিনাথ মন্দির পর্যন্ত যা জমসম-মুক্তিনাথ ট্রেক নামে পরিচিত। অন্নপুর্না সার্কিট ট্রেক এর অংশ হিসেবে এই ট্রেক করা যায়।এখানকার মানুষগুলো খুবই অতিথিপরায়ণ। কমবেশি সবাই ইংরেজি বুঝে আর সবাই কাজ চালানোর জন্য যতটুকু দরকার বলতে পারে।জমসমের কাছাকাছি দর্শনীয়স্থান গুলোর মধ্যে আছে -মুক্তিনাথ টেম্পল,ধাম্বা লেক,ইয়াক খারকা, কালী গান্ধাকী নদী, মুস্টাং আপেল বাগান,ডিয়ার হিল, মুস্টাং।

চলো যাই জমসম

কাঠমন্ডু থেকে বাসে করে  ৮ ঘন্টায়  পোখরা পৌছাবেন। ভাড়া পড়বে ৭৫০ রুপী।আবার পোখরা থেকে বাই এয়ারে যেতে পারেন।ভাড়া পড়বে ৮০-১১০ ডলার। সময় লাগবে ২০ মিনিট । অথবা পোখরা থেকে জীপে কিংবা বাসে জমসম যেতে পারেন। জীপে গেলে ভাড়া পড়বে ১৬০০ রুপীর মত এবং সময় লাগবে ৯-১০ ঘন্টা। আরবাসে গেলে সময় লাগবে ১২-১৪ ঘন্টা এবং ভাড়া গুনতে হবে ১২০০ রুপীর মত। চাইলে কাঠমান্ডু থেকেও সরাসরি জমসম যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে জার্নিটা একটু কস্টসাধ্য হয়ে যাবে। সময় লাগবে ১৭-১৯ ঘন্টা এবং ভাড়া পড়বে ১৬০০ রুপীর মত।

বেনী এর পর থেকে জমসমের রাস্তাটা একেবারে ভালো না তাই পোখরা থেকে জমসমে বাসযাত্রা খুব একটা আরামদায়ক না। এক্ষেত্রে জীপ জার্নিটা বেশ ভালো বলা যায়।

রাত্রিযাপন

Jomsom Mountain Resort (পাঁচ তারকার সুবিধা সম্বলিত): এয়ারপোর্ট থেকে হেঁটে পৌঁছাতে ২০ মিনিট এর মত সময় লাগবে। Hotel Alka Marco Poloএয়ারপোর্টের ঠিক উল্টোপাশে অবস্থিত।সবথেকে চাহিদাসম্বলিত হোটেল। দুই ধরনের রুম আছে। অ্যাটাচ বাথরুম ছাড়া রুমের ভাড়া অনেকটা কম, ৮০০ রুপির মত এবং অ্যাটাচ বাথরুমসহ দুপুর/রাতের খাবার, গাড়ি সুবিধা সহ ভাড়া পড়বে ২৫০০ রুপির মত। ইন্টারনেট, মানি এক্সচেঞ্জ, রেস্টুরেন্ট, ট্রেকিং সরঞ্জামাদি, এয়ার টিকেট সব ধরনের সুবিধা এরা দিয়ে থাকে। Hotel Trekkers-Inn : এটি এয়ারপোর্ট থেকে ১ মিনিটের পায়ে হাটা দূরত্বে অবস্থিত। ইন্টারনেট, মানি এক্সচেঞ্জ, রেস্টুরেন্ট, ট্রেকিং সরঞ্জামাদি, এয়ার টিকেট সব ধরনের সুবিধা এরা দিয়ে থাকে। ভাড়া পড়বে ৩৩৫০ রুপীর মত।মোটামুটি ১২০০ থেকে ২০০০ রুপী এর মধ্যে ভালো থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

পেটপুজো

এখানে পেট ভরে খানাপিনা করার জন্য নেপালি ডাল-ভাত থেকে শুরু করে স্টেক-স্প্যাগেটি পর্যন্ত নানান ভ্যারিয়েশনের জিনিশ পাওয়া যায়।আনুমানিক ১০০০ রুপীতে খুব ভালো ভাবে খাওয়া হয়ে যাবে।

ছবি: গুগল