পিয়ালী বসু ঘোষের ৫টি কবিতা

পদ্মগোখরো জীবন

রেখে যাচ্ছি উদ্ভিন্ন যৌবন ,ফুল আর পরাগ
তোমার চিবুকের সুনিপুণ কারুকাজ স্মৃতিবন্ধের মত জড়িয়ে ধরছে পা
ফিরে যাচ্ছি আঁচলের বেয়াড়া গিঁট খুলে কোনো বেয়াক্কেলে বিকেলের ডাকে
ঘূর্ণি জলে গোলাপগন্ধী নৌকা বাঁধা ,আঙ্গুলে এখনও শিশুবেলার বাঁশী

জানি এভাবেই পেরিয়ে যাবো মেঘ ও বিদ্যুৎ
তোমার টসটসে ঠোঁটের চুমু
এভাবেই কুৎসিত জীবনে ইতি টেনে নিঃশব্দে
নিজেই নিজের গুপ্তঘাতক হবো

তারপর একদিন,কোনো একদিন খোলস ছাড়ার দিন এলে
অক্ষরের চৌহদ্দি পেরিয়ে শীতঘুমের ছোবল নেবো জিভে
পদ্মগোখরো জীবনে দুধকলার বড়ই অভাব
মন্দিরের ফাটল খুঁজে লুকিয়ে নেব বিষদাঁত শিস আর অলীক সময়

 

নিরুক্ত

এই এলোচুল রাত্রি তোমার
এই আকণ্ঠ অমৃত তোমার
এতো যে আগুনলিপি,অক্ষরে অক্ষরে প্রেম
এই যে মায়াময় নষ্টনীড়
এই শুভেচ্ছার রুমাল -সব তোমার একার

আমার পরাক্রান্ত আলোগাছ
আমার নীলবিষ সংগীত,আমার জোনাক জানে ব্যঙ্গের ইতিহাস
আমার জীবন থেকে নোনাজল ধুয়ে গেলে
বুকের ওপর ঝুঁকে পরে উড়ন্ত উজবুক মাছ

শব্দের বারান্দা জুড়ে সময়ের কোলাজ
দৈনিক স্পর্শে জাগে গতানুগতিক ভোর
কথারা যদিও মূলস্রোতে ফেরে
ভালোবাসা কেন যে ফেরেনা !!

সবটা পরাবাস্তব নয়

এসো,স্ত্রী বিষয়ক চিহ্নগুলো শরীর থেকে ছেঁটে
নৈশ ফোয়ারার উপর ফেলি পা
শান্ত কিম্বা স্যাঁতস্যাঁতে অভিজ্ঞতা প্রাপ্তবয়স্ক খাটের কোণায় জমা রেখে
জ্যামিতিক রোদ্দুরে খেলি আলোছায়া খেলা
ত্রিভুজ গভীরে ঘুমোক ভূতুড়ে রাত পেঁচারা….

অন্ধ ঈশ্বর ইঙ্গিত দিচ্ছেন
যাদুলাস্যে ভর করে বাতাসে উড়ছে সোনালী আঁশ
কিন্তু আর যে প্যারামবুলেটর চাইনা !
বেড়ালছানার মত আঁচড়ে দেখি বরং
তোমার লোমশ বুক
ডানা ছেঁটে শুঁড়িপথে খুব গোপনে
তোমাকে সেঁকে নিতে চাই এবার আমার উনুনে।

অমরাবতীর চাঁদ

উভচর জীবন আমার
ডাঙায় বাঁচি
জলে ভাসি
কখনও একা,পরিপাটি
কখনও পিচ্ছিল পথ গুটিপোকার সাথী
প্রজাপতি শরীর পাবার স্বপ্নে,ছুঁয়ে দি মৃত যুবকের ঠোঁট
জ্যোৎস্না এসে চুমু খায় প্রেমে, অপ্রেমে, মোহে
জীবাশ্মের উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে
আকাশের কোলাজ দেখি
পরাবাস্তব বৃষ্টিতে ভেজে অদরকারী মেঘ
একা বসে দ্রাঘিমার দূরত্ব মাপে
অমরাবতীর চাঁদ

দৃষ্টিকোণ-১

ছুটন্ত দৃশ্যপটে অস্তিত্বের দূষণ
তবুও তোমাকে দেখছি
কাঁচের দেওয়াল ভেদ করে
যতটা দেখা যায়
আমার বাড়ির নিরাপদ
নিশিকুটুম্বরা বলছে
তুমি তো পরঘরণী
তুমি তো ঘর গড়নি।

অলংকরন :গুগল