রাতে ঘুম নেই ? জেনে নিন কি করবেন…

আমাদের নিত্য জীবনযাপনে  ঘুমটা ঠিকঠাক না হওয়ার প্রভাব কিন্তু মারাত্মক।প্রতিদিন সাত থেকে ন’ঘণ্টা না হোক, পারফেক্ট ঘুম হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি বলছেন,  বিশেষজ্ঞরা।

সকালে উঠে ব্যায়াম করা, সঠিক খাদ্যাভাস বা স্বাস্থ্য রক্ষার মতোই রাতের ঘুমটাও হওয়া চাই এক্কেবারে ‘পারফেক্ট’।আর সকালটাকেই ভাল করে তুলতে পারে রাতের ঘুম। তাই দিনের শুরু বলুন আর শেষ, রাতের ঘুমটাই যদি ঠিকঠাক না হয়, তাহলে সারা দিনটা যেন শেষ হয়ে যায়। তাই রাতে আট ঘণ্টার টানা ঘুম সবার জন্যই খুব দরকার।

সম্প্রতি হার্ভার্ড স্কুলের চিকিৎসকরা নিজেদের গবেষণায় দেখিয়েছেন রাতের আট ঘণ্টা ঘুমের গুরুত্ব।রাতের ঘুমেই লুকিয়ে আছে ভাল থাকার রহস্য। চিকিৎসকরা আরও বলেন, রাতের ঘুম জীবন থেকে হারিয়ে গেলে তা আবার কিভাবে ফিরে পাওয়া যাবে?রাতে ঘুম না হলে   ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপ, ওবেসিটি,হার্ট অ্যাটাক এই সব সমস্যা হতে পারে।তাছাড়া ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশি হওয়ার প্রবণতাও থাকে বেশি।

দিনদিন ঘুম কমে যাওয়ার কারণে জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। খাওয়া-দাওয়া, কাজের চাপ, সামাজিক চাপ, এক জায়গায় বসে একটানা কাজের অভ্যেস, মদ্যপান, বাঁধনহারা ধূমপান- সব কিছুই এর জন্য দায়ী। তার সঙ্গে এখন আবার যোগ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন, ফেইসবুক টিভি।সুতরাং ঘুমের বারোটা।

 সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কের জন্যে সাত থেকে নয় ঘণ্টার ঘুম খুবই দরকারি। কাজের চাপে ঘুমের সময়টা অবহেলা না করাই ভাল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, রোজকার যাপনে কেউই সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমোচ্ছেন না। বেশির ভাগ দিনই ছয় ঘণ্টার কম ঘুমোচ্ছেন অধিকাংশ মানুষ।

রাতে ঘুম না হওয়ার অনেক ক্ষেত্রেই রয়েছে মানসিক চাপ। চাপ কাটাতে বলবেন যে, ‘স্ট্রেস’ তা পুরোপুরি ভুলে যান, এটা বলা বৃথা। তবে চেষ্টা করুন, যতটা সম্ভব ভুলে থাকার। যে বিষয়ে আপনাকে এত ভাবাচ্ছে তা নিয়ে ভেবে ভেবে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থেকে অযথা প্রহর গোনার বদলে ভেবে দেখুন কী কী কারণে এই চাপ! আর তা জেনে ফেলতে পারলেই কিন্তু অর্ধেক চাপ কুপোকাত।
বাঙালি এই মনোবিদের মতো আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল স্কুলের চিকিৎসকরা ইনসোমনিয়ার হাত থেকে বাঁচতে কিছু উপায়ও বলে দিয়েছেন।

জেনে নিন উপায়গুলো

ঘুম না হওয়া ব্যারাম থাকলে ঘুমোতে যাওয়ার আগে কোনও বিষয় নিয়ে উত্তেজিত হবেন না।  চেষ্টা করবেন ঘুমোতে যাওয়ার আগে চা বা কফি না খেতে। যদি বই পড়ার অভ্যেস থাকে তাহলে  হালকা স্বাদের গল্প পড়ুন। ভয়ের গল্প না পড়াই ভাল।মোবাইলটি  হাতের নাগালের বাইরে রাখুন। রাতে শুয়ে শুয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জেগে থাকলে ঘুম ধারে কাছেও ভিড়বে না। সকালে ঘুম ভেঙে গেলে উঠে পড়ুন। ঘুম না এলেও এমনি এমনি শুয়ে থাকা উচিত নয়। খুব ক্লান্ত না হলে দুপুরে না ঘুমনোই ভাল।

ঘুমের সময় ঘুম না এলে হালকা স্বাদের গান শুনতে পারেন। অনেকেরই গান শুনলে ঘুম আসে। কোনও কাজ অসমাপ্ত থাকলে সেটি চটপট সেরে নিয়ে ঘুমোতে যাওয়াই ভাল। তাহলে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবেন। ঘুম না এলে শুয়ে শুয়ে ভাবতে পারেন সেই বিষয়ের কথা, যা ভাবলে আপনার ভাল লাগবে।

এই রকম ছোট ছোট পদক্ষেপগুলিই আপনাকে সহজে নিয়ে যেতে পারবে ঘুমের দেশে।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

ছবি: গুগল