সখী ভালোবাসা কারে কয়

তন্ময় তনু

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

মেয়েটার বিয়ে হচ্ছিলো না। বয়স হয়ে যাচ্ছিলো। মেয়ে ভালো। চুপচাপ। শান্ত। শুধু একটু সেকেলে টাইপের_
শেষে বিয়ে ঠিক হলো মাথায় অর্ধেক টাক, মোটা একটা লোকের সঙ্গে।
বান্ধবীরা সে কি ফিসুর ফাসুর।
বিয়ের দিন ফেসবুকে শখ করে নিজের বিয়ের একটা ছবি দিলো মেয়েটা। ভোটকা টাকলুর সঙ্গে বসে আছে বিয়ের শাড়িতে। দুজনকেই লাগছে ভয়ানক ক্লান্ত।
বান্ধবীরা এবার কমেন্ট করতে ছাড়লো না
একজনকে দেখে অন্যজন কমেন্ট করলো। ভোটকা টাকলুকে আর তাদের আনস্মার্ট বান্ধবীটাকে যত ভাবে পঁচানো যায় তার প্রতিযোগিতায় লাগলো
অথচ বান্ধবীরা জানলো না বাসর রাতে কি হলো
সারা দিনের ধকলে মেয়েটার মাথা ধরলো। প্রচন্ড মাথা ব্যথার পর বমি হলো। ভোটকা কাউকে ডাকতে চাইলো। মা বা বড় বোন কাউকে। মেয়েটা বাঁধা দিলো। বললো কিছুক্ষন খোলা বাতাসে বসলেই সে ঠিক হয়ে যাবে। সে যেন কাউকে না ডাকে।
ভোটকার বেড রুমের পাশে ছোট্ট একটা বারান্দা। সেখানে একটা বড় চেয়ার পাতা আছে। ইচ্ছে হলে সেটাতে শুয়েও পরা যায়। ভোটকা মেয়েটাকে, মানে তার নতুন বউকে সেখানে আসতে বললো। টলতে টলতে বারান্দায় এলো মেয়েটা। চেয়ারে গা এলিয়ে দিলো যথেষ্ট দ্বিধা নিয়ে। জায়গাটা ঠান্ডা। খোলা বাতাসে ভালো লাগলো সারাদিন পর।
ভোটকা তাকে চোখ বন্ধ করতে বললো। বললো সে যেন শুধু চুপ করে থাকে। চোখ যেন না খোলে।
মেয়েটা কেঁপে ওঠে যখন তার কাঁধে ভোটকার হাত পরে। সে চোখ খুলতে পারে না। খুব রাগ হলো তার। লোকটা কি বুঝতে পারছে না তার শরীর খারাপ লাগছে? এখন এসব কেন??
এক মিনিটের মাথায় মেয়েটার ভুল ভাঙলো। ভোটকা তাকে আদর করছে না। বরং তার কাঁধে আর ঘাড়ে মাসাজ করে দিচ্ছে। খানিক পরে চুলে হাত রাখলো। খুব সুন্দর করে হাত বোলাতে লাগলো। মাথার মাঝে, পাশে, কপালে, ভুরুতে। মাথা ব্যথার কথা ওর মনেও থাকলো না।
হঠাৎ সব চুপ। মেয়েটা ঝটকা দিয়ে কেঁপে ওঠে যখন ভোটকা তার পায়ে হাত রাখে। কেঁপে উঠে আবার শান্ত হয়ে যায়। ভোটকা কোন কথা বলে না। মেয়েটাও না। ভোটকা তার নতুন বউ এর পা টিপতে থাকে। গোড়ালি, নখগুলো টিপে টেনে মনে হচ্ছিলো সারা শরীরের ব্যথা পা দিয়ে নামিয়ে নিচ্ছে লোকটা। ভালো লাগছিলো। আরাম লাগছিলো। শরীরে যতটা, মনে তারচেয়ে বেশি
মানুষটা তার সারা দিনের সব ক্লান্তি দূর করে দিচ্ছে। অদ্ভুত একটা আদর। কিন্তু সেখানে কোন লোভ নেই।
দায়িত্ব আছে।
ভালোবাসা আছে।
মানুষটা মোটা, মাথায় টাক, দেখতেও কেমন যেন।
কিন্তু কত সহজ সুন্দর করে ভালোবাসছে।
নতুন বউকে বোঝাচ্ছে, তাকে ইচ্ছে করলে সেও ভালোবাসতে পারে।
প্রিয় দুনিয়ার তথাকথিত সুন্দরীরা, আমার গল্প এখানেই শেষ হইলো…

ছবি: গুগল