একলা মানুষ…

এহসান হাফিজ

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

হরিপদ একজন সাদামাটা ছোটখাটো লোক।
অঞ্জন দত্তর গানটা শুনছিলাম আর ভাবছিলাম অঞ্জন’দা মানুষকে কত ভালভাবে চিনেছে।তার গানগুলোয় উঠে আসা মানুষগুলোর মুখ ভেসে আসে।আমাদের গানের পাড়ায় কবীর সুমন, সেই সুমন চাটুজ্যে হচ্ছেন angel। দেবদূতের মতো।তার সঙ্গে কথা বলার সময় একটা শ্রদ্ধা আমাদের কাবু করে দেয়।কিন্তু অঞ্জন’দা অমন নয়।সব কথা বলা যায়, এমন এক বড়ভাই।গেলেই গমগমে গলায় বলে উঠবে, কীরে-প্রেম করে ছ্যাকা খেয়ে এসেছিস? বেশ বন্ধুর মতো। 
‘তুমি মানুষ খুব খুব ভাল করে বুঝতে পারো অঞ্জন’দা।’
‘তা মানুষ ছাড়া কি কিছু আছে দুনিয়ায়? না বুঝে যাবো কোথায়…’
‘তা নেই।’ আমরা স্বীকার করি।
‘‘কিন্তু তারপরও মানুষ চেনা সহজ কাজ নয়।একেক দিন দেখি একেক রূপ।’
আমরা বসেছিলাম একটা খোলা মাঠে।রাত হয়ে গেছে।মাথার ওপর সুপার মুন।অঞ্জন’দা গিটারটা নিয়ে টুং টাং ঝরিয়ে গান ধরলেন
‘পাবি অমূল্য নিধি বর্তমানে।’
অঞ্জন’দার গলায় সাঁইজীর গানটা মানানো ভালো।অন্যরকম।যেন গান নয়।আমাদেরকে তিনি কিছু বলছেন। আসলেই তাই।গানটা থামিয়ে চুপ করে তাকিয়ে থাকলেন।
ঐ যে দেখ।
তার চোখের দৃষ্টি অনুসরন করে আমরা দেখি দূরে একটা লোক বসে আছে।গায়ে চাঁদর।কোন কাজ নেই ধরণের মানুষ।সময় পার করছে।
‘কী দেখলি?’
‘একটা লোক।’
‘আর?’
‘আর কি? জামা পড়ে আছে।গায়ে চাদর।কাজ কর্ম নেই- বেকার মানুষ।’
অঞ্জন’দা সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে বললো, improve করেছে। better than শুধু একটা মানুষ।
‘তুমি আর কি দেখলে?’
‘আমি দেখলাম, একটা একলা মানুষ।’
আমরা ঝট করে ওর দিকে তাকাই।দেখেই মনে হলো, এই কথাটা আগেই মনে হয়েছিল।লোকটা তখন বোতল বের করে গলায় কিছু একটা ঢাললো।আমরা পরিষ্কার হয়ে উঠি- আসলে সে একলা লোক।যাকে একলা মদ খেতে হয়, তারচেয়ে একা কেউ নেই।
‘আমাদেরও মনে হয়েছিল।ঠিক গুছিয়ে বলতে পারিনি।আমরাতো তোমার মত গীতিকার নই।’
আমরা বলি।কথা শুনে অঞ্জন’দা মৃদু হাসলেন।
‘ওটাই ভুল।’
‘কী?’
‘একটা প্রশ্নের উত্তর দে, এই যে তুই বললি- লোকটা যে একা এটা তুই বুঝেছিলি কিন্তু বলিসনি- এটা কী করে ঘটলো?’
‘ঠিক মাথায় ছিল না।’
‘তাহলে বুঝলিতো।’
‘পারিব অমূল্য নিধি বর্তমানে গানটার বাকিটুকু গাইতে শুরু করলেন।
যথারীতি গান শেষ করে আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন
‘তোরা দেখলি কিন্তু মাথায় নিলিনা এটাই হলো বর্তমানে না থাকা।
আমরা যখন অর্ধেক মন নিয়ে থাকি তখন দেখেও দেখিনা, শুনেও শুনিনা, জেনেও জানিনা।তখন কী হয়?
তখন কী হয়? আমরা অঞ্জন’দার প্রশ্ন বোকার মতো অঞ্জন’দার দিকেই ছুড়ে দেই।
তখন আমরা ‘চাই চাই মানুষ’ হয়ে যাই।পথের ধারে রত্নভাণ্ডার ফেলে চাওয়ার পেছনে ছুটবো।ঝুলিতে থাকবে দুইটা শূন্য।একটা শূন্য হলে আবার সে রাজা হয়ে যেতো।
কী রকম?
সে তখন focused।জীবনের প্রয়োজনকে একটা শূন্যের মধ্যে আনতে পেরেছে।এটা হলো সেই vacuum সেই শূন্যতা যা থেকে সৃষ্টি হয়।এইজন্য পরীক্ষার মার্কশিটে ডাবল ০ দেয়। একটা ০ দেয়না।০০ হলে সেই চাওয়ার গল্প শুরু হয়ে যাবে।বর্তমানে থাক।তাহলে দেখবি মানুষ দেখলে মানুষ চিনতে পারবি।নিজেকে চিনতে পারবি।
‘চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি বেলা সত্যি,…’ গান ধরলেন অঞ্জন’দা।
আর মনে হলো
এটাই বর্তমান।’

ছবি: গুগল