কে বলবে,কাকে বলবে…

শীলা মোস্তাফা

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

একটা গল্প বলি আজ। তখন আমার কতই বা বয়স! ইউনিভার্সিটিতে পড়ি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যাই। সাগর পাবলিশার্স থেকে বই কিনি, বেইলি রোডে নাটক করি, দেখি। মুন্নিদের গ্রিন রোডের বাসায় আড্ডা দেই। বয়সের তুলনায় একটু ইঁচড়ে পাকা ছিলাম। নিজের বয়সের ছেলেদের পাত্তাই দিতাম না। কিন্তু জ্ঞানী গুনি লোকদের প্রেমে পরে যেতাম হুট হাট করে। সেই লিস্টে অনেকেই ছিলেন, যেমন মমতাজ উদ্দিন স্যার, মঞ্জুরুল ইসলাম স্যার আরো অনেকে। সেই লিস্ট আজ নাই বা দিলাম…। তবে হা মমতাজ উদ্দিন স্যারকে এতো ভাল লাগত যে, ঢাকা ইউনিভার্সিটির ক্লাস শেষ করে, জগন্নাথে যেয়ে তাঁর ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসে থাকতাম তাঁর কথা শুনতে । সেই সময় ছোড়দার এক বন্ধুর সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব হয়ে গেল কবিতা, বই, সাহিত্য আলোচনা করতে করতে। কি দারুণ জানেন, বলেন। বলতে গেলে তার প্রেমে পরে গেলাম। বই পড়া কবিতা পড়া দারুণ গুনী একজন লোক। বয়সও আমার চেয়ে বেশী, ভারি গলা, দারুণ কবিতা পড়েন। টেলিফোন কথা হতো। কবিতা শুনাতেন “ চার দিকে চারটি গাছ পুতলে আমাদের বাসর ঘর, তুমি বেহুলা আমি লক্ষিন্ধর” হায় হায়! মে মর জাউঙ্গা অবস্থা! কবিতা তো কবিতা, উনি ওই সময় ডিকশনারি পড়ে শুনালেও ভাল লাগতো। দেখা সাক্ষাৎ তেমন হতো না। কিন্তু মনে হলো কারো সঙ্গে প্রেম ট্রেম করলে এই লোকই একদম পারফ্যাক্ট! এমন এক প্রজাপতি প্রজাপতি দিনে রিক্সার হুড ফেলে TSC সামনে দিয়ে আমার বন্ধু বিজুর সঙ্গে গল্প করতে করতে যাচ্ছি। হঠাৎ চোখে পরলো তাকে, ফুটপাতে উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। আমরা খুবই উত্তেজিত, ডাকবো কি ডাকবোনা ভাবছি। রিক্সা ওয়ালাকে বলবো থামতে…, কিন্তু তার পর যা দেখলাম তাতে আমারা দুজনেই ভাষাহারা, নির্বাক। উনি দাঁড়িয়ে পরলেন, এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির ডাকে সারা দিচ্ছেন। নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ নয়, শীলার স্বপ্নভঙ্গ! এই রবীন্দ্রনাথ পড়া, পূর্ণেন্দু পত্রী পড়া লোকটা রাস্তায় দাঁড়িয়ে অবলীলায় জনসম্মুখে… তাও আবার আমার প্রিয় কৃষ্ণচূড়া গাছটার নীচে। কবিতার নিকুচি করি। তার সঙ্গে ওই আমার শেষ দেখা বা না দেখা। বহুবার বিভিন্ন জনের মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন কেন আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি।কেন আমি তার কোন কলের উত্তর দেইনি। কিন্তু কি করে বলি, একি বলার কথা! রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা একটি লোকের সঙ্গে আমার কোন সখ্য থাকতে পারে না। যারা আজ মেয়েদের প্রকাশ্যে সিগারেট খাওয়া নিয়ে কথা বলছেন তাদের জন্য এই গল্প। যারা একটি বাথরুম ব্যবহার করার মত এতটুকু ভব্যতা জানে না, তারা বলবে আমরা কোথায় কবে কখন সিগারেট খাব…।

ছবি: গুগল