ফিদেল কাস্ত্রোর ছয় প্রেমিকা

ফিদেল আলেকজান্দ্রো কাস্ত্রো রুজ ছিলেন একজন আপাদমস্তক বিদ্রোহী, বিপ্লবী, রাষ্ট্রনায়ক। কিন্তু তারপরেও আরেকটি বিশেষণ বাকী থেকে যায়-কাস্ত্রো এক পুরোদস্তর এক প্রেমিক।
সেই অতিপরিচিত এক অবয়ব ক্যামেরার ফ্রেমে অথবা পোস্টারে-মাথায় মিলিটারি ক্যাপ, শরীরে জলপাই রঙের ইউনিফর্মে। কোমরে পিস্তল অথবা কাঁধে রাইফেল। কপাল জুড়ে ভাঁজ, মুখে দাড়ি আর এক গাল হাসি। জীবনের সকল অবসর আর ব্যস্ততা সবই কেড়ে নিয়েছিলো একমাত্র প্রেয়সী ‘বিপ্লব’। বাতিস্তা শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বিজয়ী হয়েছিলেন। হয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং কমিউনিস্ট পার্টির হর্তাকর্তা ‘বিধাতা’। কিন্তু প্রেমিক ফিদেল কেমন ছিলেন? জীবন আর কাজের প্রতিটি বাঁক বদলের মুখেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিলো স্বতন্ত্র প্রেমিকার। কিউবার একনায়কের সঙ্গেই তাঁদের সবারই ছিলো প্রেম। ফিদেলের প্রতি প্রেম। প্রতিটি প্রেম পরিণতি পেয়েছে একেবারে মানুষের প্রতিক্রিয়ার মতোই। বলা হয় প্রত্যেক সফল পুরুষের পিছনে নাকি একজন নারীর অবদান থাকে, ফিদেলের ক্ষেত্রে অবশ্য সংখ্যাটা ছয়। এক তাঁর মা, আর বাকি পাঁচ তাঁর প্রেমিকা।

মিরতা দিয়াজ বালার্ট, হাভানা সোশ্যালাইট, ডালিয়া সোতে ডেল ভালে এই তিন নারী ছাড়াও আরও দুই প্রেমিকার গর্ভে প্রাণ পেয়েছে ফিদেলের ডিএনএ। এদের মধ্যে মিরতা এবং ডালিয়ার সঙ্গেই ফিদেলের আইন সম্মত বিয়ে হয়েছিল। হাভানা সোশ্যালাইটের সঙ্গে ফিদেল যখন প্রেমে পড়েন সে সময়ে তিনি পলাতক। আন্ডারগ্রাউন্ডে সময় কাটে তাঁর। ১৯৫০ সালে তাঁর প্রেম হয় আলিনা ফার্নান্ডেজের সঙ্গে।আনিলার গর্ভেই ফিদেলের প্রথম কন্যা সন্তানের জন্ম। ফিদেল কাস্ত্রোর নয় সন্তানের মধ্যে পাঁচ জনের মা ডালিয়া সোতে ডেল ভালে। কিন্তু প্রেমের প্রবাহ এখানেই শুকিযে মরুতে মুখ থুবড়ে পড়েনি।
ফিদেলের প্রেম ও যৌবনে মোহিত হয়েছিলেন খোদ মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের এজেন্ট মারিতা লোরেঞ্জ। ফিদেল-মারিতার প্রেম এবং সম্পর্ক নিয়ে পরে একটি সিনেমাও হয়। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের হয়ে ফিদেলকে খুন করতে আসেন মারিতা।বয়স তখন তার ১৯।বিষ খাইয়ে ফিদেলকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিলো গোয়েন্দাদের। আর সে কাজটা করার জন্য তারা বেছে নেয় মারিতাকে। কিন্তু খুনের বদলে ফুটলো প্রেমের গোলাপ।কিউবায় এসে ফিদেলকে আর মারতে পারলেন না মারিতা। ডুবে গেলেন সেই অনন্য মানুষটির প্রেমে। এটাই কী বিপ্লবীর রোমান্টিসিজম? অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন মারিতা। কিন্তু সেই ভ্রূণকে পৃথিবীর আলোই দেখতে দেওয়া হয়নি।
ফিদেলকে ৬৩৪ বার খুনের পরিকল্পনা করেছিলো মহা শক্তিধর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দশ জন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু শূণ্য হাতেই ফিরতে হয়েছিলো তাদের। সেই মানুষটির জীবনকে অতি নাটকীয় এবং অতি রোমাঞ্চকর বললেও কম বলা হবে। জন্মেছিলেন এক অতি সাধারণ পরিবারে। মা ছিলেন কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তখনও কেউ ভাবতে পারেনি এই ছেলেটিই একদিন বন্দুক হাতে বিপ্লব করবে, নাম লেখাবে পৃথিবীর ইতিহাসের পাতায়।কিন্তু নিজের ইতিহাস নিজেই লিখেছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো। খুনের মহড়া তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। স্বাভাবিক মৃত্যুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিদায় নিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁর নামের পাশে আজ লেখা যায় অমর শব্দটা। তেমনি অমর তাঁর প্রেম আর ভালোবাসার শক্তিও। তাঁর সেই ভালোবাসার মানুষেরা আজো কেউ কেউ পৃথিবীতে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্র ও ছবি: ইন্টারনেট