রেকর্ডগুলোও টাইগারদের

আহসান শামীম

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৯১ রানের ব্যবধানে বড় জয়ের হাত ধরে দারুণ রেকর্ড গড়েছ বাংলাদেশ। আজকের জয় দিয়ে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ১৩ বার জয়ের মাইলফলক গড়ল টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬৯ ওয়ানডেতে ৪১টা জয় পেয়েছে টাইগাররা। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের জয় ২৮টা।

খানিকটা ধ্বংসস্তূপেযেন গিয়ে দাঁড়িয়েছিলো আজকে টাইগাররা। স্টেডিয়াম জুড়ে দর্শকদের মাঝেও ভারী হচ্ছিলো হতাশা।কিন্তু ঠিক সেই হতাশার সেই দুষ্টু মেঘ সরিয়ে নিজেদের রাজত্ব ধরে রাখল বাংলাদেশ।ণড়াই করলেন সানজামুল, মুস্তাফিজ,রুবেল। ম্যাচ জয়  শেষে বিশ্ব অলরাউন্ডার সাকিব টেইল এন্ডারদের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করতে ভুললেন না।ম্যান অব দ্য ম্যাচের হ্যাট্রিক পুরুস্কারটা ব্যাট হাতে ৫১ আর বল হাতে তিন উইকেট পাওয়া সাকিবের পাওয়ার কথা থাকলেও পেলেন টাইগারদের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠেও একই সুর । তিনি বলেন,‘টসের সময় ভেবেছিলাম এই উইকেটে ২৮০-৩০০ রান হবে। ব্যাট করার জন্য উইকেট সহজ ছিল না। তামিম,সাকিব অসাধারণ ব্যাট করেছে।  নবম, দশম ও ১১তম ব্যাটসম্যান মিলে স্কোরে প্রায় ৪৫ রান যোগ করেছে। মোস্তাফিজ ব্যাটিং অনুশীলন করছে। সেটা আজ কাজে দিয়েছে।’

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের পর  বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়া অধিনায়ক হিসেবে রেকর্ডটা তার ঝুলিতে এখন।

বাংলাদেশের একমাত্র খেলোয়াড় তামিম ৬০০০ রানের রেকর্ড এর দিনেও সেঞ্চুরি করতে পারলেন না।আজ মঙ্গলবার ৭৬ রানের ইনিংস খেলার পর, তামিম ছাড়িয়ে গেছেন ভারতের রান মেশিন খ্যাত বিরাট কোহলি, দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা ও এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তী স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসকেও। ৫ থেকে ৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার দিক থেকে কোহলি, রিচার্ডস কিংবা আমলার থেকে সবথেকে কম ম্যাচ খেলেছেন তামিম। ভারতীয় অধিনায়ক কোহলি এবং প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা উভয়েরই পাঁচ থেকে ছয় হাজার রানে প্রবেশ করতে খেলতে হয়েছে মোট ২২ ইনিংস।তামিম এই রেকর্ড গড়লেন ১৭ ইনিংস খেলে।ভিভ রিচার্ডসের এই রানে পৌঁছুতে ২৭ ইনিংস খেলতে হয়েছিলো এবং ডি ভিলিয়ার্স খেলেছিলেন ২৩ ইনিংস।

ত্রিদেশীয় সিরিজের আজকের ম্যাচে তামিম ইকবাল  একই ভেন্যুতে সর্বাধিক রানের রেকর্ডও গড়েছেন। এতদিন এই রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন লঙ্কান কিংবদন্তি জয়সুরিয়ার। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে তার রান ছিল ১৫১৪ রান।  মিরপুর স্টেডিয়ামে সেই সর্বাধিক রানের রেকর্ড ভাঙ্গতে তামিমের প্রয়োজন ছিল ৪২ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৬ রান করে তামিম অনায়াসেই টপকে যান লঙ্কান তারকাকে।আজকের ম্যাচ সেরার পুরুস্কারটা সম্ভাবত সেই কারণে তামিমের হাতে ওঠে।

টাইগার অধিনায়ক যখন বল মুস্তাফিজের হাতে তুলে দিল তখন কেইবা ভেবেছিল বিস্ময়কর রেকর্ড করতে যাচ্ছেন মুস্তাফিজ। রান তোলার সব সূত্র যেন ভুলে গিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের দুই ব্যাটসম্যান সিকান্দার রাজা ও পিটার মুর ।২২ বছর বয়সী পেসার মুস্তাফিজ রান দিয়েছেন নিজের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে। আর টানা ২৩ বল করে একটা রানও দেননি তিনি। চার ওভার শেষে বাংলাদেশি পেসারের বোলিং ফিগার ৪-৩-১-০। ওয়ানডে ম্যাচে এমন বোলিং ফিগারের একমাত্র মালিক এখন মুস্তাফিজই।

ছবিঃ গুগল