ছবি না করলে বেঁচে থাকবো কী করে-বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

পশ্চিম বাংলার খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। যার চলচ্চিত্র নির্মাণের ভাষা ইতিমধ্যেই দেশে বিদেশে তৈরী করেছে নিজস্ব দাঁড়াবার জায়গা। বলা হয়ে থাকে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পরেই একমাত্র পরিচালক যিনি একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত অসুস্থ। পর পর দু‘বার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ করে চলেছেন অবিরাম। হাত দিয়েছেন নতুন সিনেমা তৈরীর কাজে। অসুস্থ অবস্থায়ও কাজ করে যাচ্ছেন কেন এই পরিচালক এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সম্প্রতি কলকাতার ‘এই সময়’ পত্রিকাকে জানালেন, ছবি না করলে বেঁচে থাকবো কী করে! এই ছবি যখন বানাচ্ছি তখন শরীর সুস্থ্য নেই পুরোপুরি। শারীরিক আরো সমস্যা হঠাৎ করেই এক বছরে এসে জড়ো হয়েছে। পরপর দু‘টো হার্ট অ্যাটাক। কিন্তু আমি ছবিটা করছি কারণ এটাই আমার বেঁচে থাকবার জায়গা ’ তিনি মনে করেন তাঁর নিজের মধ্যে কাজের ক্ষুধাটা খুব বেশী। তাই তিনি পুরস্কার অথবা স্বীকৃতিতে কখনোই সন্তুষ্ট নন।
সিনেমা তাঁকে এতোদিন ধরে কী দিয়েছে জানতে চাইলে বুদ্ধদেব বলেন, ‘অনেক কিছু দিয়েছে, আন্তর্জাতিক খ্যাতি দিয়েছে। আর্থিক দিক দিয়েও…আমি বড়লোক না হলেও আমার চলে যায়। একটা লাইব্রেরী আছে, একটা অফিস আছে, একটা থাকার জায়গা আছে। গাড়ি আছে, ড্রাইভার আছে, মাস গেলে আলু পটল কেনার টাকা আছে আবার কী চাই!
কিন্তু নিজের আত্নার প্রাপ্তি হিসেবে সিনেমাকে কোন জায়গায় রাখেন বুদ্ধদেব বাবু? পরিচালকের সোজা উত্তর, ‘আন্তিক ভাবে এতোটাই দিয়েছে যে সিনেমা না থাকলে আমি হয়তো বাঁচতেই চাইতাম না।’
পশ্চিম বাংলার ঝাড়খন্ড জেলায় এখন শ্যুটিংয়ের কাজ করছেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। তার আগামী সিনেমা ‘উড়োজাহাজ’। তিনি জানান, এই উড়োজাহাজটি একজন মানুষের স্বপ্ন। আবার স্বপ্নের চাইতেও বেশী কিছু হতেই পারে। অনেক সময় বাস্তব স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যায়। আসলে স্বপ্নই সব কিছুর শেষ তা কিন্তু নয়।
স্বপ্নের পরেও আরো কিছু থেকে যায়, সেই থাকাটা কী? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ থাকে ম্যাজিক, থাকে অতিবাস্তবতা। এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি, ড্রিম-এগুলো নিয়েই তো আমার কাজ। একটা এক্সটেন্ডেড রিয়্যালিটির অভিব্যক্তি হচ্ছে এই প্লেনটা।’
একজন শিল্পীর আসল কাজ কোনটা, কল্পনাকে সাধারণের বোঝার মতো করে প্রকাশ করা নাকি শিল্পের মহত্ব বজায় রেখে আলাদা কিছু তৈরী করা?
বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ এটা একেবারে ব্যক্তিগত ব্যাপার। একজন শিল্পী কীভাবে নিজেকে প্রকাশ করবেন। ফলে আমি কীভাবে ছবি তৈরী করবো সেটা একান্তই আমার ব্যাপার।’
একজন শিল্পী কি সারা জীবন সুন্দরের সন্ধান করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ সুন্দর মানে বিউটি নয়। সুন্দর মানে এমন একটা স্তর যেখোনে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য গর্বিত বোধ করে ’

বিনোদন ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ এই সময়, কলকাতা
ছবিঃ গুগল