ইনবক্সের পুরুষেরা…

 

শামীমা জামান

বোকাবাক্সের রঙ্গিন দুনিয়াকে পেছনে ফেলে মানুষের মনে আজ জায়গা করে নিয়েছে ইনবক্স।তবে ভার্চুয়াল জগতের এই ইনবক্স ও কম বোকা নয়। ভাব বিনিময় ছাড়াও ইনবক্স এখন কাজের যোগাযোগ এর জন্য অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।এই পর্যন্ত থাকলে ঠিক ছিল।আসলে কে কিভাবে একে ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে বিষয়। বস্তুত ইনবক্স একটি সেক্সি শব্দ ।  ইনবক্স যে কতটা কুলোটা তা আমি প্রথম জানতে পারি আরো বছর কয়েক আগে এক মুরুব্বীর ফেসবুক ট্যাগ থেকে।ভদ্রমহিলা আমার বন্ধুর মা।নতুন কেউ তাকে ফেসবুক খুলে দিয়েছে।উনি তেমন পোস্ট টোস্ট করতে পারেন না।তবে উনাকে বাণের জলের মত সবাই ট্যাগ দিয়ে যায়।আমি উনার লিস্টে থাকায় সেই সব আবর্জনা আমাকে দেখতে হয়। তো একদিন দেখি একজন ট্যাগ দিয়েছে একটি স্ক্রিনশট দিয়ে। বোঝা যাচ্ছে একজন পুরুষ আর তরুনী একটি মেয়ে ।

পুরুষঃ এই বাবু কি করছ?

 তরুনীঃ তোমার আদর খাওয়ার জন্য বসে আছি।

 পুরুষঃইস ! তাড়াতাড়ি আস। কই তোমারটা দেখি । বলা বাহুল্য এরপর শুধুই ছবি। উভয়ের বিশেষ বিশেষ অঙ্গ সমুহের ছবি ! দেখে যার পর নাই মাননীয় স্পীকার হয়ে গেলাম।কারন তখনো এই মূর্খ জানেনা ফোনোসেক্স বলে একটা শব্দ আছে।

    নারীবাদী যে ক’জন পুরুষ লেখক আছেন তাদের সবাইকে আমার কেমন যেন পুরুষ নৃত্যশিল্পীদের মত লাগে। তারা যা লেখেন তা তারা বিশ্বাস করেন কিনা তা নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ। তার চেয়েও বড় সন্দেহ তারা তাদের পরিরারের নারী সদস্যের সঙ্গে সঠিক আচরনটি করেন তো ? কিন্তু মাথায় প্রগতির গামছা বাধা সৌম্য ,সুশীল কলকাতার দাদা দাদা চেহারার ভার্চুয়াল বিপ্লবী নারীবাদী লেখক কে তাদের চেয়ে একটু আলাদা রুচিশীল মানুষ ভাবতাম। আমার মত আরো অনেকেই তাই ভাবতো বা ভাবে। আজ সেই লোকের ইনবক্স এর স্ক্রিনশট দিয়ে ফেসবুক সয়লাব। স্ক্রিনশট এ ব্যক্তিত্ববান লেখক জনৈকা জনপ্রিয় কচি বয়সী ,নানান পুরস্কার বিজয়ী ,লাস্যময়ী লেখিকাকে প্রেম নিবেদন করছেন।অতপর তাহারা চুমালাপ, খামচা খামচি এইসব এর বাতচিত করতে লাগলো । এই স্ক্রিনশট স্বয়ং লেখিকাই তার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন উক্ত বিবাহিত ভদ্রলোক এর উপর প্রতারণার অভিযোগ এনে।যাতে করে অন্য মেয়েরা তার ব্যাপারে সচেতন হয়। অনেকেই সাহসী নারী বলে বাহবা দিয়েছেন লেখিকাকে।বলে রাখা ভাল যারা নারী লেখকদের লেখিকা বলে সম্বোধন করেন তাদের কে আমি খেত ভাবতাম।কিন্তু ভেবে দেখলাম এদেশে এখন নাসরিন জাহান, মনিরা কায়েস,শাহীন আখতার এর মত কিছু লেখক ছাড়া কজন লেখিকা নারী লেখক হয়ে উঠতে পেরেছেন ? সে ভিন্ন প্রসঙ্গ । কিন্তু আমি ভাবছি এভাবেও বই বেচা যায়! নায়িকাদের মত লেখক রাও এই রকম অন্যের (সঙ্গে নিজের ও)  গোমর ফাঁস করে বিখ্যাত হতে পারেন। ৯০ দশকেএক বিখ্যাত বিতর্কিত নারী লেখক নারীবাদী লেখা লিখেছেন এই ধারাতেই । ধর্ম অবমাননাসহ নিজের ব্যক্তিগত , পারিবারিক,নিজের চারপাশের সমস্ত নিষিদ্ধ কথা প্রকাশ্য করার এই ধারা তিনি পেয়েছিলেন সালমান রুশদীর কাছ থেকে। অতি অল্প সময়ে বিখ্যাত হওয়ার এটি একটি সহজতম পন্থা।

      কিন্তু লেখিকা এখানে অন্য মেয়েদের সাবধান করতে চেয়েছেন।প্রেম এ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হওয়ায় তিনি যে আঘাত পেয়েছেন অন্য মেয়েরা যেন এই লোকটি কে অসুখী সংসারী দেখে সেই ভুল না করেন। ভদ্রলোকের ওয়ালে তাকে একজন সুখী সংসারীই মনে হয় যদিও তবুও উনার কোন গোপন ব্যথা,কান্না হাসি ,গোপন কথা উনি লেখিকাকে বলেছেন তাতো আর কেউ জানেনা। নারীবাদী লেখক এর জন্য আর গতানুগতিক ছি ছি আপনি এত খারাপ জাতীয় বাক্য ব্যয় করতে ইচ্ছে করছেনা। তিনি তো তার পুরুষসত্তা টিরই গোপন প্রকাশ করেছেন মাত্র। কত পুরুষ আছে জনে জনে সব মেয়ের ইনবক্স এ গিয়ে হানা দেয়।উনিও জনে জনে সব নারীর ইনবক্সে যান বলে আমার মনে হয়না। উনি ফ্রিতে একটু আলকাতরা খেয়েছেন মাত্র। উনি ধরেই নিয়েছেন এর সঙ্গে কদিন চালানো যেতে পারে। উনি কেন অনেকেই এমন করে ভাবতে পারেন। এখানে আমি শুধু উক্ত লেখিকা নয় আরো অন্য সব মেয়েদের ও বলছি ।আপনি যখন রাত ১২ টার পর হলি আপু,চিকা আপুদের মত স্নো পাউডার মেখে ফেসবুক লাইভে এসে আপনার জ্ঞান গরিমার বয়ান আর অবাধ প্রেমের ডালি নিয়ে বসবেন, যাহ্‌ দুষ্টু ভঙ্গিতে হাত দিয়ে চুল সরাবেন, বিশাল বক্ষাদেশ থেকে ওড়না সামলানোর নাম করে বার বার ক্লিভেজ দেখানোর চেস্টা করবেন আপনার অপরপ্রান্তে থাকা হাজার হাজার পুরুষ কিন্তু আপনাকে নিয়ে অমন করেই ভাববে।

     এই স্ক্রিনশট টি প্রকাশ করায় অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন।আমিও দিতাম যদি নারীর প্রান্তটি শুন্য সাড়াহীন থাকতো ।কারন উনার চেয়েও অনেক বিখ্যাত লোকেদের প্রেমাবেদন বা, মৃদু টোকা দেওয়া প্রেমবানী বা রূপের প্রশংসা বানী (যার অন্য প্রান্তে কোন সাড়া নেই) আমার ইনবক্সে ও পাওয়া যাবে। কিছুদিন সাড়া না পেয়ে অনেকেই বলে যান ‘তুমি /আপনি খুব ভাল মেয়ে। ‘ এখন আমি কি সেইসব স্ক্রিনশট প্রকাশ্য করে মাননীয়দের মান নস্ট করে নিজে বিখ্যাত হবো? এমনকি আমার লিস্টে থাকা তাদের কারো কারো স্ত্রীদের ও তো জানানোর রুচি হয়নি।বিষয়টি খুব ই স্থুল। কিন্তু  অনেক মেয়েরাও পুরুষদের ইনবক্সে অসময়ে হানা দিয়ে ‘হাই ভাইয়া’ দিয়ে শুরু করে ।এভাবে চলতে চলতে উপরের ওই ‘হাই বাবু একটু আদর দাও ‘তে এসে ঠেকে। তাই ইনবক্স ব্যবহারে সচেতন হোন। কাজের আলাপ ইনবক্সে হতেই পারে। প্রয়োজনীয় সামাজিক যোগাযোগ ও চলতে পারে। ইনবক্সে আপনার দূরে থাকা আত্মীয় ,স্বজন ,বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে একযোগে আলাদা গ্রুপ ভিত্তিক আড্ডায় ও চাঙ্গা হতে পারেন। তবে নোংরামী কোনভাবেই কাম্য নয়। অন্যের ঘর ভাঙ্গার জন্য বেচারা ইনবক্স কে দায়ী করবেন না। আর স্ক্রিনশট একটি অশোভন ব্যাপার। এটি আপনার সঙ্গেও প্রতারণা করতে পারে। বলা বাহুল্য উক্ত লেখিকার পুরোনো  আরেকটি স্ক্রিনশট কমেন্ট বক্স গুলোতে ভেসে বেড়াচ্ছে। সেখানে তিনি লিখেছেন’’এখনকার ছেলেমেয়েরা অতি আধুনিক।তারা সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলেই প্রথমে দেয় স্ক্রিনশট …’’। ফেইম সিকারদের বলব এমন সব অভিনব কান্ড কারখানা করে বিখ্যাত আপনি হয়ে যাবেন ঠিকই ।কিন্তু জানেন তো বিখ্যাত মানুষদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে । নোংরামীর বার্তা ছড়িয়ে আর যাই হোক সমাজকে খারাপ ছাড়া ভাল কিছু দেয়া যায়না ।

ছবি: গুগল