চলে গেলেন সুপ্রিয়া দেবী

‘আমাদের ষাট বছরের বন্ধুত্বের সম্পর্কে ছেদ পড়লো।বিদ্ধস্ত লাগছে।’ বন্ধুর মৃত্যুতে সাংবাদিকদের কাছে শুধু এটুকুই প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার কিংবদন্তী তুল্য অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আজ ভোরবেলা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীকে বিদায় জানালেন তাঁর বন্ধু বাংলা সিনেমার অসাধারণ অভিনয় শিল্পী সুপ্রিয়া দেবী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর।

‘বসু পরিবার’ ছবিতে উত্তম কুমারের সঙ্গে অভিনয় করে পর্দায় তাঁর আত্মপ্রকাশ। ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমায় তাঁর অনবদ্য অভিনয় ভুলতে পারেননি সিনেমাপ্রেমী মানুষ। ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৪৫টি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন।

১৯৩৫ সালে তৎকালীন বার্মায় তাঁর জন্ম হয়। সুপ্রিয়া দেবীর কন্যা সোমা চট্টোপাধ্যায় জানান এদিন সকাল ছটা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাড়িতে অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি।সুপ্রিয়া দেবীর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে একটি বড় অধ্যায়ের ওপর যবনিকা নেমে এলো।

১৯৩৫ সালের ৮ জানুয়ারি সুপ্রিয়া দেবীর জন্ম। মাত্র ৭ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে থিয়েটারের জগতে তাঁর পদচারণা শুরু। দীর্ঘ এই সময়ে বাংলা সিনেমায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’-র নীতা থেকে ‘দেবদাস’–এর চন্দ্রমুখী, কিংবা ‘দুই পুরুষ’-এর বিমলা কিংবা ‘বন পলাশীর পদাবলী’র পদ্মা, প্রত্যেকটি চরিত্রে সুপ্রিয়া দেবীর উজ্জ্বল অভিনয় দর্শকদের স্মৃতিতে আজো উজ্জ্বল হয়ে আছে। অভিনয় করেছেন মহানায়ক উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে আরো অনেক বাঙালি অভিনেতাদের সঙ্গে। বয়সের পড়ন্ত বেলায় এসেও কলকাতার টেলিভিশন চ্যানেলে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে নিজের অভিনয় কুশলতার প্রমাণ রেখেছেন এই অভিনেত্রী।  অভিনয় দক্ষতার জন্য তিনি পদ্মশ্রী, বঙ্গ বিভূষণ, ফিল্মফেয়ার সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

বিনোদন ডেস্ক

ছবি গুগল