টান…

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

(কলকাতা থেকে): এত তো বাইরে যেতাম… বাড়িতে থাকতাম কতটুকু…?
কত দিন তো কাকভোরে বেরিয়ে মাঝরাতে ফিরতাম, মা-বাবার সঙ্গে দেখাও হতো না…। পাহাড়ে গেলে আমার রোজ মনেও পড়তো না ঘরের কথা…।

তা হলে শ্বশুরবাড়ি কী এমন আলাদা জায়গা, যে মনকেমনের পালা ফুরোতে চায় না…!?
সবাই খুব ভালবাসে এখানে আমায়…। এত মানুষের মাঝেও নিজের মতোই থাকি আমি, কেউ কিচ্ছু বলে না…। ঘুরছি, বেড়াচ্ছি, ভাসানের বাজনা শুনে রাস্তায় গিয়ে নাচছি, ধানক্ষেতে পথ হারাচ্ছি, ছোট্ট মাম্মাকে আদর করছি, গাছে চড়ে পেয়ারা সাফ করছি… সবই ঠিক আছে…।

তবু ডুকরে কান্না আসে…। সবাই বোঝায়… এই তো আর ক’টা দিন, চলেই যাবি মায়ের কাছে…। এইটুকু তো দূরত্ব, মনখারাপ করিস না…।

কী করে বোঝাব, ক’টা দিন বাড়িতে নেই বলে আমার যা মনখারাপ করছে, আমার বাড়িটার তার চেয়েও বেশি মনখারাপ…। সেই মনখারাপই বারবার উষ্ণ হাতে ছুঁয়ে ফেলে চোখের বরফ…।

সব উৎসবই শেষ হয় নিজের নিয়মে…। প্রতিমার ভাসান হয়ে যায় আনন্দ করে…।
তার পর হু হু মণ্ডপে ছড়িয়ে পড়ে থাকে উৎসবের উপচার…। তখনই অকাল বিষাদের তুষারপাতে ছেয়ে যায় স্ক্রিনের এপার-ওপার…।

আমার খাঁ খাঁ বাড়িটাও এখন তাই…। সদ্যফুরোনো উৎসবের আলো নিভতেই ধাঁধা কেটেছে চোখের…। ইতিউতি দাগ কেটেছে উৎসবের চিহ্ন…। তার মধ্যেই ঘাড় গুঁজে পড়ে রয়েছে আমার ছোটবেলারা…। আমায় খুঁজতে গিয়ে ওরা ঠোক্কর খাচ্ছে আমার বড় হয়ে যাওয়ার চৌকাঠে…।
এ সব কিছু নিয়ে আগলে, চোখ ফুলিয়ে, বসে আছে এক জন…।

আর আমি…
আমি নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছি দূর থেকে…। এ দূরত্বের নাম টান..

ছবি: লেখক