তুমি যেমন নবাগত, আমিও তোমার মত নতুন এই ফিল্ডে

অদিতি বসু রায়, লেখক,সাংবাদিক

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ইহজীবনে ভাবতে পেরেছিলুম, বাড়ি বসে বইমেলার ঘোষণা শুনতে পাবো? আজ বিকেল থেকে ভারি পুলকিত । ঘরে বসে ‘আসছে বই’ গান শুনছি। 
এখন দিন যাচ্ছে দ্রুত। রাত খুব ধীরে। যেন জগন্নাথের রথ। মেয়ের জন্মের ঠিক এগারো দিনের দিন কবিতা পড়তে গিয়ে ‘আইরন লেডি” খেতাব পেয়ে বিগলিত বোধ করেছিলাম এই ভেবে যে ভাগ্যিস আমার রাতের ডায়ালগ কেউ শোনেনি। মহা পুলকে সি সেকশনের সময়টা কাটিয়ে যেই বিকেল গড়াল – ওমনি যন্ত্রণা কারে কয়! সেই বিকেল পরবর্তী পেনের প্রকোপ চলেছে প্রায় দিন পনেরো। প্রথম ক’দিন তো ব্যথায় চোটে আমি পদ্যর সম্ভাব্য সৎ মায়ের খোঁজও শুরু করেছিলুম। তাতে তার পিতা আনন্দিত হয়ে বলতেন- ” ওইসব নিয়ে ভেবো না ।আমি ব্যবস্থা করে নেব।” এর মধ্যে পদ্যর ছয় দিন বয়সে তার দিদিয়া ও আত্মীয়জনদের সৌজন্যে জানা গেল, সেই রাতে নাকি বিধাতাপুরুষ তার ভাগ্য লিখতে আসবেন। আমার প্রবল আপত্তিতে কেউ কান দিলেন না। তাই বেবিকটের মাথার দিকে, তার দিদিয়া একটি কলম, ছোট্ট ঘটি আর পদ্যর মায়ের লেখা বই রেখে দিলেন। বোধহয় আশা করেছিলেন, পদ্যর মায়ের লেখা দুর্বোধ্য কবিতার বই দেখে বিধাতা নির্ঘাত দ্রুত পলায়ন করবেন। 
গত রবিবার পদ্যর ষষ্টি পুজো ছিল। আমাদের ঠাকুরমশাই আসেন বসিরহাট থেকে। আর প্রতিবারই বিধাননগরের বদলে অন্য কোন স্টেশনে চলে যান। এবার তিনি সটান নেমেছেন কলকাতা স্টেশনে। পদ্যকে স্বপ্নাদির পাঠানো সাদার ওপর স্ট্রবেরি আইসক্রিমের মত ফুলেল ফ্রক, পায়েলের পাঠানো উলের জুতো পরিয়ে জুত করে বসেই মনে পড়লো, আমারও একটু সাজা উচিত। আমার বাবা এখন মোটামুটি ফেসবুকেই জীবনযাপন করেন। তিনি ক্যামেরা বাগিয়ে রেডি,ফেসবুকে নাতনির ছবি আপলোড করতে হবে। সেই ছবিতে নিজেকে দেখে আমি স্তম্ভিত! অবিকল পাগলা দাশুর মহিলা ভার্সন। মাথায় মিলিটারি ছাঁট ও কপালে পুরোনো পঞ্চাশ পয়সার সাইজের লাল টি্পের অসামান্য কম্বো। ভবিষ্যতে মায়ের এই রূপচিত্র দেখে মেয়ে যে কি করবে বলা যায় না, ভেবে বেশ বিষণ্ণ হয়ে, প্রসাদের নাড়ু খেয়ে ফেল্লুম গোটা পাঁচেক।
পরশু রাতের গল্পটা বলি এবার। পদ্য-বাবুই কিছুতেই ঘুমাচ্ছে না । প্রবল বিরোধীতা চালাচ্ছে মিটেন পরা খুদে খুদে হাত দিয়ে। গলার জোর মায়ের মতই ( শত্রুরা বলছে বাবার মত)। অনেকক্ষণ কসরত চালানোর পর গলদঘর্ম বাবা( এবং মাও) শুনতে পেল, পদ্যর মা কাঁদোকাঁদো মুখে মেয়েকে বলছে, ” এমন করে কেউ কাঁদে বল? আমার কথাটা তো ভাববে! তুমিও যেমন নতুন বাচ্চা, আমিও তো তোমার মতই নতুন এই ফিল্ডে, তাই না ? “। বাকিটা আর কহতব্য নয়!
ছবি: লেখক