টাইটানিকের আইরিশ বয়কে আজো টাকা পাঠায় ভক্তরা

টাইটানিক জাহাজটি ডুবে গিয়েছিলো বহু বছর আগে। চলচ্চিত্র পরিচালক জেমস ক্যামেরন আবার পর্দায় সেই জাহাজ ভাসিয়েছিলেন ১৯৯৭ সালে। সেই টাইটানিক সিনেমা অতিক্রম করলো কুড়ি বছর। ক্যামেরনের টাইটানিক গোটা পৃথিবী জুড়ে সিনেমার দর্শকদের আলোড়িত করেছিল কেট উইনস্লেট আর লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও‘র ক্যারিয়ার তৈরী করেছিল। জন্ম দিয়েছিল বহু গল্পের। এরকম পেছনের গল্পের জন্ম এখনো দিয়ে যাচ্ছে টাইটানিক। তার কিছু এই ছবিকে ঘিরে আর বাকিটা ১৯১১ সালে আটলান্টিকের বুকে ডুবে যাওয়া সেই জাহাজটিকে নিয়ে।

রিস থম্পসন-বড় বেলায়

‘টাইটানিক’-এর মোট আয় ছিল ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিপুল আয়ের একটা বড় অংশ অবশ্যই পেয়েছিলেন অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীরা। কিন্তু ‘টাইটানিক’ শুধু নায়ক নায়িকার ছবি নয়। তাদের বাইরেও বহু মানুষ কাজ করেছিলেন এই ছবিতে। বহু ছোট, বড় অভিনেতা-অভিনেত্রীর শ্রম আছে সিনেমাটিকে সার্থক করে তোলার পেছনে।  সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে রিস থম্পসন নামের এক যুবকের কথা। এই যুবক কুড়ি বছর আগে ‘টাইটানিক’-এ একটা খুব ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু সেদিনের সেই বালকটিকে ভুলতে পারেননি ‘টাইটানিক’-প্রেমীরা। ‘লিটল আইরিশ বয়’— এই-ই ছিল সেই

রিস থম্পসন-সিনেমার দৃশ্যে

চরিত্রের পরিচয়। সে, তার বোন ও মা ছিলো ‘টাইটানিক’-এর কমদামি টিকেটের যাত্রী। জাহাজডুবির সময়ে মা বুঝতে পারে, লাইবোটে জায়গা পাওয়ার আশা তাদের নেই। তাই বাচ্চাদের সেই ডুবন্ত জাহাজের ছোট্ট কেবিনে ঘুম পাড়িয়ে দেয় মিথ্যে কথা বলে। সেইা মায়ের অসহায় বেদনার মুহূর্ত টাইটানিকের ট্র্যাজেডিকে আরো জীবন্ত করে তুলেছিল।

আজ যুবক রিস স্মরণ করতে পারেন, সেই অভিনয়ের জন্য তিনি ৩০,০০০ মার্কিন ডলার পেয়েছিলেন। সেটা নিঃসন্দেহে বড় অঙ্কের টাকা। কিন্তু, তার পর ‘টাইটানিক’-এর সুবাদে আয় থেমে থাকেনি রিসের। ছবি মুক্তির পর থেকে আসতে থাকে তার নামে চেক। অগণিত অপরিচিত মানুষ তার নামে টাকা পাঠাতে শুরু করেন। সেদিনের ওই ৫ বছরের শিশুটির অভিনয় ও অভিব্যক্তি এতটাই মন ছুঁয়েছিল দর্শকের যে, ২৫ বছর বয়সে এসেও তিনি চেক পেয়ে চলেছেন অজ্ঞাত-অপরিচিতদের কাছ থেকে। ১০০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলারের চেক তাঁর নামে আজও আসে প্রতি বছর। একটি সিনেমায় রিসের মন ছুঁয়ে যাওয়া অভিনয় দর্শকদের আজো সেই চরিত্রটির জন্য কাঁদায়।

বিনোদন ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ এবেলা, কলকাতা

ছবিঃ গুগল