কবিতা পড়ার দায়!

রুদ্রাক্ষ রহমান: সব কথা কি আর দোলা দেয়, মারে তুমুল টান ? সব কবিতা কি আর ‘কবিতা’ হয়ে ওঠে কারো কারো কাছে?

‘আরেক জন্মে পাগল ছিলাম ফুলগাছ।
পথে পথে ঘুরেছি অনেক
কেউ ভাত খেতে দিলে
খেয়েছি দরজার ওপাশে বসে।’

আমি একবার, কয়েকবার, অনেকবার, বার বার যখন এই লাইনগুলো পড়তে থাকি ভেতরে-বাইরে তখন অনেকগুলো মানুষজীবন দেখতে পাই। দেখতে পাই অনেক অনেক দূর অতীতের কোনো সভ্যতা, হারিয়ে যাওয়া মানুষের ঘ্রাণ পাই আমি। মনে হয় কত কত বেদনা গেঁথে আছে এই চারটি লাইনে।

কবিতা পাঠে এক ধরনের সুখ আছে, কষ্টও তো! ইরাজ আহমেদ-এর কবিতা এই দুটোই দেয় আমাকে, সঙ্গে ভাবনা। আমি তাকে বলি ‘নাগরিক কবি’। অনেকটা সময় নিয়ে, অনেক অবহেলা দিয়ে হয়তো তিনি কয়েকটা বই করেছেন কবিতার, তারপরও আমি বলি সেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে তিনি একটি কবিতাই লিখে চলেছেন; লিখেছেন একটি কবিতার বই। সেই স্রোতের নবীনতমটি হলো-
‘দরজা খোল আফিমের দোকান’। এই বইয়ের ৪৫টি কবিতা- তাদের আগে পরের অনেক কথা হয়তো আমি জানি, হয়তো কবি ইরাজ আহমেদ আমাকে বলেছেন! হয়তো আগেও পড়েছি এই কবিতা; কিন্তু বইটি হাতে পেয়ে অন্যরকম এক সুখ হচ্ছে। এখনো বই হাতে নিয়ে পড়ার মায়াটা আমাকে ছেড়ে যায়নি। তাইতো এই ভাষার মাসের প্রথম দিনের সকাল বেলায় আমি পড়ছি ‘দরজা খোল আফিমের দোকান’। পড়ছি-

‘নেশা হলো না ফুলগাছ।
শুধু গান হলো
নৈঃশব্দ্যের পারদ গড়ালো
মানুষ শতাব্দী জুড়ে একা হলো।’

তাইতো, মানুষতো দিনে দিনে একাই হলো।
আমার কেনো যেন মনে হয় দুনিয়াজুড়ে, কালে কালে সব কবি একই সুরে একটাই গান গাইতে চেয়েছেন, লিখতে চেয়েছেন একটাই কবিতা। তা যদি নাই হবে তাহলে কবি আবুল হাসান কেনো লিখলেন এই কথা-
‘অবশেষে আমি জেনেছি মানুষ একা/ জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনাও একা!’

এই যাই যাইকরা শীত সকালে অখিলবন্ধু ঘোষেল স্নিগ্ধ-মায়াধরানো গলার সঙ্গে ‘দরজা খোল আফিমের দোকান’- সত্যি সত্যি এক ধরনের নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে।
এবং আমি চাই- এবারের অমর একুশে গ্রন্থ মেলা- মানে আমাদের বই মেলায় একটু হলেও কথা উঠুক ইরাজ আহমেদের কবিতার বইটি নিয়ে। নেশা লাগুক কবিতার পাঠকের মনে! আর এই অবসরে একটু সাধুবাদ জানিয়ে দি বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকিয়ে তৌহিন হাসান কে। এবং আরো একজনকে, যিনি এই আকালেও কবিতার বই প্রকাশ করার সাহস রাখেন প্রকৃত হাসিধরা মুখে; তিনি অনন্যা’র মনিরুল হক।