হলুদ বাড়াবে স্মৃতিশক্তি

ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে মানুষের মধ্যে। এইমাত্র ভাবলেন একটা কথা তারপর আবার ভুলে গেওেলন। ডাক্তাররা বলছেন মনের ওপর আধুনিক ব্যস্ত পৃথিবীর জীবন যাপনের প্রক্রিয়া চাপ তৈরী করছে। আর তাতেই বাড়ছে ভুলে যাবার প্রবণতা।

পরিবারের প্রবীণরা এই ভুলে যাবার সমস্যায় ভোগেন। কোনও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস তাঁকে রাখতে দিলেন। অথবা বিশেষ কিছু জানতে চাইলেন। দেখবেন জানা বিষয়ের উত্তর ভুলে গেছেন। বলতে পারছেন না গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা কোথায় রেখেছেন। আবার দেখবেন এমনও ঘটছে কোনো কথা বলার জন্য আপনাকে ডেকে এনে তারপর আর মনেই করতে পারছেন না কী বলতে চেয়েছিলেন।এতে অনেক সময় আপনার মেজাজের নিয়ন্ত্রণও হারাচ্ছে। আবার গোটা বিষয়টা নিয়ে পরে অনুশোচনা হচ্ছে আপনার। গবেষণা বলছে, এ ধরণের সমস্যা এড়াতে হলুদ খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ভুলে যাওয়ার জন্য তাঁর মনেও চাপ পড়ে। সেই থেকে অবসাদ গ্রাস করতে পারে। হলুদের গুণে দূর হতে পারে এই অবসাদগ্রস্ত পরিস্থিতি।তবে একদিনেই ফল পাবেন না। নিয়মিত বেশ কিছুদিন হলুদ খাওয়ান। তারপর গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিয়ে পরীক্ষা করুন। দেখুন সময়মতো চাইলে পাচ্ছেন কিনা।

৫০ থেকে ৯০ বছর বয়সীদের মধ্যে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে সবচাইতে বেশি। সম্প্রতি লন্ডনে একদল গবেষক এমনই ৪০ জনের উপরে পরীক্ষা চালিয়েছেন। গবেষণার অঙ্গ হিসেবে এই ৪০জনকে প্রথমে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। ২০ জনের প্রত্যেককে নিয়ম করে প্রতিদিন ৯০ মিলিগ্রাম হলুদ খেতে দেওয়া হয়। বাকি ২০ জনকে একেবারেই হলুদ খেতে দেয়া হলো না। টানা ১৮ মাস এই পরীক্ষা চালিয়ে আবার ২০ জনকে ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা গেল তাদের অবসাদ ও স্মৃতি দুর্বলতা সংক্রান্ত সমস্যা অনেকটাই কেটেছে। এরপরেই অ্যালঝাইমার রোগীদের উপরে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতো বেশ কয়েকজন অ্যালঝাইমার রোগীকে চিহ্নিত করা হয়। নিয়মিত ওষুধ খেয়েও ভুলে যাওয়ার রোগ থেকে নিষ্কৃতি পাননি তাঁরা। এমন লোকজনকেই নিয়ম করে হলুদ খেতে দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই উপকারও পান রোগীরা। দেখা যায়, ওষুধের থেকে অনেক বেশি নিরাপদ হলুদ। কোনওরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই স্মৃতি খুইয়ে বসা মানুষ ফের মনে করতে পারছেন। দূর হচ্ছে অবসাদ।

বাড়িতে প্রবীণরা ভুলে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। অস্বস্তি এড়াতে হলুদ খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। যদি পান তাহলে ভাববেন কাজ হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ সায়েন্স টুডে

ছবিঃ গুগল