লঙ্কানরা দুশো রানে এগিয়ে

আহসান শামীম

চট্রগ্রাম টেষ্টে চতুর্থ দিনের পুরোটাই লঙ্কানরা নিজেদের করে রাখলো।প্রথম ইনিংসে সাদা পোশাকের টাইগারদের চেয়ে ২০০ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষনা করেন লঙ্কান অধিনায়ক । দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে এসে ইমরুল ৫২ রানে আর তামিম ৪১ রান করে সাজঘরে ফিরে গেলে বিপর্যয়ের মুখে পরে বাংলাদেশ।আর ১ টা বাড়তি ওভারে খেলার সময় ২০ বলে ২ রানে মুশফিক সাজঘরে ফিরে গেলে লঙ্কানদের চেয়ে ১১৯ রান পিছিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ।আগামীকাল শেষদিনে ৭ উইকেট নিয়ে ৯০ ওভার মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের।

এর আগে টাইগারদের ৫১৩ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৭১৩ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। এই রানের মধ্য দিয়ে পঞ্চম বারের মতো সাতশর বেশি রান করলো তারা।এর আগে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে ৩ উইকেটে ৭১৩ রান নিয়েই ইনিংস ঘোষণা করেছিলো তৎকালীন লঙ্কান অধিনায়ক মারভান আতাপাত্তুর দল।একই বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৭৩০ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিলো শ্রীলঙ্কা। তার আগের সর্বোচ্চ রান ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ২০০৬ সালে কলম্বোতে ৫ উইকেটে ৭৫৬ রানের স্কোর গড়েছিলো লঙ্কানরা। ১৯৯৯ সালে কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে রোশন মহানামা এবং জয়সুরিয়ার দারুণ ব্যাটিংয়ে ৯৫২ রানের স্কোর গড়েছিলো শ্রীলঙ্কা।

টেস্ট ক্রিকেটের শুরু থেকে বাংলাদেশের আক্ষেপের নাম স্লিপ ক্যাচিং। ক্যাচ হাতছাড়ার দিকে বাংলাদেশ সবচেয়ে ধারাবাহিক স্লিপেই। চট্টগ্রাম টেস্টে অতিথিদের প্রথম ইনিংস এরই একটা নজির।স্লিপ ছাড়াও ক্যাচ মিসের প্রতিযোগীতায় টাইগরা দলের খেলোয়াড়া সম্ভাবত টেষ্ট খেলুড়ে যে কোন দেশের তুলনায় পিছিয়ে। চতুর্থ দিন মধ্যাহ্ন ভোজ পর্যন্ত তিনটা সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। মিরাজের বলে দিনের শুরুতেই শর্ট লেগে রোশান সিলভার ক্যাচ লুফে নিতে ব্যর্থ হন মোসাদ্দেক হোসেন। এর খানিক পর আবারও মিরাজের বলে চান্দিমালের ক্যাচ ফেলেন উইকেট রক্ষক লিটন কুমার দাস। আর লাঞ্চের ঠিক পূর্বে স্লিপে দাঁড়িয়ে নিরোশান ডিকওয়েলার ক্যাচ লুফে নিতে ব্যর্থ হন মিরাজ।
ক্যাচ মিস আর ফ্লাট উইকেটে ছয় স্পিনার নিয়ে টাইগার দলের ভুল সিধান্তের সুযোগ ভাল কাজে লাগিয়েছে শ্রীলংকা খেলোয়াড়রা।ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নামা সানজামুল তাঁর ৪২ তম ওভারে এসে প্রথম উইকেট পান দিলরুয়ান পেরেরাকে লেগ বিফরের ফাঁদে আউট করে।২০১০ সালে টেষ্ট ৬৬ ওভার বল করে সাকিবের রেকর্ড ভাঙ্গেন তাইজুল।

 ছবিঃ ইএসপিএন