গৌরবের ড্র

আহসান শামীম

চিটাগংয়ে হারল না বাংলাদেশ।মমিনুলের বিশ্বরেকর্ড আর নিজের ভুলে ইতিহাস না গড়ার বেদনা লিটনের, অভিষেক টেষ্ট নেতৃত্বে রিয়াদের মুখে হাসি।ড্র হলো চট্রগ্রাম টেষ্ট ।হতাশায় মোড়ানো ছিল সাদা পোশাকের টাইগারবাহীনি । চট্রগ্রাম টেষ্টের চতুর্থ দিনে, লঙ্কানদের পাহাড় সমান রান।শেষ বিকেলে ৩ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল স্বাগতিকরা।

ড্র’র জন্যই অবশেষে প্রয়োজন ছিল, শেষ দিন ভিন্ন ইতিহাস রচনার প্রয়োজনর। যা করে দেখালেন মুমিনুল হক। এক সময় ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশকে লিডের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন মুমিনুল-লিটন দাশ।ইতিহাস  গড়তে রেকর্ডবুকটাও নতুন করে লিখেছেন মুমিনুল। টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া ছাড়াও এখন এক টেস্টে সর্বাধিক রানের মালিক এখন মুমিনুল। প্রথম সেশনটা দাপটের সঙ্গে শেষ করেন মুমিনুল হক ও লিটন দাস জুটি। প্রথম সেশনে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন মুমিনুল। মধ্যাহ্নভোজনের পর ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন দাস। দাপটের সঙ্গে প্রথম সেশন পার করা জুটি ২৮.১ ওভারে বিনা উইকেটে করেন ১০৬ রান।
এর আগে সকালটা ৩ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পঞ্চম ও শেষ দিন বলেই শুরুটা দেখে শুনে করেছিলেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক ও লিটন দাস। ধীরে ধীরে প্রতিরোধের দেয়াল লম্বা করতে থাকে এই জুটি। এক সময় পিচে আঠার মতোই লেগে ছিলেন দুই ব্যাটসম্যান। দৃঢ় মনোভাবে খেলা মুমিনুল এক সময় সেঞ্চুরিও তুলে নেন।১৮০ রানের বিশাল এই জুটি ভেঙে দেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া মুমিনুলকে ৭৮তম ওভারে ফেরান সাজঘরে। ফেরার আগে করেন ১০৫ রান। তার দায়িত্বশীল ১৭৪ বলের ইনিংসে ছিল ৫ চার ও দুই ছয়।
লঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথকে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে যখন উড়িয়ে মারতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস তখনই কেঁপে উঠেছিলো হাজারো ক্রিকেট প্রেমীর বুক। কারণ নিজের অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রান দূরে তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন লিটন।এর মাধ্যমে লিটন মিস করেছেন এক অনন্য রেকর্ড বুকে নাম লেখাতেও। চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারলে তৃতীয় বাংলাদেশি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকাতে সক্ষম হতেন লিটন।
দুই ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরী  করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মুমিনুল হক।৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে দুই দল।

ডাক্তাররা জানিয়েছেন, সাকিবের হাতের ব্যান্ডেজ খোলা হবে আগামী শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি)। এদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশ মাঠে নামবে সাকিবের ব্যান্ডেজ খোলার দুই দিন আগে।  যার ফলে প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টেও খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়কের।