শুভ জন্মদিন বব মার্লে

‘আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা’। হ্যাঁ, তিনি ঝড়ের কাছেই নিজের ঠিকানা রেখে গেছেন। একমাথা অবিন্যস্ত চুল, দাড়িপূর্ণ মুখ, হাতে গিটার। একজন মানুষ গান গাইছেন দাঁড়িয়ে। কখনো ওপরের শূণ্যতায় হাত ছুঁড়ে দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছেন সুরের প্রজাপতি। তিনি বব মার্লে। গানের পৃথিবীতে ঝড় হয়ে আসা এক হারকিউলিস। ১৯৪৫ সালের ৬ ফেব্রয়ারী জ্যামাইকার শহরতলীর এক বস্তিতে তাঁর জন্ম। নিপীড়িত আর খেটে খাওয়া মানুষের জন্য গান করতেন তিনি। সবাইকে বলতেন একত্র হতে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকতে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় কালো মানুষদের ওপর বর্ণবাদী নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন গানের মধ্যে দিয়ে। রাজনৈতিক আগ্রাসনের প্রতিবাদও করেছেন মার্লে গানের মাধ্যমে। অধিকারবঞ্চিত মানুষের পক্ষ নিয়ে তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় তার অস্ত্র ছিলো এই গান।

আজ গানের পৃথিবীর সেই ঝড়ের পাখি বব মার্লের জন্মদিনে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে রইলো শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

ষাট এবং সত্তরের দশকের উত্তাল এক সময়ে বব মার্লে তার গান দিয়ে মানুষকে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের মিছিলে সংযুক্ত করেছিলেন। তাঁর গাওয়া ‘বাফেলো সোলজার’, ‘নো ওম্যান নো ক্রাই’, গেট আপ স্ট্যান্ড আপ ফর ইওর রাইট’ পৃথিবীর দেশে দেশে অধিকার বঞ্চিত মানুষের মনে বিদ্রোহের আগুন জ্বেলে দিয়েছিলো। সেই সময় থেকে আজ পরযন্ত বব মার্লে পৃথিবী জুড়ে তরুণদের কাছে বিদ্রহের প্রতীক হয়ে আছেন।

তার পুরো নাম ছিল রবার্ট নেসতা বব মার্লে। কিন্তু জ্যামাইকার পাসপোর্ট অফিস নামের কিছু অংশ কেটে দেওয়ার পর তিনি হয়ে যান বব মার্লে। ‘মার্লে’ পদবিটা বাবার কাছ থেকে পাওয়া। বাবার নাম নরভাল মার্লে।

তার বাবা ছিলেন শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ কর্মচারী। আর মা কৃষ্ণাঙ্গ জ্যামাইকান। এই কারণেই ছোটবেলা থেকেই বব মার্লে সাদা-কালো দ্বন্দ্বে ভুগতেন। মজার ব্যাপার হলো স্কুলে তার কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধুরা তাকে ডাকত ‘সাদা বালক’ বলে। আর শ্বেতাঙ্গ দুনিয়ায় তিনি পরিচিত ছিলেন ‘কালো’ হিসেবে।

১০ বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। পরে মায়ের সঙ্গে রাজধানী কিংস্টনে চলে  আসেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই গানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তার পরিবারকে সঙ্গীত পরিবারই বলা যায়। আত্নীয়দের অনেকেই সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি স্কুলে পড়ার সময় সহপাঠীদের নিয়ে তৈরি করেন গানের দল। দলের নাম ছিল দ্য ওয়েইলার্স ব্যান্ড। পরবর্তীতে যা বিশ্ব বিখ্যাত হয়। দলের সদস্য ছিলেন বব মার্লে, পিটার টশ ও বানি ওয়েইলারসহ আরো কয়েকজন। মঞ্চভীতি কাটানোর জন্য স্কুলে পড়ার সময়ই তারা মাঝ রাতে কবরস্থানে রিহার্সাল করতেন।

১৯৬০ সালের  মাঝামাঝি থেকেই ওয়েইলার্সের অ্যালবাম বেরোতে থাকে।  তবে বব মার্লে দুনিয়াজুড়ে পরিচিতি পান  ১৯৭৩ সালে। ‘ ক্যাচ আ ফায়ার ’ ও ‘বার্নিং’ শিরোনামের জোড়া অ্যালবাম প্রকাশের পরই তিনি রাতারাতি  পৃথিবী বিখ্যাত শিল্পী হয়ে যান। এরপর  ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অনেক কনসার্টে গান গেয়েছেন তিনি ও তার দল। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি আসতে থাকে তার। সাদাদের সমাজে দাপটের সঙ্গে আসন গেড়েছিলেন বব মার্লে। জ্যামাইকান রেগে, স্পা ইত্যাদি লোকছন্দের ধারার গান দিয়ে তিনি বিশ্ব জয় করেন। উন্নত বিশ্ব মানে পশ্চিমাদের কালোদের ওপর শোষণ-নিপীড়নের কথা বলেছেন তিনি পশ্চিমে অবস্থান করেই।

বব মার্লে রাসটাফারি ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। রাসটাফারি হলো আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি সহজিয়া মতাদর্শ।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া

ছবিঃ গুগল