আইসিসির কড়া নজরে ঢাকার পিচ

আহসান শামীম

আইসিসির পিচ নিয়ে মোট ছয় ধরনের রেটিং আছে ১. ভেরি গুড (খুব ভালো), ২. গুড (ভালো), ৩. অ্যাভারেজ (গড়পড়তা), ৪. বিলো অ্যাভারেজ (গড়পড়তার চেয়ে খারাপ), ৫. পুওর (খারাপ), ৬. আনফিট (খেলার অযোগ্য)। আর এভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মোট ৫ ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হবে সেই ভেন্যু।

সদ্য সমাপ্ত চট্টগ্রাম টেষ্টের পর পীচ নিয়ে লঙ্কান হেড কোচ হাথুরাসিংহের  অভিযোগের তীর ছিল পীচের ঝাড়ু ব্যাবহার নিয়ে। তদন্ত শেষে হাথুরার অভিযোগ ধোপে টেকেনি।আইসিসির রেটিং এ চট্টগ্রামের পীচ গড়পড়তার চেয়ে খারাপ । সেই সঙ্গে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের নামের পাশে যোগ হয়েছে এক ডিমেরিট পয়েন্ট।

আজ মঙ্গলবার আইসিসির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রামের পিচ নিয়ে ম্যাচ রেফারি ডেভিড বুন বলেন, ‘ফাস্ট বোলাররা নতুন বলে পিচ থেকে কোনো সিম মুভমেন্ট পায়নি, ছিল না তেমন বাউন্সও। স্পিনাররা পিচ থেকে মাঝে মাঝে টার্ন পায়,  যতটা আশা করা হচ্ছিল ম্যাচের অগ্রগতির সঙ্গে তেমনটা দেখা যায়নি। পুরো পাঁচ দিন ব্যাটসম্যানরা বেশি সুবিধা পেয়েছে।’ এর আগে আইসিসির রেটিং এ মিরপুর স্টেডিয়ামেরও ১ ডিমেরিট পয়েন্ট কাটা হয়।

মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার বক্সিং ডে টেস্টের উইকেটকে আইসিসি ‘বাজে’ ঘোষণা করেছিল। বোলারদের জন্য এমসিজির উইকেটে কিছুই ছিল না। ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির পর স্মিথ ও শন মার্শের ফিফটিতে ৩২৭ রান তুলে অল আউট হয় অস্ট্রেলিয়া।ওয়ার্নারের আশি ছাড়ানো ইনিংসের পর স্মিথের ব্যাট থেকে আসে ১০২ রানের ইনিংস। ড্র’র জন্য খেলতে গিয়ে ১৬৬ বল খেলে মাত্র ২৬ রান করেন মিচেল মার্শ। পরে ম্যাচটা ফলাফল শুন্য ড্র হয়। আইসিসি পরে এমসিজির উইকেটকে অতিরিক্ত ব্যাটিং সহায়ক ঘোষণা দেয়।

কিছুদিন আগে চলমান ভারত -দক্ষিন আফ্রিকার এক মাস বাদেই ভিন্ন কারনে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ান টেস্টের উইকেটকে ‘বাজে’ স্বীকৃতি দেয় আইসিসি। অতিরিক্ত বোলিং সহায়ক উইকেট নয়, ব্যাটসম্যানদের জন্য উইকেট কে মৃত্যুকূপ ঘোষণা করা হয়।

টেস্ট ক্রিকেটের উইকেট  মৌসুমের শুরুতেই আইসিসিকে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে। ভাল টেস্ট উইকেট কিভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব, এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক অজি অধিনায়ক ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান চ্যাপেল জানান,কিউরেটরদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিলেই উইকেট বিতর্ক কমে আসবে, এমন দাবী করছেন এই ক্রিকেট পণ্ডিত। ক্রিকইনফোর কলামে তিনি লিখেছেন, ‘উইকেট তৈরির বিষয়টা একদমই কিউরেটরদের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। কোন কোচ, অধিনায়ক বা প্রশাসনিক কারও হস্তক্ষেপ করা উচিত না। একজন ভালো কিউরেটর একজন দক্ষ ক্রিকেটারের মতন, তিনি জানেন কেমন উইকেট ভালো ক্রিকেটের জন্য উপযোগী।’

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে লঙ্কানদের বিপক্ষে টাইগারদের শেষ টেষ্ট । প্রধান পীচ কিউরেটারের দায়িত্বে আছেন, ত্রিদেশীয় সিরিজ ফাইনালে পিচ ফিংক্সিয়ে অভিযুক্ত  শ্রীলঙ্কান বংশভুক্ত গামিনি ডি সিলভা।যার পরিচর্যায় সদ্য নতুন করে রক্ষনাবেক্ষন করা মিরপুর স্টেডিয়াম সবুজ ঘাষ প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি।তারপরও বিসিবি সভাপতি সিলভার প্রতি আস্থা রাখতে চান। আইসিসির রেটিংয়ে চট্টগ্রাম আর মিরপুর মাঠ কড়া সর্তক সংকেতে রয়েছে।যে কোন ভুলেই এই মাঠ থেকে আন্তজার্তিক ক্রিকেট ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারে।

ছবিঃ গুগল