আমাদের রফিক ভাই

পরিমল মজুমদার

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

রফিক ভাই। তার সঙ্গে আমার পরিচয়, রংপুরের বহুল পরিচিত ‘পত্রিকা বিপনী’ নামের দোকানে। মাসুদ রানা সিরিজের পুরোনো বই ‘মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা’ কিনতে যেয়ে। এরপর যখন রংপুরে গেছি, তখন উনার দোকান থেকে পত্র-পত্রিকা কিনেছি।

তখন সেবা প্রকাশনীর ওয়েস্টার্ণ বইয়ের ভক্ত। রফিক ভাই তখন ওয়েস্টার্ণ গল্পের ‘ক্যারেক্টার’ অনুসরণ করেন। আমাকে একদিন বললেন- ‘তোকে বিফ স্টু খাওয়াবো’। আমিও জোশে আছি, সেলুনে বসে বিয়ার আর স্টু খাবো- এরকম একটা ভাব। রফিক ভাই বাসায় নিয়ে গেলেন। ভাবী অবাঙ্গালী, তার হাতের রান্নার অপুর্ব স্বাদ।

এরপর রংপুরে সাংবাদিকতা শুরু করলাম। রফিক ভায়ের সঙ্গে সম্পর্কটা আরো গাঢ় হলো। বিপদে-আপদে রফিক ভাই টাকা দিতেন। তারপর সেটা সার্কুলেশন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করতেন। কারন, তখন ভোরের কাগজে নিয়মিত বেতন হতো না।

সেই রফিক ভাই পালিয়ে আমেরিকা পারি দিয়েছেন, ছেলের কাছে। কারন হিসেবে জানালেন, হকাররা তার বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে দেয়ায় তিনি পত্রিকা অফিসে নিয়মিত টাকা শোধ করতে পারছিলেন না। বকেয়া পড়ে যায় অনেক টাকা। এক পর্যায়ে একটি পত্রিকা তাকে উকিল নোটিশ পাঠায়, মামলা করে।

আজ সন্ধ্যায় রফিকভাই আমাকে আমেরিকা থেকে ফোন করেছিলেন। বুক খালি করা, মন খরাপ করা সব কথা বললেন।

রংপুরে এখন অনেক পত্রিকা এজেন্ট। কিন্তু রফিক ভাইরা যে সময় পত্রিকা বেচতেন, যোগাযোগ ব্যাবস্থা তখন এতো ভালো ছিলো না। একদিন পর আসতো খবরের কাগজগুলো।
তার হাত দিয়ে খবর পৌঁছে যেতো হাজার হাজার মানুষের কাছে।

পত্রিকাওয়ালারা এখন বড় অমানবিক। তারা ব্যাপক মুনাফা খোঁজেন। তাই রফিক ভাইরা হারিয়ে যায় কালের গর্ভে।