হারানো পান্ডুলিপি

ঘটনার সময়কাল ১৯৪০ সাল। হিটলারের আগ্রাসী সেনাবাহিনী কড়া নাড়ছে প্যারিসের দরজায়। আরো অনেকের মতো বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক, প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক ওয়াল্টার বেনজামিন পালাচ্ছেন দেশ ছেড়ে। তার সঙ্গে একটি ভারী কালো সুটকেস ভর্তি অসমান্ত পান্ডুলিপি।ফ্রান্সের মার্সেই বন্দর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বেঞ্জামিন একদল শরনার্থীর সঙ্গে রওনা হন স্টেনের সীমান্তের দিকে। কিন্তু স্পেন সীমান্ত হয়ে পালাতে ব্যর্থ হলেন বেঞ্জামিন। সেখানকার কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানিয়ে দিলো তাঁর পালানোর খবর জার্মানরা জেনে গেছে। তাকে ফিরে যেতে হবে জার্মানীতেই। বেঞ্জামিন মেনে নিতে পারলেন না এই দুঃসংবাদ। সেই রাতেই তিনি ৩১ টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্নহত্যা করলেন। তাঁর মৃত্যুর পর আর কোনোদিন-ই খুঁজে পাওয়া গেলো না সেই কালো সুটকেসটি যাতে ছিলো তাঁর অপ্রকাশিত লেখার পান্ডুলিপি।
রুশ কথাশিল্পী নিকোলাই গোগলের লেখা ‘ডেড সোল’ উপন্যাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় খন্ড লেখক নিজের হাতেই পুড়িয়ে ফেলেছিলেন অজ্ঞাত কারণে। একই ভাবে আমেরিকান কবি সিলভিয়া প্লাথের লেখা উপন্যাস ‘ডাবল এক্সপোজার’-এর পান্ডুলিপি আর কোনোদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। লর্ড বায়রনের আত্নজীবনীর পান্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেছিল তাঁর আত্নীয়রাই। ট্রেন থেকে চুরি হয়ে গিয়েছিল আর্নেস্ট হেমিংওয়ের প্রথম জীবনের বেশ কয়েকটি পান্ডুলিপিসহ একটি সুটকেস।এই পান্ডুলিপিগুলো আর কখনোই পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখেনি।
খ্যাতিমান লেখকদের এরকম নিখোঁজ অথবা নষ্ট হওয়া পান্ডুলিপির গল্প কিন্তু হাতে গোনা কয়েকটি নয়। সাহিত্যের আলোচকরা মনে করেন একটি ছাপা হওয়া বইয়ের চাইতে পান্ডলিপি অনেক বেশী মূল্যবান। কারণ তাতে লেখকের প্রকৃত আত্না প্রকাশিত হয়। তাই একটি বইয়ের পান্ডুলিপি যখন হারিয়ে যায় তখন পাঠক বঞ্চিত হন লেখকের বই মুদ্রণের গোটা প্রক্রিয়া এবং লেখার সময়কাল থেকে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দি গার্ডিয়ান
ছবিঃ গুগল