এ কেমন সূচনা টাইগার ব্যাটসম্যানদের

আহসান শামীম

মুলত স্পিনবান্ধব উইকেটে , হাথুরো বাহিনীর উপর দিয়ে  রাজ্জাক আর তাইজুলের স্পিন ঘূর্নি,আর মুস্তাফিজের পেস আ্যটাকে ২২২ রানে ইনিংস শেষ করেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। চট্রগ্রাম টেষ্টটা শুঘুই ছিল বোলারদের ঘাম ঝরানোর ম্যাচ, আর ঢাকার টেষ্ট পিচ ব্যাটসম্যানদের মৃত্যুকূপ। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত  মোটেও সাদা পোষাকের ব্যাটসম্যানদের ছিলো না। আর শুরুটা টাইগারদের জন্য হলেও শেষটা ছিল লঙ্কানদের দখলে।

১৯৬৪ সালের পর লঙ্কানদের বিপক্ষে টসে হেরে টাইগাররা, প্রথম কোনো টেস্টে দুই প্রান্ত থেকে স্পিনারদের দিয়ে বোলিং শুরু করে। ১৯৬৪ সালে সর্বপ্রথম এমন ঘটনা ঘটেছিল ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচে।

প্রথম ওভার এক প্রান্ত থেকে শুরু করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এরপরের ওভার করেন অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। আর এর মাঝ দিয়েই বাংলাদেশ নাম লিখালো নতুন রেকর্ডের খাতায়।

দীর্ঘ ৪ বছর ৪ দিন পর জাতীয় দলের হয়ে টেস্টে বোলিং করলেন রাজ্জাক। সুযোগটা  কাজে লাগাতে ভুল করেননি এই অভিজ্ঞ বাঁ হাতি স্পিনার। নিজের তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে উইকেটের দেখা পান রাজ্জাক। টেস্ট খেলতে নামা এই স্পিনারকে সামনে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিং হয়ে বিদায় নেন দিমুথ করুনারত্নে দলীয় ১৪ রানের মাথায়।এরপরই তাইজুলে পরাস্ত ধনঞ্জয়া দলীয় ৭০ রানের মাথায়।দীর্ঘদিন হাথুরাসিংহের অপছন্দের কারনে জাতীয় দলের বাইরে থাকা রাজ্জাক ,ষষ্ট ওভারে  জোড়া আঘাত হানেন। ধানুস্কা গুনাথিলাকাকে ফেরানোর পর দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে অধিনায়ক দীনেশ চান্দিমালকে শূন্য রানে বিদায় করেন তিনি। লঙ্কানরা ১০৫/৪ রানে মধ্যাহ্ন ভোজে যান।অবশ্য লাইন লেন্থ ঠিক রেখে বোলিং ব্যার্থতার সুযোগে দ্রুত রান তোলেন লঙ্কান ব্যাটাররা।কুশল মেন্ডিস মাত্র ৮২ বলে  ব্যাক্তিগত অর্ধশত রান।

মধ্যাহ্ন ভোজের পর ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ইতিবাচক মনোভাবে ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দেন লঙ্কার ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিস।অবশ্য পরের বলেই রাজ্জাকের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন কুশল মেন্ডিস ৬৮ রানে । এরপরের ওভারেই,  তাইজুলের প্রথম বলের আঘাত নতুন ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকওয়েলাকে মাত্র ১ রানে বোল্ড আউট করে সাজঘরে ফেরন।এসময় ৪১ ওভারে লঙ্কানদের সংগ্রহ ১৪৩/৬। ৪২ তম ওভারে মুস্তাফিজের বল স্লিপে দিলরুয়ান পেরেরার উইকেট সাব্বিরের হাত ফসকে পরে যায়।সাব্বিরের ব্যার্থতায়,লঙ্কানরা সপ্তম উইকেটের পতন থেকে রক্ষা পান।

এরপর দলকে বিপদ থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন দিলরুয়ান পেরেরা আর রোশেন সিলভা। সপ্তম উইকেট জুটিতে  দুজন মিলে যোগ করেন ৫২ রান। ২৯ রানে ব্যাট করতে থাকা দিলরুয়ান পেরেরাকে বিদায় করে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম।তাইজুলের এটা তৃতীয় উইকেট।লঙ্কানদের  দলীয় রান তখন ৪৯ ওভারে ১৬৫/৭।

স্পিনারদের টেক্কা দিয়ে আকিলা ধনঞ্জয়া এবং রোশেন সিলভা বড় জুটির পথে এগুতে থাকেন। সাব্বিরের হাত ফসকে  উইকেট না পাওয়ার আফসোস মোস্তাফিজুর, চা বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে আকিলা ধনঞ্জয়া এবং রোশেন সিলভা দুইজনের ৪৩ রানের জুটি ভাঙ্গেন।৫৭.১ ওভারে, ৮ উইকেটে ২০৫ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় সফরকারীরা।চা বিরতির পর ব্যাট করতে নেমেই উইকেট হারান লঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ, ব্যক্তিগত ২ রানের মাথায় মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাঝঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।দলীয় ২২২ রানে তাইজুলের বলে লঙ্কান ইনিংসে ইতিঘটে।

২২২ রান তাড়া করতে নেমে ৩ বলে ৪ রান করা লাকমলের বলে ইমরুলের ডাকে রান নিতে গিয়ে , অলস মুমিনুল কিছু বোঝার আগেই সাজঘরে ফেরেন।ঢাকা টেস্টে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে স্পিন বিষ কি তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে হাতুরুর লঙ্কা বাহিনী।  মিরপুরের উইকেটে ভেল্কি দেখাচ্ছেন লঙ্কান পেসার সুরুাঙ্গা লাকমাল। লঙ্কান পেসারের তোপে তিন উইকেট হারিয়ে অনেকটা ব্যাকফুটে চলে গেছে বাংলাদেশ।ব্যক্তিগত শূন্য রানে দিলরুয়ান পেরেরার বলে জীবন পান মুশফিক। উইকেট রক্ষক নিরোশান ডিকওয়েলা আর শর্ট লেগ ফিল্ডারের ভুল বোঝাবুঝিতে মুশফিকের ক্যাচ হাত থেকে ফেলে দেন ডিকওয়েলা।দ্বিতীয় জীবন পেয়ে সেটাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন মুশফিক। মাত্র এক রানে পেসার লাকমালের ভেতরে আসা একটা বলকে ছাড়তে গিয়ে বোল্ড আউট হয়ে বিদায় নেন তিনি।

৩ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশকে টেনে তুলার জন্য চেস্টা করেছেন লিটন দাস আর ইমরুল কায়েস।  দিনের শেষ বেলায়  দিলরুয়ান পেরেরার কাছে উইকেট বিলিয়ে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। ইমরুলের বিদায়ে মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ,দিন শেষ করেন লিটন। দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেট হারিয়ে ৫৬ রান। সফরকারীদের চেয়ে এখনও ১৬৬ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

এর আগে টেস্টে রাজ্জাকের সেরা বোলিং ফিগার ছিলো ৯৩ রানে ৩ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৮ সালে চিটাগাংয়ে এই উইকেট পেয়েছিলেন এই বাঁ হাতি অভিজ্ঞ স্পিনার।

শ্রীলংকাঃ ২২২ (৬৫.৩ ওভার) ( কুশল মেন্ডিস ৬৪, রোশেন সিলভা ৫৬) আব্দুর রাজ্জাক ৪/৬৩, তাইজুল ইসলাম ৪/৮৩, মুস্তাফিজুর রহমান ২/১৭।

বাংলাদেশঃ ৫৬/৪ (২২ ওভার) (লিটন ২৪* মিরাজ ৫*) লাকমাল ২/১৫, দিলরুয়ান পেরেরা ১/২৫।

 ছবিঃ ইএসপিএন