লঙ্কানদের নিয়ন্ত্রনে ঢাকা টেষ্ট

আহসান শামীম

লঙ্কানদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে ঢাকা টেষ্ট।টানা চার ইনিংসে ফিফটি হাঁকানো লঙ্কান ডানহাতি ব্যাটসম্যান রোশেন সিলভা যেন একাই সাদা পোষাকের টাইগারদের দুঃস্বপ্নের কারন, আর পেসার লাকমল হলেন আতঙ্কের নাম।টেষ্টের প্রথম দিনে স্পিন আর দ্বিতীয় দিনে মাঠ শাসন করেছেন পেসের সাথে স্পিন।দ্বিতীয় দিন শেষে টাইগারদের চেয়ে ৩১২ রানে এগিয়ে লঙ্কানরা।হাতে এখনও দুই উইকেট।তৃতীয় দিন প্রথম সেশনেই সম্ভাবত টাইগারা টেষ্ট জয়ের লক্ষ্য পেয়ে যাবেন।ঢাকার পিচে দুইদিনে ২৮ উইকেট তুলে নিয়েছেন দুই দলের বোলাররা।সেই হিসাবে ৩১২ রানই টাইগারদের সামনে এমন উইকেটে পাহাড়সম টার্গেট।অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট, সাদা পোষাকের টাইগারদের এই টেষ্ট জিততে হলে ব্যাট হাতে অকল্পনীয় কোন কিছু করে দেখা হবে।

প্রথম দিনেই ১৪ উইকেট পতন হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে লর্ডসে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় টেস্টে। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবিয়ানরা ১২৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে ৪৬ রান তুলে ৭৭ রান পিছিয়ে থেকে প্রথম দিন শেষ করেছিল। উত্তেজনা ছড়ানো সেই টেস্টে শেষ হাসিটা হেসেছিল স্বাগতিকরাই।লঙ্কানদের বিপক্ষে মিরপুর টেষ্টেও প্রথম মোট উইকেট পড়েছে ১৪টা।প্রথম ইনিংসে সাদা পোষাকের টাইগারদের ৪ উইকেট পড়ে ১৬৬ রানে পিছিয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে। টাইগাররা হয়তো এখান থেকেই কিছুটা উৎসাহ পেতেই পারেন।

এমন এক ইতিবাচক ইতিহাস হাতের সামনে রেখে, দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে নামে ব্যর্থ টাইগার ব্যাটসম্যানরা। প্রথমদিন প্রতিরোধ গড়া লিটন দিনের প্রথম ঘন্টায় , ব্যাক্তিগত ২৫ রানে সুরাঙ্গা লাকমালের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন।এরপর মিরাজ দলীয় অধিনায়ক রিয়াদের সাথে ধীর গতিতে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন।অভিষেক টেষ্টে ধানন্জয়ের অধিনায়ক রিয়াদিকে ১৭ রানে বোল্ড করে প্রথম টেষ্ট উইকেট লাভ করেন। তখন টাইগারদের দলীয় রান ১০৭/৬।একই ওভারের চতুর্থ বলে শূন্য রানে সাব্বিরকে সাজঘরে ফেরান। সৈকতের পরির্বতে নির্বাচক কমিটির প্রধান নান্নুর ইচ্ছায় আর অধিনায়ক রিয়াদের অপত্তির পরও সাব্বিরকে মুল একাদশে খেলান টিম ম্যানেজমেন্ট। এরকম ব্যাটিং ধ্বসের মাঝে মিরাজই টাইগারদের কান্ডারী হন।রিয়াদ, সাব্বিরকে সাজঘরে ফেরান ধানন্জয় পরের ওভারে বল করতে এসেই রাজ্জাকে আউট করেন।দলীয় রান তখন ১০৯/৮।ধানন্জয় বলে একই ওভারে কুশুল মেন্ডিসের থ্রো তে রান আউট হন তাইজুল দলীয় ১১০ রানের মাথায়।পরের ওভারে পেরেরা বল হাতে প্রথম বলেই মুস্তাফিজকে সাজঘরে। মাত্র ২০ বলে ৩ রানে সাদা পোষাকের টাইগাররা ৫ উইকেট বির্সজন দিয়ে আসেন।একমাত্র মিরাজ ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন।উল্লেখ্য প্রথম ইনিংসে লঙ্কানরা ১১০/৬ উইকেট থেকে ২২২ রান করেন। মধ্যাহ্ন ভোজের আগেই, প্রথম ইনিংসে ১১২ রানের বিশাল লিড নেয় লঙ্কানরা।

সুযোগ পেয়ে বড় লিডের পথে এগুতে থাকে লঙ্কানরা।ধীরগতির শুরু লঙ্কান দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ রান করা কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরান রাজ্জাক।উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই ধনন্জয়া ডি সিলভাকে ২৮ রানে সাজঘরে পাঠান তাইজুল।চা বিরতির আগেই গুনাথিলাকা বিদায় হন পেসার মুস্তাফিজের বলে।চা বিরতির পর দুর্দান্ত খেলতে থাকা করুনারত্নেকে মেহেদি মিরাজের বলে ইমরুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।দ্বিতীয় ইনিংসে লঙ্কানদের দলীয় রান তখন ১০৪/৪।

শ্রীলংকার লিড ৩০০ হওয়ার আগেই ডিকওয়েলকে ব্যাক্তিগত ১০ রানে অধিনায়ক রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় করেন তাইজুল।কার্টার মাষ্টার মুস্তাফিজের দুর্দান্ত দুই ডেলিভারীতে লঙ্কান দুই ব্যাটসম্যান দিলরুয়ান পেরেরা আর আকিল ধনন্জয়াকে পর পর দুই বলে সাজঘরে পাঠিয়ে হ্যাট্রিকের সুযোগ তৈরী করেন।হ্যাট্রক বলে স্লিপে ফিল্ডিং করা সাব্বির ক্যাচ ড্রপ করলে, মুস্তাফিজ বন্চিত হন হ্যাট্রিক থেকে।

শ্রীলংকা প্রথম ইনিংসঃ ২২২ অল আউট।

বাংলাদেশঃ ১১০ (৪৫.৫ ওভার) শ্রীলংকা দ্বিতীয় ইনিংসঃ ২০০/৮ (৬২ ওভার)

ছবিঃ ইএসপিএন