শুভ জন্মদিন কবি রফিক আজাদ

ফাল্গুনের হাওয়া যাকে খুঁজে ফেরে তিনিই তো কবি।শীতের খোলস সরিয়ে জেগে ওঠা প্রকৃতির মতো বারবার জেগে ওঠেন কবি। অনাদিকাল ধরে বয়ে যান সুন্দরের দিকে চোখ রেখে। আজ পহেলা ফাল্গুন, আজ কবি রফিক আজাদের জন্মদিন। যিনি লিখেছেন ‘অসম্ভবের পায়ে’, ‘সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে’, ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’ সহ আরো অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ। আর সেখানে নক্ষত্রপুঞ্জের মতো ফুটে উঠেছে অসাধারণ সব কবিতা।

বাংলা ভাষায় ষাটের দশকের এই উজ্জ্বলতম কবি রফিক আজাদের জন্মদিনে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে জানাই ভালোবাসা।

রফিক আজাদ ১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার  গুনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সলিম উদ্দিন খান ছিলেন একজন প্রকৃত সমাজসেবক এবং মা রাবেয়া খান গৃহিণী। দুই ভাই-এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।

সাধুটী মিডল ইংলিশ স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করে কবি ভর্তি হন কালিহাতি রামগতি শ্রীগোবিন্দ হাই ইংলিশ স্কুলের নবম শ্রেণিতে। বাড়ি থেকে প্রায় তিন-চার মাইল দূরত্বে স্কুল। কালিহাতি সংলগ্ন গ্রাম হামিদপুরের এক দরিদ্র গেরস্থের বাড়িতে পেইং গেস্ট হিসেবে থেকে তিনি পড়াশোনা করেন। হামিদপুরে আগের মতো আর সেই বিধিনিষেধ নেই। কালিহাতি হাই স্কুলে পড়ার সময় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে সতীর্থ মাঈন উদ্দিন আহমদের সঙ্গে। সে ছিল ক্লাসের ফার্স্ট বয় এবং অত্যন্ত মেধাবী। সাহিত্যপাঠে আগ্রহ ছিল তার। এই মাঈনই রফিক আজাদের সাহিত্য পাঠের গুরু বলা যেতে পারে। তার মুখেই প্রথম তিনি কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম শোনেন।  দিবারাত্রির কাব্য, পুতুল নাচের ইতিকথা,পদ্মানদীর মাঝি প্রভৃতি উপন্যাসের সঙ্গে পরিচিত হন। মাঈন একদিন সন্ধ্যাবেলা ফটিকজানি নদীর তীর ঘেঁষা ডাকবাংলোর বারান্দায় বসে রবীন্দ্রনাথের ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতাটি পুরো আবৃত্তি করে শুনিয়েছিল তাকে। সেই কবিতা শুনে স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে পড়েছিলেন কিশোর রফিক আজাদ। অবাধ স্বাধীনতা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় পড়ে নবম শ্রেণিতে ভালোভাবে পাস করতে পারলেন না আড্ডাপ্রিয় রফিক আজাদ। মাঈনও প্রথম থেকে তৃতীয় স্থানে চলে আসে। আড্ডার অন্য বন্ধুদের অনেকেই একাধিক বিষয়ে ফেল করে বসল। অবশেষে ব্রাহ্মণশাসন হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেন।

রফিক আজাদ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। টাঙ্গাইল জেলায় কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বিশাল মুক্তিবাহিনীতে তিনি যোগ দেন এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নেন।

১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর  ডিগ্রি নিয়ে শুরু করেছিলেন শিক্ষকতা। মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলা একাডেমিতে যোগ দিয়ে একাডেমি প্রকাশিত পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’র নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে ১৯৭২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সাপ্তাহিক রোববার সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। কাজ করেছেন বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন, উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে।

রফিক আজাদের জনপ্রিয় অনেক কবিতার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হল ‘ভাত দে হারামজাদা’। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে তার এই কবিতা।ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তাকে একুশে পদক দেওয়া হয়। ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের পর সাহিত্য কর্মের জন্য আরও অনেক স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।

কবি রফিক আজাদ ২০১৬ সালের ১২ মার্চ পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ গুগল