ফাগুনের আগুন লাগা ভোরে, বসু’কে মনে পড়ে…..

নজরুল কবির

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ফাগুনের আগুন রাঙা ভোর ছিলো সেটা। স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে প্রবল ছাত্র-গণ আন্দোলন। সালটা ১৯৮৫। মায়োকার্ডিয়ার প্রতিটি স্পন্দন যেন স্বৈরাচারের পতনাকাঙ্ক্ষী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহসীন হলের সামনে মাঠের ঘাস থেকে শিশিরের আবীর তখনো মুছে যায় নি ফাগুন রোদে।পুব আকাশের রক্তিম আভা যখন ধীরে ধীরে আকাশ নীলের সঙ্গে সখ্য বাড়াচ্ছিল, তখনো আমাদের জানা ছিলো না স্বৈরাচারের বুলেট শিস দিচ্ছে। আমরা তো তখনো দোয়েলের শিষের সুরে গেঁথে চলেছি আমাদের স্বপ্নের সরগম।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝাকে ঝাকে স্বপ্ন বাবুই যখন শ্লোগানে শ্লোগানে রচনা করছে স্বৈরাচারের পতনসূত্র, আর ঠিক তখনি ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখ, আন্দোলনের তীরন্দাজ, ‘ঝাঁকড়া চুলের বাবড়ি দোলানো মহান’ বন্ধু রাউফুন বসুনিয়ার আটচল্লিশ ইঞ্চি বুকের জমিন ভেদ করে যায় স্বৈরাচারের বুলেট। বসু’র বুক নয়, যেন আন্দোলনের শরীরই ভেদ করে যায়!
আরো পাঁচ ফাগুন পার হওয়ার পর স্বৈরাচারের ক্ষমতার পালাবদল হয়।
আজ ৩১ তম ফাগুনে এসে বসু’ তোমাকে মনে পড়ে যায় বার বার।
এখন যেন সবখানেই স্বৈরাচারের ‘কথিত গণতান্ত্রিক’ জার্সি পরা মুখ।
আত্মগ্লানিতেই কুকড়ে যাই!
আজো এই শহরে সেই স্বৈরাচার গণতন্ত্র(?!) শেখায় আমাদের। আর তোমার আদর্শের দল হয় তার সতীর্থ। অন্যদিকে তোমার সহয়াত্র্রীরাও এখন সংগ্রাম ভুলে, চেতনাকে চিৎ করে ফেলে স্বপ্নের পাঁজর দুমড়ে মুচড়ে হেঁটে যায়!
তোমার প্রিয় ক্যাম্পাসে এখন আর পলাশ ফোটে না, সেখানে এখন ফাষ্টফুডের দোকানের নিলাম হয় কোটি টাকায়!
সামাজিক বৈষম্যের চাষ হয় এখন এখানে।
আমি আর কাঁঠাল চাপার গন্ধ পাই না লাইব্রেরীর সামনে।
আমার দম বন্ধ হয়ে আসে, আসছে….
আরেকটা ফাগুনের আগুন লাগা ভোরের ডাক দাও না তুমি…..
আমিও পায়ে পা মেলাই….ফিরে আসি তোমার কাছে…..
তাহলেই আসছে ফাগুনে দ্বিগুন হবো……….

ছবি : লেখকের ফেইসবুক থেকে