সখী ভালোবাসা কারে কয়…

বচ্চন গিরি

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোনও দিন হয়না| সুখ – দুঃখ, হাসি – কান্না নিয়েই প্রতিটা দিন কাটে| এই পৃথিবীর বুকে প্রতিটা দিনই ভালোবাসার সেতুতে ভর করে বেঁচে থাকে মানুষ|

সেই ছোটবেলায় প্রাইমারী স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে পড়ার সময় আমার যে বন্ধুটি পাশে আসন নিয়ে বসে মারপিট করেছিল পেন্সিলের জন্য তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে খুব কাছের হয়ে গেল, সেই মেয়েটিই আমার ‘ভালোবাসা’|

যেদিন প্রথম আমার বাবা নতুন একটা স্কুল ব্যাগ দিয়ে বলেছিল “এটাই তোমার জীবনের সবকিছু| এখানে তুমি খুঁজে পাবে অনেক বই আর সেই বই তোমায় একদিন পথ দেখাবে জীবনে বড় হওয়ার| বইকে ভালোবাসতে হয়, পড়তে হয়| শুধু বই পড়লেই হবেনা জীবন থেকেও তোমাকে শিক্ষা নিতে হবে নইলে মানুষ হওয়া যায়না জীবনে|” সেদিন খুব বিরক্ত লেগেছিল মনে মনে| কিন্তু বড় হয়ে বুঝলাম বাবা ভুল বলেনি সেদিন| সেটাই আমার কাছে ভালোবাসা|

বেশ মনে পড়ে ক্লাস ইলেভেনে একটা মেয়ে আমাকে বলেছিল “জানিস তাতাই তোকে আমার ভালোবন্ধু করতে চাই| কিন্তু বলতে পারছিলাম না যদি তুই রাগ করিস|” আমি বলেছিলাম আমরা তো ভালো বন্ধু আছিই| সে বলেছিল ” সেরকম নইরে| আমি চাই আমার সব কথা তোকে বলতে, তুইও তোর সব জমানো কথা আমাকে বলবি| এরকম বন্ধু হতে চাই|” বন্ধু হয়েছিলাম খুব কাছের| সেই বন্ধুত্ব আজও অটুট| পড়াশোনার জন্য আজ সে দিল্লিতে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে তবু প্রতিদিন সময় করে খোঁজ নেয় আমি কাজ থাকে ফিরেছি কিনা, আমি সময়ে খেয়েছি কিনা, আমি আমার মা কে ফোন করেছি কিনা| বছরে একবার দেখা হয় পুজোর সময়| তবু জোর গলায় বলবো সেই আমার ভালোবাসা|

কলেজে পড়াকালীন একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল| একই ক্লাস, একই সাবজেক্ট ছিল আমাদের| ছেলেটির নাম সাহিল মহম্মদ| কলেজ জীবনে একসঙ্গে প্রতিদিন বসতাম ক্লাসরুম থেকে সিগারেটের আড্ডায়| তারপর দীর্ঘদিন দেখা নেই| গতবছর ‘সোনালী সকাল’ পত্রিকার পিকনিকে শান্তিনিকেতনে যাওয়ার সময় বাঁকুড়া জেলার ঝিলিমিলিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমার গাড়িটি এক্সিডেন্ট করে| তারপর আর কিছু মনে ছিলোনা| যখন জ্ঞান ঘুরলো দেখলাম আমি বাঁকুড়া জেলার একটি নার্সিংহোমের বেডে শুয়ে রয়েছি| প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল| রক্ত দিয়ে আমাকে বাঁচিয়েছিল আমার সেই কলেজের বন্ধু সাহিল মহম্মদ| সেই বন্ধুটিই আমার ভালোবাসা|

ফুটপাত ধরে আনমনা হাঁটছিলাম হঠাৎ একটি বাচ্চা ছেলে এসে পা জড়িয়ে ধরে ২ টাকা চেয়েছিল খাবার খাবে বলে| আমি সেদিন টাকা দিইনি কারণ বিশ্বাস করতে পারিনি| সবাই বলে ওরা ডেনড্রাইট খায় তাই দোকানে নিয়ে গিয়ে একটি পাউরুটি কিনে দিয়েছিলাম| ছেলেটার মুখটাও মনে ছিলোনা| হঠাৎ কিছুদিন পর একই পথে ফিরছিলাম আমার বাইকের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় রাত্রিতে খুব সমস্যায় পড়েছিলাম| তখন যে ছেলেটি পয়সা নিয়ে ১ কি.মি দূরে দৌড়ে গিয়ে এক বোতল তেল কিনে এনে দিয়ে বলেছিল “দাদা সাবধানে যাও…|” উৎসুক হয়ে আমি বলেছিলাম তোর নাম কী? ছেলেটি হেসে বলেছিল “আরে সেদিন বললাম তো ভুলে গেলে| আমি শেখ রাজেশ| এই এখানেইতো থাকি|” সেই ছেলেটিই আমার ভালোবাসা|

জীবনে কখনো দেখা হয়নি আজ পর্যন্ত শুধুমাত্র ফেসবুকেই পরিচয়| তারপর বন্ধুত্ব তবু প্রায় চারশো (৪০০) কি.মি দূরে থেকেও যে মেয়েটি সকাল – সন্ধ্যা ফোন করে খোঁজ নেয় “কেমন আছিস? খেয়েছিস কিছু?” সেই আমার ‘ভ্যালেন্টাইন’|

পুনশ্চঃ -ভালোবাসার কোনও দিন হয়না|

❤❤

ছবি: গুগল